logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা: পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণে নিহত ১৪

Kashmir border,
কাশ্মীর সীমান্ত।
জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারত-পাকিস্তান সেনাদের গোলাবর্ষণে দুই দেশের ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন বেসামরিক নাগরিক আর চার জন সেনা সদস্য রয়েছেন। গোলাবর্ষণের ঘটনা দুই দেশের সেনা একে অপরকে দোষারোপ করছে।  

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) কাশ্মীর সীমান্তবর্তী এলাকা কেরান সেক্টরে ভারত-পাকিস্তান সেনা সদস্যদের মধ্যে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভারত ও পাকিস্তান দুই পক্ষই অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, গোলাবর্ষণে নিহতদের মধ্যে ভারতীয় তিন সেনা, একজন সীমান্তরক্ষী এবং ছয়জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের কমকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। 

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ভারতীয় সেনারা এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করছে। পাকিস্তান কোনো কারণ ছাড়াই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। দুই দেশের সেনাদের গোলাগুলির কারণে স্থানীয় লোকজন ঘরবাড়ি ছাড়িয়েছেন। পুরো এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের সরকারি কর্মকর্তা সৈয়দ শহীদ কাদরি অভিযোগ করেন, ভারতীয় বাহিনী বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে। ভারতীয় হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীও আছেন। আহত হয়েছেন অন্য ২৭ জন।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের আনুষ্ঠানিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার দু'টি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে।

ঐ পোস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'বিনা প্ররোচনায় হামলা' করার অভিযোগ তোলা হয়।

পাকিস্তানের হামলার জবাবে ভারতের সেনাদের প্রতিশোধমূলক হামলার ভিডিও দেয়া হয় ঐ পোস্টের সাথে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ অধিদপ্তরের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টে ভারতের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লাইন অব কন্ট্রোলের রাখচিকরি ও খঞ্জর অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রকেট ও মর্টার হামলার অভিযোগ তোলা হয়।

জবাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সীমান্তে ভারতের সেনা ঘাঁটিতে হামলা করেছে বলে দাবি করা হয় ঐ পোস্টে।

শ্রীনগর ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শুক্রবার পাকিস্তান থেকে কাশ্মিরের উত্তরাঞ্চলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলে তা ব্যর্থ করে দেয় ভারতীয় সেনারা। এরপরই দুই পক্ষের গোলাগুলি শুরু হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। 

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের সরকারি কর্মকর্তা সৈয়দ শহিদ কাদরি বলেন, বরাবরের মতোই কোনও উসকানি ছাড়া তারা (ভারতীয় বাহিনী) বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের দাবি, চার বেসামরিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ২৭ জন আহত হয়েছে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের কর্মকর্তাদের দাবি, পাকিস্তানের ছোড়া শেলের আঘাতে নিহতদের মধ্যে আট বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।
 
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের উরি এলাকার বাসিন্দা মুখতার আহমদ জানান, সীমান্ত এলাকার কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাওয়ার পর উরি শহরেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি পরিবার ওই এলাকা ছেড়েছে এবং উরি শহরে আশ্রয় নিয়েছে।’

পাঁচ দিন আগে নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই পক্ষের লড়াইয়ে তিন ভারতীয় সেনা ও তিন জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটার পর আজ ভয়াবহ লড়াইয়ে জড়ায় ভারত ও পাকিস্তান। 

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের সময় কাশ্মীর বিভক্ত হয়ে দুই দেশের অংশেই পড়ে। কিন্তু দুই দেশই পুরো কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। এটা নিয়ে দুই পক্ষ এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধে জড়িয়েছে।

এফএ/এম 

RTVPLUS