logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬

একদিন তো মরেই যাবো তাই বলে কি সচেতন হবো না?

মোমিন রোহন
|  ১৯ মার্চ ২০২০, ২০:৫৮ | আপডেট : ২১ মার্চ ২০২০, ১৭:৪৩
মুক্তমত, করোনাভাইরাস, সচেতনতা
প্রতীকী ছবি। গুগল থেকে নেয়া।

গতকাল অফিস থেকে বাসায় ফিরছি। সিগন্যালে আটকা পড়েছি। হঠাৎ আমার ডান দিকে লক্ষ্য করলাম, একটা প্রাইভেট কার। গ্লাস নামানো। বা পাশের সিটে একজন মাঝবয়সী ভদ্র মহিলা। উনার ডান পাশে মনে হলো একজন তরুণী বসে। ভদ্র মহিলাকে লক্ষ্য করলাম, আঙ্গুল ঢুকিয়ে আয়েশ করে নাক খুঁটছেন। একবার এপাশের নাক, একবার ওপাশেরটা। আহ্ কি মজা। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হলো, 'আরে আপনি করছেনটা কী? আপনার কি সচেতনতা বলে কিছু নেই নাকি?' বিশ্রী দৃশ্যটা দেখার চেয়ে না দেখাই ভালো। সামনে এগিয়ে গেলাম।

মনে পড়ে গেলো আজকের সকালের ঘটনাটা। অফিসে যাচ্ছি। পাশের রিকশায় এক স্বাস্থ্য সচেতন মশাইকে দেখলাম, বোধ হয় তিনিও অফিসেই যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য সচেতন বলছি এই কারণে যে, তার হাতে একটা লাঞ্চবক্স দেখেছি। অফিসে দুপুরে বাইরের খাবার খাওয়া যাবে না। অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বাড়ির খাবারই খেতে হবে। এটা খুব ভালো। আমারও খুব ইচ্ছা সবসময় বাসায় তৈরি খাবার খাওয়ার। পেশাগত কারণে সম্ভব হয় না। কিন্তু ভদ্র লোকের উপরে মেজাজটা খিঁচড়ে গেলো। বোধ হয় ঠাণ্ডার সমস্যায় ভুগছেন। রিকশায় যেতে যেতে একটু পরপর খোলামেলা অবস্থায় তিনি নাক ঝাড়ছেন। আর তার নাকের সর্দি বাতাসের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। নিশ্চয় আশপাশে যারা রয়েছেন তাদের নাক-মুখ দিয়ে শরীরে ঢুকে যাচ্ছে। কী বিদঘুটে অবস্থা! সময়টা মোটেও ভালো নয়। পুরো বিশ্ব আতঙ্কিত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বেশ কয়েকজন আক্রান্ত। একজন মারাও গেছেন এখন পর্যন্ত।

তবে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে। এখন কথা হলো, আপনি সচেতন। কিন্তু আপনার পাশের মানুষটা সচেতন না। নাক খুটে ঐ হাতে গাড়ির দরজাটা খুলবেন। হয়তো কোনো পার্টিতে গিয়ে পরম আদরে জড়িয়ে ধরবেন প্রিয়জনকে। আবার কেউ রিকশায় যেতে যেতে অবলীলায় নাকের সর্দি ছেটাবেন আপনার গায়ে, নাকে-মুখে। আর থুতু-কফ? এটাতো কোনো বিষয়ই না এই দেশে। রাস্তা-ঘাটে যেখানে সেখানে খোলামেলা অবস্থায় থুতু ফেলছে অনেক ভদ্র শিক্ষিত মানুষ। কাশি দিয়ে কফ ফেলছে। অবলীলায় হাঁচি-কাশি দিচ্ছে মানুষ জনের মাঝে। মুখের কাছে হাতটাও নিচ্ছে না। তাহলে কিভাবে সচেতন হবো আমরা? কে সচেতন করবে আমাদের? করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়তে কি বেশি সময় লাগবে এমন অসচেতনতার কারণে? যেখানে উন্নত দেশগুলো কোনোভাবেই লাগাম টানতে পারছে না

এক সাংবাদিক বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, "আমরা আসলে কতটা প্রস্তুত, করোনা মোকাবেলায়?" উনি বললেন, "হ্যাঁ, ব্যাপক প্রস্তুতি আছে তো। একটি সংস্থা অনেক টাকা খরচ করে লিফলেট ছাপিয়েছে, আরেকটি সংস্থা অনেক পোস্টার প্রস্তুত করে রেখেছে।" আসলে বলার কিছু নেই। সচেতনতা একদিনেও হবে না। হঠাৎ করেও হবে না। অভ্যাসের ব্যাপার। পরিবার থেকে সেই প্র্যাকটিসটা শুরু হওয়া উচিৎ ছোটবেলা থেকেই।

করোনা বা কোভিড-19-এর শেষ কোথায় কেউ বলতে পারছে না। তবে এই ভাইরাস যে সবকিছুতে প্রভাব ফেলছে সেটা তো দৃশ্যমান। প্রভাব পড়তে পারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেও। আর আমরা তো 'হুজুগে বাঙালি' কথাই আছে। এটা নিয়ে গতকালই কথা হচ্ছিল অফিসের কলিগ এক সিনিয়র আপার সঙ্গে। ছোট ভাইয়ের মতো খুব স্নেহ করেন আমাকে। পরামর্শ দিচ্ছিলেন; অন্তত কয়েক মাসের জন্য চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনে রাখার জন্য। ভাবলাম বুদ্ধিটা তো বেশ। মুদি দোকানের ছেলেটাকে ফোন করে বললেই তো ও সব রেডি করে রাখবে। বাসায় ফেরার পথে নিয়ে যাব। তারপর হঠাৎ মনে হলো, আচ্ছা আমার না হয় কিছু দিনের খাবার মজুদ করে রাখার সামর্থ্য রয়েছে। কিন্তু যার নেই? এরকম তো অসংখ্য মানুষ রয়েছে এই শহরে। একদিন কাজ না করলে মুখে আহার জুটবে না। কাল কি খেতে পারবে কি না আজ তার সেটাও জানা নেই। তাহলে আমি কোন অধিকারে টাকার জোরে তার আহার ছিনিয়ে নিয়ে যাবো! নাহ্ আমি কিচ্ছু মজুদ করবো না উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে। অন্য সময় যেভাবে কেনাকাটা করি, সেভাবেই করবো। এতে যদি বাজারে গিয়ে দেখি সব বিক্রি হয়ে গেছে। যাক। না খেয়ে যদি মরে যাই, তাতে কোনো আপত্তি নেই। তাও অন্যের মুখের অন্ন কেড়ে নিয়ে, অন্যকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে বাঁচতে চাই না। একদিন তো মরে যেতেই হবে...

সি/জিএ

corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ৩০
বিশ্ব ৭২১৫৮৪ ১৪৯১২২ ৩৩৯৫৮
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • মুক্তমত এর সর্বশেষ
  • মুক্তমত এর পাঠক প্রিয়