logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

‘সত্যি কি আইয়ুব বাচ্চু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন?’

এ এইচ মুরাদ, সাংবাদিক
|  ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:১৬ | আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৪৯
ছবি- ২০১১ সালে আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে তোলা
নব্বইয়ের দশকে যাদের জন্ম, এমন হয়তো একটি মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যিনি আইয়ুব বাচ্চুর গান শোনেননি বা আইয়ুব বাচ্চুর গান পছন্দের তালিকায় নেই। তাঁর ভক্তদের কথা না-ই বা বললাম। আইয়ুব বাচ্চুকে সামনা সামনি দেখা ও তাঁর গান শোনার সুযোগ হয় ২০১১ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শেষ দিকের কথা। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেকটা শখের বসে একটা জাতীয় দৈনিকের হয়ে ফটোগ্রাফি করতাম। জাহিদুল হক পাভেল (পত্রিকার সাব-এডিটর) সকালে ফোন দিলেন।

bestelectronics
জানতে চাইলেন আজকে ফ্রি আছি কিনা। একটা কনসার্টে যেতে হবে। যতদূর মনে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের চিকিৎসার অর্থ যোগানোর জন্য কনসার্টটি ছিল। আমার বাসার কাছেই তাঁর বাসা ছিল। আমাকে দুইটি টিকিট দিয়ে মজা করে বললেন, বান্ধবীকেও সঙ্গে নিয়ে যেও।

বিকেলে কনসার্ট কাভার করতে গেলাম আমার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে। সুলতানা কামাল স্টেডিয়ামে সেদিনই কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম কোনও কনসার্ট দেখলাম। মুগ্ধ হলাম তাঁর গিটারের যাদুতে। সেই কনসার্টে আইয়ুব বাচ্চু ছাড়া আরও গান গেয়েছিলেন মেহরীনসহ অনেক জনপ্রিয় শিল্পী।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :শুক্রবার জানাজা, চট্টগ্রামে সমাহিত হবেন আইয়ুব বাচ্চু
-------------------------------------------------------

রাতে বাসায় ফিরে কনসার্টের ছবি ও কিছু বর্ণনা দিয়ে পাভেল ভাইকে ই-মেইল পাঠালাম। কদিন পরেই বিনোদনের বিশেষ পাতায় বড় আয়োজনে অনুষ্ঠানের সংবাদটি কাভার করা হলো। কনসার্টে উপস্থিত না থেকেও পাভেল ভাই দারুণ লিখেছেন। প্রাণবন্ত সেই লেখা। মনে হচ্ছিল তিনি যেন সেখানেই উপস্থিত ছিলেন। দুই পাতা জুড়ে কনসার্টের খবর প্রকাশিত এক পাশে লেখা কনসার্টের ছবি তুলেছেন- এ এইচ মুরাদ। আর সেটি দেখার পর আমার আনন্দ দেখে কে। অফিস থেকে নাকি আমার ছবির বেশ প্রশংসা করেছিলেন সবাই। এরপর তো ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন কনসার্টে যাওয়া হতো। তবে পত্রিকায় ছবি দেখার চেয়েও বেশি খুশি হয়েছিলাম যেদিন শুনলাম আইয়ুব বাচ্চু আমার ছবি নিজের ফেসবুকে প্রোফাইল ফটো হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মূলত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভাই তাকে ওই ছবিটি দিয়েছিলেন। 

একই বছর আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে তাঁর এবি কিচেনে যাওয়ার জন্য বললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ভাই। সন্ধ্যার পর থেকেই ঝুম বৃষ্টি। আমরা দুইজন বৃষ্টিতে অর্ধভেজা হয়ে রিক্সায় এবি কিচেনে পৌঁছালাম। গেটে আমার সাথে থাকা ভাইটি দারোয়ানকে বললেন, বস আছে? দারোয়ানের ভাবখানা দেখে বোঝা গেল আমার সেই ভাইটি তাঁর কাছে খুব একটা পরিচিত নন। তবে ভাইয়ের পরনে এবির টি-শার্ট দেখে হয়তো বেশি কিছু না বলে ভেতরে যেতে দিলেন।

সেদিন প্রথম আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে পরিচয়। আফসোস করে ভাই বললেন, ইস আমার ভাইগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। তোমরা মাথা মুছে নাও। আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কেক কাটলাম। কিছুটা খাওয়া-দাওয়া হলো। খানিক পর দেখলাম মানুষজন বাড়তে শুরু করেছে। আমরা বিদায় নেবো। তখন সেলফির প্রচলন ছিল না। সবাই একসঙ্গে ক্যামেরায় তুলবো। তো শুরুতে আমি সবার ছবি তুলে দিলাম। বাচ্চু ভাই আমার নাম ধরে বলেন মুরাদ তুমিও চলে আসো, আমরা একসাথে ছবি তুলি। আমি অবাক হয়েছিলাম। কারণ তিনি আমার নাম ধরে ডাকছেন দেখে। তাঁর অফিসে অনেক মানুষ ছিল। পরিচয়টাও অল্প সময়ের। এরই মধ্যে নাম ধরে ডাকা অবাক করেছে।

পরবর্তীতে বিনোদন সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে নেয়ার পর বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে বহুবার দেখা হয়েছে। কনসার্ট কাভার করেছি। কথা হয়েছে। কেউ পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে বলতেন, ‘আমি ওকে চিনি।’ অথচ তাঁর সঙ্গে খুব একটা সময় কাটানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। আইয়ুব বাচ্চু ভাই আজ সকালে (১৮ অক্টোবর) মারা গেছেন। না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তি ও গিটারের যাদুকর। সত্যি কি আইয়ুব বাচ্চু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন? তাঁর গানগুলোর মাধ্যমেই আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন। আর আমার স্মৃতিতে বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া। কথা বলা। তাঁর স্নেহের সমৃদ্ধ হাসি। কিংবা কনসার্ট কাভার করার অনেক ঘটনা হৃদয়ে জ্বলজ্বল করবে।

আরও পড়ুন :

 

 

এম/পিআর                 

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়