• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

সুমিতা দেবী আখ্যান

সৌমিক হাসান
|  ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৭ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০৫
ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে সাড়া জাগানো নায়িকা সুমিতা দেবীর আজ (৬ জানুয়ারি) ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৪ সালের ৬ জানুয়ারি সুমিতা দেবী মারা যান। তার জন্ম ১৯৩৯ সালে মানিকগঞ্জ জেলার দক্ষিণ খল্লিধানকোড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। তার নাম ছিল হেনা ভট্টাচার্য।

whirpool
একান্নবর্তী পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দিলে মাদারীপুরের তুখোড় কমিউনিস্ট কর্মী অতুল লাহিড়ীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পাকিস্তানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রুদ্ধ করা হলে গ্রেপ্তার হন অতুল লাহিড়ী। হেনা লাহিড়ী কলকাতায় চলে যান। অতুল লাহিড়ীর মুক্তির পর কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন হেনা। ‘আসিয়া’ ও ‘আকাশ আর মাটি’ ছবি নির্মাণ করার প্রস্তুতির সময় স্ক্রিন টেস্ট দেয়ার পর নাজির আহমেদ তাদের ছবির জন্য নায়িকা নির্বাচিত করেন হেনা লাহিড়ীকে।

আসিয়া ছবি করতে গিয়ে হেনা ভট্টাচার্য থেকে সুমিতা দেবী হন। নানা কারণে আসিয়ার কাজে বাধা আসে। এরই মধ্যে ফতেহ লোহানীর পরিচালনায় সুমিতা দেবী অভিনীত ‘আকাশ আর মাটি’ প্রথম রিলিজ হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক আইন জারির পর অতুল লাহিড়ী গ্রেপ্তার এড়াতে ভারতে পালিয়ে যান। একজন অভিনেত্রীর শিল্পী স্বত্ত্বার অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করার জন্য উকিলের পরামর্শে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিলুফার বেগম নাম গ্রহণ করেন এবং অতুল লাহিড়ীকে ডিভোর্স দেন।

১৯৫৯ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে সহকারী পরিচালক জহির রায়হানের সাথে পরিচয়। জহির রায়হান পরিচালিত ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে কাজ করার সুবাদে একে অপরকে ভালালাগার এক পর্যায়ে ১৯৬২ সালে গোপনে দু’জনে বিয়ে করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সুমিতা দেবী তাতে অংশ নেন। ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশের সমস্ত শিল্পীদের সাথে মিলে নাটক করে তার অর্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জমা দিতেন। দেশ স্বাধীন হলে সুমিতা দেবী স্বামী জহির রায়হানকে নিয়ে দেশে আসেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান শহীদ হন। পিতৃহীন সন্তানদের মানুষ করার সংগ্রামে ব্রতী হন সুমিতা দেবী। সেই সাথে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে ক্যারেক্টার আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন অনেকদিন।

(লেখক: শিক্ষক ও চলচ্চিত্র গবেষক)   

আরো পড়ুন:

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়