logo
  • ঢাকা রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭

সৌদি নারীরা তৎপর ইউটিউবে (ভিডিও)

রক্ষণশীল সৌদি আরবের নারীরা সরব হচ্ছে ইউটিউবে। অনেক নারীই এখন ইউটিউবে লাইফস্টাইল, মেকআপ ও রান্না-বিষয়ক নানা ভিডিও পোস্ট করছেন। আর এসব ভিডিও দেখছেন মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলের মানুষ। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে উৎসাহ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

২৫ বছর বয়সী আল-জহুরা সাজের ইউটিউবে জীবনধারা ও মেকআপ-বিষয়ক ব্লগার। ইউটিউবে সাজের কিছু ভিডিও ক্লিপিং আছে। এসব ভিডিও দেখার জন্য প্রায় ৫ লাখ নিয়মিত গ্রাহক রয়েছেন।

সৌদি আরবে হলে সিনেমা ও মঞ্চে নাটক দেখা অবৈধ এবং বিভিন্ন কনসার্টের আয়োজন হয় সীমিত আকারে। বিনোদনের জন্য যুবকরা নির্ভর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষ করে নারীরা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। তারা ইউটিউবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। এসব ভিডিও দেশটিতে বেশ জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে।

গুগল জানায়, এসব ভিডিও দেখার হার গেলো বছরে বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। আরবি ভাষার এসব ভিডিও কনটেন্ট সৌদি আরবের পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।

আমেরিকার থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা-বিষয়ক সহযোগী পিটার সালিসবারি সিএনএনকে বলেন, সৌদি আরব এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশেষ করে অভিজাত শ্রেণি, যারা সামাজিক বিভিন্ন বাধা অন্যদের জন্য দিয়ে রেখেছে। ইউটিউব তাদের জন্য যথোপযুক্ত জায়গা নিজেদের প্রকাশের জন্য।

বেশির ভাগ নারী ব্লগার সিএনএনকে বলেন, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে প্রথমের দিকে তারা কিছুটা ইতস্তত বোধ করতেন। এ জন্য অনেকে ক্যামেরার সামনে নিজেদের মুখ ঢেকে রাখেন।

দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী একজন ব্লাগার হেসা আল আওয়াদ। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভয় পেতাম। সামাজিক যোগাযোগের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কোনো সৌদি নারীর পক্ষে কিছু বলা ছিল বিরল ঘটনা। সময়ের আবর্তনে ভয়টা চলে গেছে। পরিবার কে ধন্যবাদ এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করায়।

ইউটিউবে মেকআপ-বিষয়ক ভিডিওগুলোতে ২৪ বছর বয়সী হেসা আল আওয়াদের উপস্থিতি নেকাব পরেই। ভিডিওতে তিনি মুখ না দেখালেও কনটেন্টের কারণে বেড়েই চলেছে তার গ্রাহক সংখ্যা।

রান্না-বিষয়ক ব্লাগার ২৪ বছর বয়সী আমাল এলমজিরিয়াহির জন্ম আফ্রিকার মরক্কোয়। এখন সৌদি আরবে থাকেন। তার রান্নার ভিডিওগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়। তিনিও ইউটিউবে মুখ না দেখিয়ে হেঁশেলে রান্নার যাবতীয় কলাকৌশল দেখান।

জাপানি পপ সংস্কৃতির ব্যাপক ভক্ত হেসা আল আওয়াদ দাম্মামভিত্তিক সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমার ভয়েস রেকর্ডিংয়ের সময় শুধু আমি হাত দেখাব। আমি খোদার কাছে কৃতজ্ঞ যে আমার মুখ না দেখেও মানুষ আমার ভিডিও দেখছে।

সৌদি আরবের এ পরিবর্তনের পেছনে সক্রিয় হয়েছেন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি সৌদির কাউন্সিল ফর ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান হিসেবে এসব কাজ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে কৌতুক করা হাতুন খাদির ইউটিউবে গ্রাহক ৩ লাখ ১৩ হাজার।

গেলো এক বছরে ৮ লাখ ৯০ হাজারের বেশি গ্রাহক ইউটিউবে নওজুদ আল সামারির ভিডিওগুলো দেখেছেন।

নওজুদ আল সামারি বলেন, ইউটিউব নিজেকে প্রকাশ করার শক্তি ও সুযোগ দিয়েছে। এটা শুধু আমার নিজেকে প্রকাশের জন্য নয়, সমাজের অন্য নারীদের জন্য দরকার ।

টিবিউলার ল্যাবসের হিসাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী সৌদি পাঁচজন নারীর মধ্য আছেন আল-জহুরা সাজের ও নওজুদ আল সামারি।

তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’ নামের একটি রূপকল্প নিয়েছে। এর আওতায় বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে সমানুপাতিক হারে ইউটিউবে সৌদি নারীদের এগিয়ে আসা শুরু হয়। সৌদির জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশির বয়স ২৫ বছরের নিচে। সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির আমূল এই পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর এবং সামনের দিক থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সৌদির কাউন্সিল ফর ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমান এসব কাজ করে যাচ্ছেন।

সালমান বলেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন সংবিধান ও ইসলামের সঙ্গে সহনশীল অবস্থান রেখে আধুনিক পদ্ধতির জীবন এগিয়ে চলবে সৌদি আরবে।

এপি/ এমকে

RTV Drama
RTVPLUS