Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

ভারতে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হলো কেন?

ভারতে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হলো কেন?
ভারতে করোনার পরিস্থিতি

অতিমারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দিশেহারা ভারত। প্রশ্ন উঠছে ভারতে কেন এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং করোনা আরও বাড়বে কিনা সেটা নিয়ে জনমনেও প্রশ্ন রয়েছে।

ভারতের কোভিড-১৯ ট্রেন্ড ও পরিসংখ্যান বিষয়ক গবেষক ভ্রমর মুখার্জির জানান, প্রথম দিকে অনুমান করা যায়নি। ফেব্রুয়ারি মাঝখান থেকে একটি ট্রেন্ড দেখা দিতে শুরু করে। সেসময় ভ্যাকসিন না নেয়ার এই পরিস্থিতি এখন দাঁড়িয়েছে।

কোভিড-১৯ ট্রেন্ড ও পরিসংখ্যান বিষয়ক গবেষক ভ্রমর মুখার্জি বলেন, বছরের শুরুর দিকে অনুমান করা যায়নি। ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে একটা ট্রেন্ড দেখা দেয়। তখন আমি আমার মা-বাবাকে বলি ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য। কিন্তু তারা বলে আরও কয়েকদিন পরে নেবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক লোক তখন মনে করেছেন করোনাভাইরাস চলে গেছে। এখনই ভ্যাকসিন নেয়ার দরকার নেই। কয়েকদিন পরে নেয়া যাবে। আরও একটু অপেক্ষা করি।

তারপর অনেকে ধরে নিয়েছিলো ভারতে অনেকটাই করোনা জয় করে ফেলেছে। কিন্তু সেটা ভুল ধারণা ছিলো। আমরা ফেব্রুয়ারি থেকে দেখছিলাম পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে না। তখনই আমরা বলেছিলাম ভ্যাকসিনেশন বাড়ানোর জন্য। তখন যদি ভ্যাকসিনের প্রয়োগ বাড়ানো যেত তাহলে এমন পরিস্থিতি হতো না। আর ভ্যাকসিনকে ফোকাস করে ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দিয়ে আজকের এমন পরিস্থিতি থামানো যেত।

ভ্রমর মুখার্জি বলেন, ভারত প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে। শনাক্ত হচ্ছে তিন লাখের ওপরে। তারমধ্যে অনেক অশনাক্তও থেকে যাচ্ছে। যেভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে সেটা মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত থাকবে। এরপর আস্তে আস্তে কমে আসবে। শনাক্ত যদি বেশি হয় তাহলে সেটা নামতে তো একটু সময় লাগবেই।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মডেল নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। মে মাসের শুরুতে ৫ লাখ ছাড়াবে। এরপর দ্বিতীয় সপ্তাহে সেটা একটু কমবে। তবে ৮/১০ লাখ টেস্ট হবে। যদি আমরা এখন কিছু না করি তাহলে আক্রান্তের সংখ্যাটা কতদূর হবে সেটা জানা যাবে।

শনাক্ত কম বা বেশি হোক আমাদের সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনেকদিন ধরে মানতে হবে।

অনেক মৃত্যুর আসলেই হিসেব নেই সে প্রশ্নের জবাবে ভ্রমর মুখার্জি বলেন, আমরা ধরে নিয়েছি অনেক রোগীর করোনা শনাক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে কিন্তু সেগুলো কোনো হিসেবে আসে নাই। আবার অনেকের অনেক ধরনের রোগ ছিলো তার মধ্যে করোনার সংক্রমণ দেখা দিয়ে সে মারা গিয়েছে সেগুলোর হিসেব নেই।

তবে প্রথম ওয়েভ নিয়ে আলোচনা করেছি। সেগুলো সরকারি ডাটার নিয়ম মেনে কাজ করেছি। দ্বিতীয় ওয়েভ নিয়েও যে কাজ করেছে সেটাও সরকারি হিসেব নিয়ে কাজ করেছি। এটাও সত্যি সারা বিশ্বে অনেক কেইসকে আমরা ধরতে পারি না।

পাশের দেশগুলো যেমন বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তানে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী না, ভারতে এতো বেশি কেন? তাদের সাথে তো ভারতের ভৌগোলিক, আর্থ সামাজিক এবং পরিবেশগত অনেক মিল রয়েছে তাহলে এখানে এতো বেশি কেন? সে প্রশ্নের জবাবে ভ্রমর মুখার্জি বলেন, ভারতে বেশ কিছু শহর আছে। যেখানে বহু লোক একসাথে বসবাস করে। যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্বটাও বেশি। আবার কয়েকদিন আগে আমাদের দেশে নির্বাচন হয়েছে। অনেক ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছে। সেগুলোও একটা কারণ হতে পারে। এখন দিল্লি, মহারাষ্ট্রে অনেক বেশি হচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। এরপর দেখা যাবে অন্য কোনো জেলায় বা অন্য রাজ্যে।

ভারতের এমন অবস্থা দেখে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় অনেক বেশি সর্তক হবে। এছাড়া এই করোনাকে নিয়ে মানবজাতির অনেক দিন থাকতে হবে।

এমআই/এম

RTV Drama
RTVPLUS