logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা আপডেট

  •     গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৫২৩ জন, সুস্থ হয়েছেন ৫৯০ জন, নমুনা পরীক্ষা ১১৩০১টি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

কোভিড- 19,  অনলাইন ক্লাস এবং ইউজিসি

মো. আরিফুল হাসান
|  ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪:২৫ | আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ১৫:১৫
কোভিড- ১৯,  অনলাইন ক্লাস, ইউজিসি, মুক্তমত

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ৯ই এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ তা ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা করতে পারে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে। কোভিড–19 নামক এই সংক্রামক ভাইরাসের সাথে সারাবিশ্ব যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ সরকারের এরকম বাস্তবিক সিদ্ধান্ত নেয়াটাই স্বাভাবিক। উক্ত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলাতে অনেক শিক্ষাবিদ ইন্টারনেট ভিত্তিক দূরশিক্ষন বা অনলাইন ক্লাস পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষগুলোকে পরামর্শ দিয়েছেন।

গত ১৯ মার্চ ২০২০ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের করণীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

জরুরী এই সভায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলা সংক্রান্ত আলোচনা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে তা মোকাবেলার লক্ষ্যে সম্মানিত শিক্ষকগণকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উৎসাহিত করা নিয়ে আরো আলোচনা করা হয়। অনলাইন শিক্ষাকে মিথষ্ক্রিয় (Interactive) করার জন্য  ভিডিও চ্যাট ভিত্তিক অ্যাপ ‘Zoom’ এবং বিডিরেনের সার্ভার বিনামূল্যে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, বিডিরেনের সার্ভিসটিকে একটি পুর্নাঙ্গ রূপ দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ডিভাইস হিসেবে মোবাইল/কম্পিউটার এবং স্থির ইন্টারনেটের প্রয়োজন হবে। বিডিরেন ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, তাদের সার্ভারের সাথে ১৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংযুক্ত আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর অধীনে সরকার কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৯৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে চলছে। সার্ভিসের বাহিরে থাকা বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মঞ্জুরী কমিশন বিডিরেনের সাথে শীঘ্রই যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে বলেছে। এক্ষেত্রে বিডিরেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সার্ভিস নিশ্চিত করবে। ইউজিসির এই ধরনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনভিত্তিক দূরশিক্ষন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে। ইউজিসির কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আগেই আমাদের দেশেরও কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই তাদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে ইন্টারনেটভিত্তিক দূরশিক্ষন কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষকগণ বহুল জনপ্রিয় ভিডিও চ্যাটভিত্তিক ফ্রি অথবা পেইড ভার্সনগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। Hangouts, Hangouts Meet, Zoom, Periscope, Meerkat, Facebook Live, Youtube Live, Skype ইত্যাদি লাইভ স্ট্রিমিং ভিডিও অ্যাপসের মাধ্যমে সারা বিশ্বের অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ তাদের দূরশিক্ষন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্প্রতি তাদের দূরশিক্ষন ভিত্তিক বিপুল পরিমাণ কোর্স (MOOC) অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক ওয়েবসাইটসমূহে (যেমন: edx, udemey, coursera) উন্মুক্ত করে দিয়েছে। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকার বিটিভির মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিদিন দূরশিক্ষন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যা বাস্তবভিত্তিক একটি পদক্ষেপ।

একটি কথা স্বীকার করতেই হবে যে, শ্রেণীকক্ষের পুরোপুরি বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আছে। বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষকগণই দূরশিক্ষন বিষয়ে প্রশিক্ষিত নন। উপরন্তু, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রী উভয়েরই প্রযুক্তিজ্ঞান নিয়ে সীমাবদ্ধতা আছে। একটি সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য শুরুতেই তার সুবিধা-অসুবিধাগুলো ভালোমন্দের মাপকাঠিতে পরিমাপ করে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়াই  ইউজিসির মত সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আশা করাটাই সমীচীন। বর্তমানে ৯৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকগণের মধ্যে বেশীর ভাগই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্ব স্ব স্থায়ী ঠিকানায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের বহু জায়গায় যেমন 4G, 3G এবং হাই স্পিড ইন্টারনেট আছে তেমনি ইন্টারনেটবিহীন বা একেবারেই দুর্বল ইন্টারনেট ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় আছে। করোনা নিয়ে যেখানে সবাই আতংকে আছে তারা ঘর থেকে বের হয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আছে এমন জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে লাইভ ক্লাসের জন্য থাকতে চাইবে কিনা  এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। লাইভ ক্লাসে ছাত্রছাত্রী উপস্থিতি, সাইবার বুলিং, নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, ভিডিও/অডিও চ্যাটের মানদণ্ডের ব্যাপারগুলো এসে যায়। অজপাড়াগাঁয়ের 2G/3G/নাই G তে দোদুল্যমান ছেলেটা Attendance না দিতে পেরে যে মাথার চুল ছিঁড়তে পারে -তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে।

ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন ফ্রি সার্ভিস (ফ্রি Facebook); লো-অ্যান্ড অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ভিত্তিক বিল্ট-ইন অ্যাপস Hangouts, Imo; লাইভ ভিডিও সেভ করে রাখা যায় যা পরবর্তী সময়ে দেখা যাবে এমন অ্যাপস Facebook Live, Youtube Live; নোটশ, প্রায় সবরকম সুবিধা সম্বলিত তুলনামূলক নিরাপদ Google এর G-suite প্যাকেজ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগুলো ভাবনায় নিয়ে আসলে আরও সহজ এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান বের হয়ে আসবে।

করোনা পরিস্থিতি কতদিন ধরে আমাদের সবাইকে মোকাবেলা করতে হবে তা একেবারে নির্দিষ্টভাবে  বলা না গেলেও সারাবিশ্বকে যে এ সংক্রামক ব্যাধিটি একটি দীর্ঘ সময় ধরে ভুগবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। তাই ইউজিসি, সরকারি-বেসরকারি এবং বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে মানদণ্ডের ভিত্তিতে কয়েকটি অপশন নির্ধারণ করে দূরশিক্ষন কার্যক্রম পরিচালনায় এগিয়ে আসলে তা বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য নিজস্ব সক্ষমতাকে সমৃদ্ধ করবে।

লেখক:

মো. আরিফুল হাসান, প্রভাষক, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগং।

জিএ

RTVPLUS
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪২৮৪৪ ৯০১৫ ৫৮২
বিশ্ব ৫৯০৬২০২ ২৫৭৯৮৭৭ ৩৫২০২৪
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • মুক্তমত এর সর্বশেষ
  • মুক্তমত এর পাঠক প্রিয়