logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

  ২৫ অক্টোবর ২০২০, ২০:১৭
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ২০:২৬

একজন প্রকৃতিপ্রেমী আলোকচিত্রীর গল্প

Fish. Photo - Mostafizur Rahman Shipt
মাছরাঙা। ছবি- মোস্তাফিজুর রহমান শিপ্ত
আমি মোস্তাফিজুর রহমান শিপ্ত, নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ছেলে, সদ্য B.Sc. সম্পন্ন করেছি apparel manufacturing and technology বিষয়ে BGMEA University of fashion and technology থেকে। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর আর ৫টা ছেলের মত আমিও চাকরিতে ঢুকে পরি। কিন্তু গার্মেন্টসের মার্চেন্ডাইজিংয়ের চাকরিটার সাথে কোনোভাবেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। আমার বসরা সবাই আমার ছবি দেখে বলত, তুমি এখানে কেন? তুমি তো অনেক ভালো ছবি তুলো! জীব বৈচিত্র্য তুলে ধরো আমাদের মাঝে!

হ্যাঁ আমি একজন আলোকচিত্রী। বিশেষ করে পশুপাখির ছবি তুলতে আমার অনেক ভালোবাসা ভালোলাগা কাজ করে। সেই ছোট থেকেই প্রকৃতি আর পশুপাখির প্রতি আমার ভালোবাসাটা প্রবল। কত পাগলামিই না করেছি এর জন্য! ছাত্র হিসেবে তেমন ভাল ছিলাম না। যখন ইউনিভার্সিটিতে উঠলাম জানতে পারলাম আমাদের রেজাল্ট ভালো করার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তখন মাথায় ছবি তোলার নেশা। আর এর জন্য চাই ভালো ক্যামেরা আর লেন্স। কিন্তু এত টাকা বাবা এখন দিলে খুব চাপ পড়ে যায় ওনার ওপর। ওনাকে চাপ দিলাম না। অনেক ভাই বন্ধুর তখন ক্যামেরা ছিল তাদেরটা ধার করে ছবি তোলা শুরু করি। তখন থেকেই শুরু করি আমার আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়া। আর মাথায় রাখি আমাকে ভালো রেজাল্ট করে টাকা জমাতে হবে।

প্রতি সেমিস্টারের রেজাল্ট ৩. ৮০ রেখে বৃত্তি পাই সেই টাকা জমিয়ে ৭ম সেমিস্টারে মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে কিনে ফেলি স্বপ্নের ক্যামেরা। কিন্তু বিধিবাম, কিছুদিন পরই আমার গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন হয়, ছুটে যাই বাস্তবতার মুখে। চাকরির জন্য ছুটোছুটি শুরু অন্যদিকে পড়ে রইলো সদ্য কেনা নতুন লেন্স ও ক্যামেরা।

ছাত্র থাকা অবস্থায় হাত খরচ বাঁচিয়ে ছুটে বেড়িয়েছি কখনো সুন্দরবন আবার কখনো রাজশাহী পদ্মার সুবিশাল চর, উত্তপ্ত গরমে বা কনকনে শীতে। দিন শেষে একটি সুন্দর ছবি সব ক্লান্তি মুছে দিত। দেশ বিদেশে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে আমার অনেক ছবি বিজয়ও ছিনিয়ে এনেছে। কিন্তু সবকিছু কেমন যেন থমকে গেল। ইচ্ছে করলেই অফিস ফেলে যেতে পারছিলাম না ছবি তুলতে। কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল ভেতর থেকে আমাকে। একবার ভাবি বিক্রি করে দেই ক্যামেরা ও লেন্স; পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। আর পারছিলাম না ছেড়ে দেই চাকরি। তুলে নেই ক্যামেরা, কিন্তু না কিছুই হচ্ছে না আগে পড়াশোনা করতাম বাসা থেকে হাত খরচ দিতো এখন তা চাইতে লজ্জা লাগে। আর বাংলাদেশে পশুপাখির ছবি তুলে ২ পয়সা আয় করবো তাও সুযোগ নেই। কিছু কাজ আছে খুব সামান্য কিন্তু তাও আমার ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবেশ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান নাই বলে সুযোগ নাই। বুঝলাম প্রতিভা দিয়ে আসলে চলে না। দিন দিন ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলাম। বাবার ব্যবসা আর নিজের প্রচেষ্টাতে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিছু ছোট ভাইদের নিয়ে একটি wedding firm দিলাম MATRIMONIO নামে। টুকটাক কিছু কাজ করছি। কিন্তু সেই মনটা পরে থাকে বনে বাদাড়ে।

জিএ

RTVPLUS