Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮

চীনা টিকার অসাধারণ সাফল্য, মৃ'ত্যুহার নেমে গেল ৯৫ শতাংশে

চীনা টিকার অসাধারণ সাফল্য, মৃত্যুহার নেমে গেল ৯৫ শতাংশে
গবেষকরা বলছেন সেরানা শহরের ৭৫% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে টিকা দেবার পর ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে তারা সফল হয়েছেন || সংগৃহীত ছবি

মহামারি করোনায় যে কয়টি দেশের অবস্থা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে তার মধ্যে অন্যতম ব্রাজিল। এক পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্রাজিলের একটি শহরের প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে পুরো ডোজ টিকা দেয়ার পর সেখানে কোভিড-১৯-এ মৃত্যুর হার ৯৫ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ওই শহরের নাম সেরানা। শহরটির বাসিন্দার সংখ্যা ৪৫ হাজার, যাদের চীনে তৈরি করোনাভ্যাক টিকা দেয়া হয়েছে। গবেষক দলটি বলছে, করোনাভাইরাসের উপস্থিতি কমে যাওয়ার কারণে যাদের টিকা হয়নি, তারাও সুরক্ষার আওতায় চলে এসেছে।

এই পরীক্ষার ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, জনগোষ্ঠীর শতকরা ৭৫ ভাগকে পুরো ডোজ টিকা দিতে পারলে মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। করোনা মহামারী ব্রাজিলে এক বিপর্যয়কর রূপ নিয়েছে। দেশটিতে এপর্যন্ত কোভিড-১৯এ মারা গেছে প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার মানুষ।

ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যের দক্ষিণ পূর্বের শহর সেরানাতে এই পরীক্ষা চালানো হয় ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে। পরীক্ষা চালায় ইনস্টিটিউটো বুতানতান, যারা চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক কোম্পানি উদ্ভাবিত টিকা করোনাভ্যাক তৈরি করছে ব্রাজিলে।

যেভাবে চালানো হয় পরীক্ষা

শহরের বাসিন্দাদের ভাগ করা হয় চারটি এলাকার ভিত্তিতে। করোনাভাইরাসের উপস্থিতি বা জীবাণুর পরিমাণ কোন এলাকায় কমছে সেটা নির্ধারণ করতে এই এলাকা ভাগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গবেষক দলটি বলছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেবার পর তিনটি এলাকায় করোনার উপস্থিতি ব্যাপক মাত্রায় কমে গেছে বলে তারা দেখতে পান।

যখন প্রাপ্তবয়স্কদের ৯৫ শতাংশকে পুরো ডোজ টিকা দেয়া হয়ে যায়, তখন যে ফলাফল দেখা যায় :

  • মৃত্যুহার কমেছে ৯৫%
  • হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা কমেছে ৮৬%
  • উপসর্গ আছে এমন রোগী শনাক্তের হার কমেছে ৮০%

বুতানতান সংস্থার গবেষণা পরিচালক রিকার্ডো পালাসিও বলেছেন, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটা হলো ৭৫%। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা বেরিয়ে এসেছে সেটা হলো, গোটা জনগোষ্ঠীকে টিকা না দিয়েও মহামারী নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পালাসিও আরো বলেন, শিশু এবং কিশোরদের মধ্যেও সংক্রমণের হার কমেছে। তাদের টিকা দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এর থেকে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে যে স্কুল আবার খোলার জন্য শিশুদের টিকা দেয়ার প্রয়োজন নেই।

পালাসিও বলছেন, করোনাভাইরাসের যে ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে পি.১ নামে পরিচিত ছিল, যার এখন নতুন পরিচয় গামা নামে, সেই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধেও এই টিকা কার্যকর। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলে অ্যামাজন নদীর তীরের মানাউস শহরে প্রথম এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয় এবং তখন থেকে ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্ট নামে পরিচিত হয়ে ওঠা কোভিডের এই ধরনটিকেই দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ার জন্য দায়ী করা হয়।

সূত্র : বিবিসি

টিএস

RTV Drama
RTVPLUS