logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

  ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:৪০
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:৫৯

যুক্তিসঙ্গত কারণেই বাংলাদেশকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণার দিন শেষ

Shekh Hasina, Hasina, PM, William Pesek
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
টোকিও ভিত্তিক বিখ্যাত সাংবাদিক উইলিয়াম পেসেক। সাংবাদিকতার জন্য পেয়েছেন বেশ কিছু বিশ্ব পুরস্কারও। এশিয়ান রিভিউতে লেখা এক কলামে তিনি কোভিড মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেয়া উদ্যোগগুলোর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।

তিনি লিখেছেন- 

অন্য সব উন্নয়নশীল দেশ যখন কভিড-১৯-এ ধুঁকছে, বাংলাদেশ সেখানে বেশ ব্যতিক্রম। উদাহরণস্বরূপ গত মে মাসে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি অচল হয়ে যাবে বলে ভেবেছিলেন অনেকেই। ঘনবসতিপূর্ণ শহর, পুরোনো স্বাস্থ্যসুরক্ষার কারণে ধরে নিয়ে হয়েছিলো সেখানে মহাবিপর্য় হবে।

কিন্তু অবাক করে দিলো বাংলাদেশ। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের দেশে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৩০০ জন মারা গেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তবুও সেটা আমার শহর নিউইয়র্কের কুইন্সের চেয়ে এক হাজার কম। শুধু তাই নয়, এ বছর আশা করা হচ্ছে যে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশের বেশি, যা পার্শ্ববর্তী বৃহৎ বাণিজ্য শক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও তুলনায় আসছে।

বলা মুশকিল, কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ভারতের মতো দেশগুলোর অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও চীন ২ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছে, তাও আশানুরূপ নয়।

তিনি লিখেছেন, গত মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ভারতের চেয়ে বেশি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেখানে ব্যর্থ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে ততটাই সফল। বিগত ১১ বছরে তিনি এতটা উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশকে নিয়ে এগিয়েছেন যে এখন আর হেনরি কিসিঞ্জারের মতো বাংলাদেশকে কেউ তলাবিহীন ঝুড়ি বলার সাহস করে না।

তৈরি পোষাক খাত নিয়ে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ সরকার সে দেশের তৈরি পোষাক খাতকে ঠিক রেখেছেন। এ কারণে দেশটি এখন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহের জায়গা। ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন শুল্কের কারণে ভিয়েতনাম বা এরকম কিছু দেশ বাদে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এ দেশের তৈরি পোশাক খাতকে সমুন্নত রেখেছে।

তিনি আশা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি এই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারেন, দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন করেন, তাহলে আজকের মাত্র এক হাজার ৯০০ ডলার থেকে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে অনেকগুণ।

বাংলাদেশের দ্রুত মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার চারটি উপায় তুলে ধরেন উইলিয়াম পেসেক। প্রথমত তিনি লিখেছেন, সহজে ব্যবসা করতে পারার সূচকে দেশের অবস্থানকে আরো তুলে আনতে হবে। বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বলেছেন, তাদের পছন্দের জায়গা ভিয়েতনাম। কারণ, সেখানে লাল ফিতার দৌরাত্ন্য নেই। 

দ্বিতীয়ত, আর্থিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদিও ভালো উদ্দেশ্যে এ বছরের শুরুর দিকে নিম্নমুখী ব্যাংক সেক্টরকে চাঙ্গা করতে ৯ শতাংশ সুদে লোন চালু করেছিলেন কেনিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করে, তা আদতে কোনো কাজে আসেনি। কারণ, আগে থেকেই ঋণখেলাপি সমস্যায় জর্জরিত ছিল পুরো ব্যাংকিং সেক্টর।

তৃতীয়ত, মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। জাতিগত সংঘাত যেখানে পাকিস্তান ও ভারতের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ মুসলিমপ্রধান দেশ হয়েও তা থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে। এমনকি বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের লৈঙ্গিক সমতার সূচকে জাপানের চেয়ে ৭১ ধাপ এগিয়ে, ভিয়েতনামের চেয়ে ৩৭ ধাপ এবং ভারতের চেয়ে ৬২ ধাপ এগিয়ে।

চতুর্থত, অর্থনীতিকে আরো ডিজিটালাইজড করতে হবে। তিনি লিখেন, গত ফেব্রুয়ারিতে, করোনাভাইরাস সবকিছু বদলে দেওয়ার আগে আমি প্রায় পাঁচ কোটি গ্রাহকের বিশ্বস্ত মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কামাল কাদীরের সঙ্গে একদিন সময় কাটিয়েছিলাম। এত বড় প্রতিষ্ঠানের অংশীদাররাও অনেক বড়, যেমন- বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন এবং জ্যাক মার অ্যান্ট গ্রুপ।

এ অগ্রযাত্রা যেন আভাস দিচ্ছে ভারতই শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র পরাশক্তি নয়, সম্ভাবনা আছে অন্যদেরও।

 

এমএস

RTV Drama
RTVPLUS