Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮

এখনও যেসব গ্রামে মাসিকের সময় নারীদের যেতে হয় কুর্ম ঘরে

মাসিক হলেই নারীদের কুর্ম ঘরে পাঠিয়ে যা করা হয় মহারাষ্ট্রে
কানাল তোলা গ্রামের নারীদের মাসিকের সময় ভাঙাচোরা এই কুঁড়েয় থাকতে বাধ্য করা হয়। সেখানে না আছে কোন দরোজা, না আছে জীবনযাপনের কোন ব্যবস্থা - সংগৃহীত ছবি

প্রতিবেশী দেশ ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই পিরিয়ডের সময় মেয়েদের সামাজিকভাবে একটা নিষেধের আবহে কাটাতে হয়। মাসিকের সময় নারীদের অশুচি বলে বিবেচনা করা হয় এবং তাদের কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়।

তাদের এসময় সামাজিক ও ধর্মীয় সব অনুষ্ঠানে যোগদান নিষিদ্ধ করা হয় এবং মন্দির বা কোন ধর্মীয় সৌধে, এমনকি রান্নাঘরেও ঢুকতে দেয়া হয় না।

তবে ভারতের রাজ্য মহারাষ্ট্রের অন্যতম দরিদ্র ও অনুন্নত একটি জেলা গাডচিরোলির মাদিয়া সম্প্রদায়ের নারীদের মাসিকের সময় সমাজে চরম বিধিনিষেধের মুখে থাকতে হয়, যা সামাজিক বিধিনিষেধের অন্য সব ঘেরাটোপকেও ছাড়িয়ে যায়।

প্রতি মাসের ওই পাঁচদিন প্রথাগত নিয়ম মেনে তাদের থাকতে হয় একটা কুঁড়েঘরে। শুধু তাই নয়, এই কুঁড়েঘরগুলো হয় মূলত গ্রামের একেবারে বাইরে, জঙ্গলের কিনার ঘেঁষে। অর্থাৎ এই সময়টা তাদের ‘একঘরে’ হয়ে থাকতে হয়। এই মাসিক কুঁড়েঘরগুলোকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘কুর্ম ঘর বা গাওকর।’

এ সময় তাদের রান্না করতে দেয়া হয় না। গ্রামের কুয়া থেকে পানি তুলতে দেয়া হয় না। বাসার নারী আত্মীয়দের দেয়া খাবার ও পানি খেয়ে তাদের দিন কাটাতে হয়। যদি কোনো পুরুষ তাদের ছুঁয়ে ফেলে, তাহলে ওই পুরুষকে সঙ্গে সঙ্গেই গোসল করতে হয়, কারণ ওই ‘অপবিত্র’ নারীকে ‘ছুঁয়ে ফেলার কারণে সেও অপবিত্র হয়ে গেছে’ বলে মনে করা হয়।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই নারীদের সাহায্য করতে ভেঙে পড়া কুঁড়েঘরের জায়গায় আধুনিক পাকা ঘর তোলার একটি প্রকল্প শুরু করেছে। সূত্র : বিবিসি

টিএস

RTV Drama
RTVPLUS