logo
  • ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

অস্ট্রেলিয়ায় ৮৬ বছর পর হাঙরের আক্রমণে ৭ জনের মৃত্যু

Australia, Drone,
হাঙরের হামলা
অক্টোবরের শুরুতে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সৈকতে  এক দৃশ্য ভেসে উঠল। একটি হাঙর একজন সার্ফারকে আক্রমণ করল। এরপরই নিখোঁজ। কর্তৃপক্ষ সার্ফারকে খুঁজতে সমুদ্রে বারবার আকাশে ড্রোন ক্যামেরা পাঠালো। জরুরি নিরাপত্তা কর্মীরা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ল। মেডিকেল টিমকে জরুরি সেবা দিতে সমুদ্র তীরে প্রস্তুত রাখা হলো।  

কিন্তু সারাদিন খোঁজাখুঁজি করে সার্ফবোট পাওয়া গেলেও সার্ফারকে আর পাওয়া গেলো না। তিনি ছিলেন হাঙরের চলতি বছরের সপ্তম শিকার। ভীতিকর এমন চিত্র অস্ট্রেলিয়ার বিগত ৮৬ বছরে দেখা যায়নি। 

এ বছর হাঙরের আক্রমণের ঘটনাগুলো কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসহ দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ঘটে। যার মধ্যে একজন ডুবুরিও আছেন যিনি গেলো নভেম্বরে নিখোঁজ হন। ধারণা করা হচ্ছে তিনি সাদা হাঙরের শিকার হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে হাঙরের আক্রমণে কারো মৃত্যু হয়নি। তার আগের বছরগুলোতে, প্রতিবছর একজন অথবা দুইজন মৃত্যুবরণ করছে। তারঙ্গা কনজারভেশন সোসাইটি অস্ট্রেলিয়ার হিসেবে, এ বছরের আগে সবশেষ ১৯৩৪ সালে হাঙরের হাতে ৭ জন মারা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ছিল ১৯২৯ সালে। সংখ্যায় ছিল ৯ জন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাঙরের মোট ২১ টি আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এটি এমন নয় যে, অন্য বছরগুলোয় এ ধরণের ঘটনা ঘটত না। কিন্তু মূল উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- হতাহতের ঘটনা।  

কারণ কি ?

বিশেষজ্ঞগণ এমন আক্রমনের কারণকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখা করেছেন।  তারা বলছেন, বছর বছর এমন ঘটনার উত্থান- পতন আছে।  এটি দুর্ভাগ্যের বিষয়। কিন্তু বর্তমানে এর পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করা যায়। মহাসাগর উত্তপ্ত হওয়ার সাথে সাথে পুরো পরিবেশের ভারসম্যে ও জীববৈচিত্র্যের হেরফের হচ্ছে।  সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, মহাসাগর উত্তপ্ত হওয়ার ফলে হাঙরগুলো তীরে উঠে আসছে এবং মানুষের কাছকাছি অবস্থান করছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতার হটস্পট অস্ট্রেলিয়া

প্রবল খরায় অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু চরম আকার ধারণ করেছে। কিন্তু মহাসাগরের উত্তাপ বাড়ার পাশাপাশি অম্লতাও অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক ‘ইকো সিস্টেমকে’ আঘাত করছে। বিশেষত দেশটির দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সম্মুখভাগে রয়েছে।  যেখানে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার ৪ গুণ তাপমাত্রা বিদ্যমান।

হাঙর পানির তামপাত্রা অনুসরণ করে

মহাসাগর ক্রমেই স্থির নয়। যেখানে স্রোতের সাথে ঠাণ্ডা ও গরম পানির আলাদা অঞ্চল রয়েছে।  পূর্ব অস্ট্রেলিয়া অংশে পানির স্রোত গত এক দশকে আরও বেশি বেড়েছে।  পানির স্রোত বেশি হওয়ায় সেটি পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার তীরে বহমান ঠান্ডা পানির দিকে হাঙরদের ভাসিয়ে নিয়ে আসছে। বিশেষত সাদা হাঙর ঠান্ডা পানির অংশে থাকতে পছন্দ করে। ‘টাইগার হাঙারদের’ দক্ষিণ অংশে দেয়া যায়। বুল, টাইগার এবং সাদা হাঙরই মূলত সবগুলো আক্রমণের সাথে জড়িত।

আধূনিক প্রযুক্তি, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা,  দ্রুত জরুরি সেবার মাধ্যমে গত কয়েক দশকেই হাঙরের কাছ থেকে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।  কিন্তু চলতি বছরই কেবল ব্যতিক্রম। অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি এর আরেকটি বড় কারণ হলো দুর্ভাগ্য।

করোনার কারণে দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেকেই অবকাশ যাপনে সমুদ্র তীরে জড়ো হচ্ছেন। হাঙরের আক্রমণ বাড়ার পেছনে এটিকেও দায়ী মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকেই।

এমএস/ এমকে

RTVPLUS