• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

কৌশিক থেকে মাশরাফি হয়ে ওঠা

মেহেদী হাসান
|  ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:২১ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৩
২০০১ সালের ৮ নভেম্বর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক মাশরাফি বিন মুর্তজার। সাদা জার্সির কলারটা সেদিনও উঁচা ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমর্থকদের কাছে একদমই অচেনা একটা নাম। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেদিন অচেনা মাশরাফির সমর্থক কয়জনই বা ছিল? তবে কৌশিকের সমর্থক ছিল অনেক। বন্ধুকে উৎসাহ জোগাতে সেদিন নড়াইল থেকে ঢাকা ছুটে এসেছিল কৌশিকের বন্ধুরা।

whirpool
কাছের মানুষরা যাকে কৌশিক নামেই চেনে। আর কৌশিক নামটাই মাশরাফির শুনতে বেশি ভালো লাগে। এক কথায়, আপন আপন লাগে।

চিত্রা পাড়ের বিশুদ্ধ বাতাসে বেড়ে ওঠা কৌশিককে হয়তো আজ আমরা মাশরাফি নামে চিনতাম না। থেকে যেতো সবার মতই সাধারণ একজন হয়ে।

সেই কৌশিককে মানুষ এখন শুধু ক্রিকেটার মাশরাফি হিসেবে নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও আপন করে নিয়েছে। খেলতেন সব ধরনের খেলা।

বৃষ্টি হলে কাঁদা মাঠে নেমে পড়তেন ফুটবল নিয়ে। শীত আসলে পুরোদস্তর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। সবকিছুর ভেতরও এসময় টুকটাক চলতো ক্রিকেটও।

মাশরাফি যে পেশাদার ক্রিকেটার হবেন তা নাকি নিজেও ভাবেননি কখনও! খেলতেন নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে। পেশাদার ক্রিকেট যে খেলবেন তিনি সেটা নাকি কখনও মাথাতেই আসেনি! খেলার দরকার তাই খেলতেন।

নানা’র কারণেই ক্রিকেটে আসা। খুলনা মোহামেডান ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন কৌশিকের নানা। মজার ব্যাপার হলো, প্লেয়ার কম থাকায় নানীকে জোর দিয়ে কৌশিককে আদায় করে নেয়া।

সেদিন খুলনা মোহামেডানের হয়ে অভিষেকে ২৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৬ উইকেট। হ্যাঁ, এখান থেকেই শুরু ক্রিকেট। এরপরই খুলনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ পাওয়া। ৬ বিভাগের খেলায় ৪ ম্যাচেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

এরপরই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের এশিয়া কাপের একাদশে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় কোথায় কৌশিকের?

কৌশিক থেকে এবার মাশরাফি হয়ে ওঠার পালা। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে এক লাফে বাংলাদেশ ‘এ’ দলে । 'এ' দলের হয়ে ভারতে ৪ ম্যাচে ১৬ উইকেট!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কী তা ঠিকঠাক বুঝে ওঠার আগেই নামিয়ে দেয়া হলো অভিজ্ঞ জিম্বাবুয়ের সামনে। বোলার মাশরাফি’র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা শুরু ব্যাটিং দিয়েই। ৪৫ মিনিট ক্রিজে থেকে ২২ বল মোকাবেলায় করেছিলেন ৮ রান । এখানেও হয়ে গেল ধৈর্যে্যর পরীক্ষা।

প্রথম ইনিংসে বল হাতে একরকম হুঙ্কার দিয়েই শুরু। ৩৩ ওভার বল করে ৮ মেডেন আর ১০৬ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট! সেই যে শুরু, এখনো ব্যাটে বলে লড়ে যাচ্ছেন দেশের জন্য।

কতই না উত্থানপতন এই ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে। হার না মানা মাশরাফি শুধু প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়ছেনই না, সমান তালে লড়ে যাচ্ছেন ইনজুরির সঙ্গেও। কতবার যে আহত হয়েছেন তার হিসাবও জানা নেই। দুই পায়ের দুই হাঁটুতে বড় অপারেশন হয়েছে ৭টি । এমনও হতে পারে, কয়েক বছর পরে নাকি হাঁটতেও কষ্ট হবে। এইসব মানতে নারাজ মাশরাফি এখনও ছুটে চলেছেন অদম্য গতিতে।

কত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে চিত্রা পাড়ের সেই দুরন্ত কৌশিক আজ জাতীয় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। ১৬ কোটি মানুষের মান, হাসি-কান্নার ভার নিয়েছেন দুই কাঁধে। অনায়াসেই ভার বয়ে চলছেন হাসিমুখে। নিজেকে লাঙ্গরা বলতেও যার চোখে-মুখে ফোটে উঠে হাসি।

বাংলাদেশ হারলে তিনিও কাঁদেন সবার আড়ালে। এই মাশরাফিকে নিয়ে গর্ব শুধু বাংলাদেশের মানুষ করে না, বিশ্ব ক্রিকেটও গর্ব করে। মাশরাফি নামটা ভুলে যাওয়ার মতো কোনও নাম নয়।

ক্রিকেট যতদিন থাকবে, থাকবে ‘মাশরাফি’ নামটাও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আজ ১৭ বছর পার হলো।

শুভকামনা অধিনায়ক। অনেক অনেক ভালো থাকুন, ভালো রাখুন দেশকে।

এমআর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়