logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

যেভাবে ফ্রান্সে হিজাব নিষিদ্ধ হয়

ফাইল ছবি

২০০৪ সালে ফ্রান্স সরকার সকল সরকারি স্কুলে হিজাব এবং ধর্মীয় পরিচয় বহন নিষিদ্ধের ঘোষণা দিলে অনেক মুসলিম মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়। অনেক মুসলিম কিশোরীর শিক্ষাজীবনে অন্ধকার নামে। মুসলিম নারীদের দৈনন্দিন জীবন বিভিন্ন ব্যঙ্গ বিদ্রূপ ও প্রশ্নবাণের মুখে পড়ে।

ফরাসী সংসদে সেই সময় এই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব তুলেছিল তখনকার ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী দল। সেই সময় তাদের যুক্তি ছিল স্কুলে ধর্মকে আনা যাবে না। সংসদে ছাত্রীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ হওয়ার পর মুসলিম ছাত্রীরা বলেছিল, বই আর হিজাব দুটো তাদের পরিচয়ের অংশ। অনেকে বলেছিল হিজাব তাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ব্যক্তিসত্তার অংশ। স্কুল খোলার পর সেই হিজাব খুলতে তাকে বাধ্য করার অর্থ তার ব্যক্তিসত্তাকে অপমান করা।

ফ্রান্সে গির্জা ও রাষ্ট্রকে আলাদা রাখার আইন ‘লে-ল্যসিটে’ (ফরাসি ভাষায়)-এর মূল স্তম্ভ প্রজাতন্ত্রটির ধর্মনিরপেক্ষতার। দেশটির জাতীয় পরিচয় কেন্দ্রে রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি রয়েছে। যার মূল ভিত্তি বিভিন্ন আচরণ ও ধর্মের স্বাধীনতা এবং যে বিশ্বাসেরই হোক না কেনো তা আইনের সামনে সমতা। ১৯৮০’র দশকের শেষ দিক থেকে দেশটিতে মুসলিম নারীদের হিজাব পরার বিষয়টি বিশাল একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় মুসলিম নারীদের হিজাব পরা উচিত কিনা এ নিয়ে বিতর্কের শুরু হয়। হাতে গোণা কয়েকজন শিক্ষক এই বিতর্ক শুরু করেন।

ফ্রান্সের কাউন্সিল অব স্টেট আইনি বিষয়ে দেশটির সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে থাকে। তাদের মতামত ছিল স্কুলে মেয়েদের হিজাব পরা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী। ১৯৯০ সালের শেষ নাগাদ মুসলিমদের প্রতি মনোভাব পরিবর্তন ঘটতে শুরু হয়। মুসলিমদের পোশাক বা যা দ্বারা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে চিহ্নিত করা যায় সেসবের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ পেতে থাকে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

এসআর/ এমকে

RTV Drama
RTVPLUS