ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

৫০ দিনে কার পার্কিংকে ৫০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড বানালো সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২০, ০৩:৩৮ পিএম
চ্যানেল নিউজ এশিয়া থেকে নেয়া

মাত্র ৫০ দিনে একটি কার পার্কিংকে ৫০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পরিণত করেছে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল (এসজিএইচ)। সেখানকার নার্স ক্লিনিসিয়ান থুরগাতাভি পি ভেল্লাস্বামী বলেন, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে ভেতর দেখতে কেমন। হাসপাতালের নতুন এই আইসোলেশন ওয়ার্ডের ভেতরটা কেমন হবে, তা নিয়ে থুরগাতাভিরও আগ্রহ কম ছিল না।

মে মাসের মাঝামাঝি যেখানে খোলা আকাশের নিচে একটি কার পার্কিং ছিল, সেটিই মাত্র ৫০ দিনে পুরোপুরি একটি ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে ৫০ জন সন্দেহভাজন এবং আক্রান্ত করোনাভাইরাস রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

গত ১৫ জুলাই এটা চালু করা হয়। ফলে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়। এর আগে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৫১টি বেড ছিল। এর মধ্যে ৩৫টি সিঙ্গেল রুম ও ১৬টি শেয়ারড রুম বেড ছিল।

দরজা খুলে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ডে ঢুকলেই প্রশস্ত রিসেপশন স্পেসের পর ৫০টি পারপাস-বিল্ট কন্টেইনার রুম রয়েছে। প্রতিটি রুমে একটি সিঙ্গেল বেড, বাথরুম, ডেস্ক, চেয়ারের পাশাপাশি নেগেটিভি প্রেসার রয়েছে। যাতে কেউ ঢুকলে বা বের হলে বাতাসে যেন বের না হতে পারে।

হাসপাতালের বোয়ার ব্লকের কাছাকাছি হওয়ায় এই আইসোলেশন ওয়ার্ডের নাম দেয়া হয়েছে ওয়ার্ডঅ্যাটবোয়ার। এখানে যেকোনো হাসপাতালের ওয়ার্ডের মতো নার্স স্টেশন, বিশ্রামের জায়গা এবং কর্মীদের জন্য চেঞ্জিং রুম এবং ডাক্তারদের জন্য অন-কল রুম রয়েছে।

ওয়ার্ডটির দায়িত্বে থাকা নার্স ক্লিনিসিয়ান থুরগাতাভি বলেন, এটা খুব সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে।

বেল বাজানোর ঝামেলা নেই

স্বাভাবিক হাসপাতালের ওয়ার্ডের চেয়ে এই ওয়ার্ডে কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন প্রত্যেক রোগীকে তাদের হাতে পড়ার জন্য একটি বায়োসেন্সর দেয়া হয়েছে। এই সেন্সর তারবিহীনভাবে রোগীর হার্ট রেট, রেসপিরেশন রেট এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন একটি মোবাইল অ্যাপে পৌঁছে দেয়, যার মাধ্যমে রোগীর খবর জানতে পারেন কর্মীরা।

ইন-রুম স্মার্টফোনের মাধ্যমে রোগীরাও এই ডাটা অ্যাকসেস করতে পারে। এছাড়া এই ডিভাইসের মাধ্যমে তারা ভিডিও কনফারেন্স বা মাইকেয়ার লাইট অ্যাপের সাহায্যে তাদের কেয়ার টিমকে কল দিতে পারেন রোগীরা। এর ফলে অতিরিক্ত কোনও যন্ত্রপাতি না ব্যবহার করেই রোগী অবস্থা পর্যালোচনা করতে পারে ডাক্তার বা নার্সরা।

অ্যাসিস্ট্যান্ট নার্স ক্লিনিসিয়ান অ্যাসথার ফ্যান বলেন, এর মাধ্যমে রোগীদের দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নার্সদের সময় কম লাগছে। তিনি বলেন, এতে করে প্রতি ট্রিপে ১০ মিনিট করে বাঁচতে পারে। ফ্যান বলেন, এর আগে রোগীরা কল বেল চাপতেন এবং নার্সরা রোগীদের রুমে যেতেন, কি লাগবে তা জানতে চাইতেন তারা এবং প্রয়োজনীয় জিনিস আনতে আবার রুম থেকে বের হতেন। তিনি বলেন, এখন ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সময়ের পরিমাণও কমে যাচ্ছে কর্মীদের।

এই আইসোলেশন ওয়ার্ডে একটি এক্স-রে ইউনিটও রয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক রেডিওলোজী বিভাগের নকশায় এই এক্স-রে ইউনিটে রোগী ও রেডিওগ্রাফের জন্য আলাদা বুথ রয়েছে। সেক্ষেত্রে একজন রেডিওগ্রাফের পুরো পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পরার বদলে শুধু একটি এন৯৫ মাস্ক পরলেই হচ্ছে।

এসজিএইচ’র মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান, সহযোগী অধ্যাপক রুবান পুপালালিংগাম বলেন, এই ওয়ার্ডের নকশা এবং বৈশিষ্ট্য এমন যা স্থিতিশীল, চলাফেরা করতে এবং নিজেদের যত্ন নিজেরাই নিতে পারে এমন রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা।

এটা চাঙ্গি এক্সিবিশন সেন্টারের মতো কমিউনিটি কেয়ার ফ্যাসিলিটির চেয়ে ভিন্ন। কারণ ওই ফ্যাসিলিটি ‘হাসপাতালে থাকার দরকার নেই’ এমন ব্যক্তিদের জন্য।

সহযোগী অধ্যাপক রুবান পুপালালিংগাম বলেন, কিন্তু এসজিএইচ’র এই ওয়ার্ড ভিন্ন। এখানে যেই রোগীরা আছেন, তারা হাসপাতালে ভর্তি করার মতো, কিন্তু তাদের যথাযথ যত্নসহ আলাদা আইসোলেশন ফ্যাসিলিটি দরকার। ৩২০০ বর্গমিটারের এই ওয়ার্ডটি বিদেশি কর্মীদের জন্য স্থাপিত মেডিকেল পোস্টের চেয়ে আলাদা। পুপালালিংগাম এটাকে ‘একটি এইচডিবি ব্লকের নিচে একটি জিপি ক্লিনিক হিসেবে তুলনা করেছেন।’

তিনি বলেন, যদি কেউ অসুস্থবোধ করেন, তাহলে তারা নিচে নেমে ডাক্তার দেখাতে পারেন। সেখানকার দলটি তখন সিদ্ধান্ত নেবে যে তাদের কি করা উচিত, তাদের অর্থাৎ কর্মীদের কি হাসপাতালে পাঠানো উচিত নাকি তাদেরকে সাধারণ ওষুধ দিয়ে ডরমিটরিতে ফেরত পাঠানো উচিত?

কীভাবে শুরু হলো

তারা একটি প্রকল্প নিতে আগ্রহী কিনা জানতে চেয়ে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসজিএইচ’র চিফ অপারেটিং অফিসার তান জ্যাক থিয়ানকে এপ্রিলের মাঝামাঝি এক রোববার একটি ইমেইল পাঠান। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে এসজিএইচ’র দুইদিন লাগে।

তিনি বলেন, অবশ্যই আমি আমার সহকর্মীদের জিজ্ঞাসা করেছি, আমরা কি করতে সক্ষম? যখন তারা বললো যে, আমরা এটি করতে পারি, তাদের প্রতি আমার পুরো আস্থা ছিল। থিয়ান বলেন, সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোমের (সার্স) সময় এসজিএইচ’র এ ধরনের ‘কন্টেইনার সিটি’ তৈরির অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ওই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত আমাদের প্রচুর কর্মচারীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে। তবে নতুন ওয়ার্ডটিতে কন্টেইনার সিটির বেশ কয়েকটি ‘ডিজাইন ধারণা’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

থিয়ান ও তার টিম যত দ্রুত সম্ভব এই প্রজেক্ট শেষ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু এটি করায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়, তাই নির্ধারিত ৪০ দিনের বদলে নির্মাণকাজ শেষ হতে ৫০ দিন লেগে যায়।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জনশক্তির স্বল্পতা। কেননা ‘সার্কিট ব্রেকার’র সময় এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বিদেশি কর্মীরা ডরমিটরি থেকে বের হতে পারেনি। থিয়ান বলেন, আমরা বেশ ভাগ্যবান যে আমাদের ঠিকাদাররা সিঙ্গাপুরিয়ান এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের সহায়তা নিতে পেরেছিলেন। তবে প্রকল্পের শেষ দুই সপ্তাহের দিকেই আমরা কিছু বিদেশি কর্মী পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, সাপ্লাই চেইন ইস্যুর কারণে ঠিকাদারদের নির্মাণ সামগ্রী পেতেও সমস্যা হয়েছিল এবং কোনও কোনও দিন বজ্রপাতের কারণে কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হতে হয়েছে, যা বিলম্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

সৃজনশীল সমাধানের খোঁজে

নির্মাণকাজ চলাকালীন অন্যান্য দলগুলো হাসপাতালের সব কর্মীদের সঙ্গে পরিকল্পনা ও বৈঠক করে। তারা নতুন ওয়ার্ডের প্রক্রিয়াগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।

থুরগাতাভি বলেন, আমরা সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে প্রচুর বৈঠক করেছি। যদিও আমি এখানে ২২ বছর ধরে কাজ করছি, কিন্তু আমি অনেককে চিনতাম না। এখন আমি অনেক লোককে, বিশেষত ফ্যাসিলিটিস বিভাগের লোকেরা চিনতে পেরেছি।

তিনি বলেন, অনকোলজির মতো বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের এই ওয়ার্ডে আনা হয়েছে। তার ভাষায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ অনুশীলনগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য একে অপরকে চেনা অগ্রাধিকার বিষয়। তিনি বলেন, এটা শুরু হওয়ার আগে সবাই যেন সুপ্রশিক্ষিত হতে পারে তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম আমরা। আর এজন্য ওয়ার্ডে নিযুক্ত সব কর্মীদের সপ্তাহব্যাপী ইনডাকশন প্রোগ্রাম শেষ করতে হয়।

থুরগাতাভি বলেন, তিনি কলোরেক্টাল সার্জারি ওয়ার্ডে কাজ করেন। সাধারণ ওয়ার্ডের রোগীদের নার্সিংয়ের চেয়ে আইসোলেশনের রোগীদের নার্সিং খুব আলাদা। আপনাকে পুরোপুরি পিপিই পরে থাকতে হবে এবং আইসোলেশন প্রক্রিয়ার অনেক কিছু নখদর্পণে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডে কাজের সময় কোড ব্লু’র মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। সাধারণ ওয়ার্ডে কর্মীরা রোগীদের চেতন ফিরলে এবং ইনটিউবেট হলে অনুযায়ী নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে প্রেরণ করতে পারেন। তবে নতুন ওয়ার্ডের রুমগুলো ছোট এবং সংকীর্ণ, সুতরাং এখানে স্কুপ স্ট্রেচার ব্যবহার করতে হচ্ছে।

থুরগাতাভি জানান, অ্যাম্বুলেন্সগুলো এটি ব্যবহার করে, কিন্তু আমরা কখনই এগুলো ব্যবহার করিনি, কারণ আমাদের পুরো বিছানা ঠেলা দরকার। রোগীদের আমাদের স্ট্রেচারে স্কুপ করা দরকার, রোগীকে ঘর থেকে বের করে এনে তাকে একটি দীর্ঘ ট্রলিতে বসাতে হয়, তারপর তার চেতন ফেরানোর জন্য অন্য আরেক জায়গা ঠেলে নিতে হয়।

তিনি বলেন, প্রক্রিয়াগুলো অনুকরণ করতে এক সপ্তাহ সময় লেগেছিল। নার্সরা বহুবার প্রশিক্ষণ নিয়েছিল এবং আমরা অনেকবার ড্রিল করেছি।

তিনি জোরই বলেন, রোগীদের সেবাযত্নে যাতে কোনও ত্রুটি না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন, এসজিএইচ’র মূল ব্লকে রোগীরা যেভাবে সেবা পান, এখানেও তাই পাবেন। প্রক্রিয়া, প্রোটোকল এবং নির্দেশিকা সবই এক।

যতদিন সম্ভব এই ওয়ার্ড ব্যবহার করা হবে

এই ওয়ার্ডটি স্থায়ী নাও হতে পারে উল্লেখ করে সহযোগী অধ্যাপক পুপালালিংগাম বলেন, করোনা রোগীর চাপ কমে গেলেও আশা করি এটা কাজে আসবে। আসলে ‘এটি কয়েক বছর’ টেকা মতো করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এটা করোনা মহামারির সময় ব্যবহৃত হবে কিন্তু পরে অন্যান্য সংক্রামক রোগের সময়ও কাজে আসবে। এজন্য যক্ষ্মা এবং হুপিং কাশির মতো সংক্রামক রোগের রোগীদের চিকিৎসা এখানে করা সম্ভব। যতদিন ব্যবহার করা যায়, আমরা ততদিন এটার ব্যবহার করবো।

এদিকে ওয়ার্ডটিতে রোগীদের আসা শুরু হলো তখন থিয়ানের রোববারের সেই ইমেইলের কথা মনে পড়ে যায় এবং তার টিমের ওপর ভরসার ফলই হচ্ছে এই প্রজেক্ট। গত কয়েক মাস সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলেছে। তবে যখন প্রথম কন্টেইনার ইউনিট ওয়ার্ড প্লাটফর্মে বসানো হয় তখন সেটাই ছিল থিয়ানের কাছে সন্তোষজনক মুহূর্ত।

তিনি বলেন, আমরা প্রথম বাধা অতিক্রম করেছি। এরপর এই প্রকল্প শেষ হওয়া সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র।

সেই উত্তেজনাকর মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওয়ার্ড সম্পন্ন হওয়ার পর যখন প্রথমবার সেখানে প্রবেশ করি, ততক্ষণে কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে। থিয়ান বলেন, আমি পুরো প্রজেক্ট নিয়ে দারুণ অনুভব করছি। আমাদের টিমগুলো এক হয়েছে এবং এসজিএইচ’র টিমওয়ার্ক দেখার সুযোগ মিলেছে। এটা দারুণ অনুভূতি।

এ/ এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
মানিকগঞ্জে পথচারীদের ২০ হাজার মাস্ক বিতরণ
সিনোফার্মের করোনা টিকা অনুমোদন দিলো চীন
করোনায় চব্বিশ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলো
উহানের ৫ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল: গবেষণা