Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

মানুষকে আত্মগোপনে থাকতে সাহায্য করে যেসব কোম্পানি

মানুষকে আত্মগোপনে থাকতে সাহায্য করে যেসব কোম্পানি
ফাইল ছবি

সারাবিশ্বে কিছু কিছু মানুষ আছে যারা তাদের নিজের জীবন থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। বাড়িঘর, চাকরি এবং পরিবার থেকেও তারা এমনভাবে উধাও হয়ে যায় যাতে কেউ তাদের খুঁজে বের করতে না পারে। এর পর তারা শুরু করে নতুন জীবন। জাপানে এ ধরনের লোকজনকে অভিহিত করা হয় ‘জুহাতসু’ আর এ কাজকে বলা হয় ‘রাতে সরে যাওয়ার’ সার্ভিস। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ‘জুহাতসু’ হয়ে যাওয়ার গোপন প্রক্রিয়াকেই অনুমোদন করা হয়। এই লোকগুলো কোথায় আছে এবং কী করছে সেসব তারা গোপন রাখেন তারা। এমন খবর দিয়েছে বিবিসি।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাপানি এক বাসিন্দা বলেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আমি অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়ি। এর পর সুটকেস নিয়ে আমি উধাও হয়ে যাই। যা এক ধরনের পালিয়ে যাওয়াও বলতে পারেন। পরিচয় গোপন রাখার জন্য তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

তিনি বলেন, যে ছোট শহরে তিনি ছিলেন তার পরিবারের কারণে সেখানে সবাই তাকে চিনতো। কারণ তাদের ব্যবসা স্থানীয় লোকজনের কাছে বেশ পরিচিত ছিল। পরিবারটি আশা করছিল সে এই ব্যবসার হাল ধরবেন। কিন্তু এই দায়িত্ব নিয়ে তিনি এমন চাপের মধ্যে পড়েন যা তার মধ্যে মানসিক অশান্তি সৃষ্টি হয়। তাই চিরদিনের জন্য ওই শহরে ছেড়ে চলে যান। এভাবে হঠাৎ মিলিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে নানা কারণ, পরিশোধ করার মতো নয় এমন ঋণ থেকে শুরু করে প্রেমহীন বিবাহ।

যেসব লোকজন উধাও হতে চান তাদেরকে গোপনে জীবন থেকে সরে যেতে সাহায্য করে এসব কোম্পানি। এমনকি গোপন স্থানে তাদের থাকারও ব্যবস্থা করে দেয়।

আরেক বাসিন্দা শো হাতোরি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, চাকরি হারানো অথবা কারও কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করে এরকম একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। ৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছিল।

তিনি বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম লোকজন হয়তো শুধু অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণেই তাদের সমস্যা-কবলিত জীবন থেকে পালিয়ে যেতে চাইবে। কিন্তু খুব শীঘ্রই তিনি দেখতে পান যে এর পেছনে আরও কিছু সামাজিক কারণও রয়েছে। মানুষ যাতে আরেকটা দ্বিতীয় জীবন শুরু করতে পারে সে ব্যাপারে সাহায্য করার জন্যই আমরা এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছি।

সমাজবিজ্ঞানী হিরোকি নাকামোরি বলেন, আমি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লোকজনের উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। ষাটের দশকে যারা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেন তাদের ব্যাপারেই প্রথম ‘জুহাতসু’ শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়। জাপানে বিবাহ বিচ্ছেদের হার খুব কম ছিল, এখনও কম। ফলে অনেকেই ডিভোর্সের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে একদিন হঠাৎ করেই তাদের স্বামী বা স্ত্রীকে ছেড়ে চলে যায়।

এছাড়াও পালিয়ে যাওয়া এই ব্যক্তি যদি গোপন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ক্যামেরাতে ধরাও পড়েন, তার পরিবারের সদস্যদের ওই ভিডিও দেখতে দেওয়া হয় না। অন্য কোনও কারণ না থাকলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করবে না- যেমন কোনও অপরাধ বা দুর্ঘটনা। পরিবারগুলো চাইলে হয়তো ব্যক্তিগত গোয়েন্দাদের অর্থ দিয়ে কাজে লাগাতে পারে। অথবা পারে শুধু অপেক্ষা করতে। এর বাইরে কিছু করার নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, আমার ২২-বছর বয়সী এক ছেলে উধাও হয়ে গেছে এবং তার পর থেকে মায়ের সঙ্গে কখনো যোগাযোগ করেনি। ছেলে যেখানে থাকতো তার খোঁজে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। সবখানে খুঁজে দেখেছেন। কিন্তু সে আর ফেরেনি।

তিনি বলেন, পুলিশ তাকে খুব একটা সাহায্য করেনি। পুলিশ তাকে বলেছে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করলেই কেবল পুলিশ এর সাথে জড়িত হতে পারে। বর্তমান আইন অনুসারে, টাকা দিয়ে আমি একটা কাজই করতে পারি। আর তা হলো কোনও মৃতদেহ পাওয়া গেলে সেটি আমার ছেলের কী*না সেটা পরীক্ষা করে দেখা। এছাড়া আর কিছু করার নেই।

অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, আমি কিছু একটা ভুল করেছি। আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের ছোট একটি শহরে ফেলে এসেছি। এক বছরের মধ্যে আমার সন্তানদের দেখিনি। তিনি টোকিওরই একটি আবাসিক এলাকার বাড়িতে আছেন। যে কোম্পানিটি তাকে এই বাড়ি খুঁজে দিয়েছে সেটি পরিচালনা করেন সাইতা নামের এক নারী। তার নামও এখানে গোপন করা হয়েছে। তিনি নিজেও এরকম নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন। ১৭ বছর আগে তিনি উধাও হয়ে যান।

সাইতা বলেন, তিনি এমন একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন যেখানে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এ কারণে তিনি উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। বলেছেন, এক অর্থে আমিও একজন নিখোঁজ ব্যক্তি। আমার নানা ধরনের মক্কেল আছে, পরিবারের ভেতরে বড় ধরনের নির্যাতন হচ্ছে- এরকম পরিবেশ থেকেও লোকেরা পালিয়ে আসছেন। প্রত্যেকের সংগ্রাম আলাদা।

এসএস

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS