logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা আপডেট

  •     দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু ২১, আক্রান্ত ১৯৭৫ জন, আর সুস্থ হয়েছেন ৪৩৩ জন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনা: বাজার নিয়ন্ত্রণে জোরালো মনিটরিং দরকার 

প্রাকৃতজ শামিম রুমি টিটন
|  ৩০ মার্চ ২০২০, ০৮:৩৯
করোনা: বাজার নিয়ন্ত্রণে জোরালো মনিটরিং দরকার 
এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কবি শামসুর রাহমানের পণ্ডশ্রম কবিতাটি নিশ্চয়ই আমরা সকলেই পড়েছি। সেই কবিতার সাথে বর্তমান বাস্তবতার খুব মিল। কিছু একটা আঁচ করার পরই বিচার বিবেচনা না করে তার পেছনে ছুটি হুলস্থুল। হুজুগে বাঙালি বলে কথা। এতে করে, বিপদে পড়ে যায় নিম্ন আয় কিংবা দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। 

শাটডাউন বা লকডাউনের কথা শুনেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারের তালিকা নিয়ে দোকানে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। অনেকের অযৌক্তিক বাড়তি কেনাকাটায় সুযোগ নিচ্ছেন একশ্রেণির ব্যবসায়ী। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার সঠিকভাবে তদারকি করছে না বলে তাদের অভিযোগ। হঠাৎ এভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়া কিংবা ভোক্তাদের বাড়তি কেনার প্রবণতা কোনোটিই যৌক্তিক নয়। সব সময়ের বেচাকেনার চেয়ে ৫-৬ দিন ধরে বাজারে বেচাকেনা বেড়ে গেছে দুই থেকে তিনগুণ। এর ফলে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেড়েছে। 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথেষ্ট মজুত আছে। কোনো সংকট নেই।’ তবুও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন। যদিও সারাদেশেই চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। বাড়তি দাম নেয়ায় ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ বলছেন, যেভাবে জোরালোভাবে এ তদারকি করা দরকার তা হচ্ছে না। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ করার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই বাড়তি মূল্যে কেনাকাটা করতে হচ্ছে। 

এদিকে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, দেশে চাল ও গমের মজুত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রয়েছে। আর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমদানি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি। তাই আমদানি করা পণ্যের সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

অপরদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বাজারে বা ক্রেতাদের ওপরে। এমতাবস্থায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে হতদরিদ্র মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। কাজেই নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা দূর করার জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের আস্ফালন লক্ষণীয়। তবে এটা নতুন কিছু নয়, সাংবার্ষিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যতো বটেই, সেবা খাতেও সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপ প্রকট। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এ চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অনায়াসে অন্যায্যভাবে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। 

বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কবে ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না। এর জন্য রাষ্ট্র-সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি, পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠা এবং পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের তফাতসহ সার্বিক বিষয়গুলো আমলে নিতে হবে।
লেখক: কবি ও পরিবেশবিদ 

corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৩৬১০ ৬৯০১ ৪৮০
বিশ্ব ৫৫৮৯৭১২ ২৩৬৬৫৫১ ৩৪৭৯০৩
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • মুক্তমত এর সর্বশেষ
  • মুক্তমত এর পাঠক প্রিয়