logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

থেমে আছে টিউশন অর্থনীতি, বিদ্যালয় কি খুলবে?

  হানিফ সিরাজী

|  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:১০ | আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:৩৭
Tuition (iconic image)
টিউশন (প্রতীকী ছবি)

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বেশ উত্তাল। গ্রীস-তুরস্কের রাজনীতিতে টানাপড়েন। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে তোলপাড়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন। মিছিলে মিছিলে মুখরিত হবে রাজপথ। প্রার্থী তাঁর রাজনৈতিক প্রচারণাও বেশ চালাবেন। এতে করোনার প্রভাব লক্ষণীয় নয়। জনাকীর্ণতা বেশ বাড়বে তবে থেমে থাকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নিশ্চয়তা। অনেকের দুরন্ত শৈশব আটকে গেছে লকডাউন নামক বন্দীদশায়। আবার জনসমাগম কিংবা সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই অনেকের কাছেই। থেমে আছে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ধুলোর আস্তরণ পড়েছে টেবিলে। বিদ্যালয়ের মাঠে সবুজের ছোঁয়া। হোয়াইট বোর্ডটা যেন অনেকদিন মার্কারের ছোঁয়া পায় না। 

রাজধানী ঢাকার শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন নীরব তদ্রুপ সারাদেশও। করোনার উপদ্রব দেখায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কথা বললে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যার বলেছিলেন, যদি কেউ আক্রান্ত হয় তবে আমরা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করবে। সামাজিক দূরত্ব আর লক ডাউন সবই বুঝে এরা। সম্প্রতি তারাই বেশ দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার জন্য। যুক্তি হিসেবে অনেক তত্ত্ব ও তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবার ব্যাপারে সর্বশেষ সরকারি ঘোষণায় এমনও বলা ছিল যে, কওমী মাদরাসা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে। কিন্তু কওমি মাদরাসা খুলে দেয়ার পর সেখানে কোন প্রকার আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। জনসমাগমের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে ঢাকার নিউমার্কেট কিংবা বসুন্ধরা কি বন্ধ? অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিও বন্ধ নেই। পরিবহন সেক্টরে ৬০% ভাড়া বৃদ্ধির নিয়মও উঠে গেছে। রয়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নিয়ম। রাজধানী ঢাকাতে দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ঢাবি, জাবি, জবি, বুয়েট, মেডিকেল, বুটেক্স, সাত কলেজ সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। এদের অধিকাংশই হলে থাকে। মাথার গোঁজার ঠাঁই হিসেবে যেমন হল, জীবনের ক্ষুধা নিবারণ করে টিউশন করে। অনেক শিক্ষার্থী আবার এই টিউশনের টাকায় পরিবারের হালও ধরে। 

গত ১৭ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণায়  মার্চের শেষের দিকে হল বন্ধ ঘোষণায় বিপাকে পড়ে শিক্ষার্থীরা। দেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনাবাসিক। তারা ব্যাচেলর মেসে থেকে শিক্ষাজীবন অতিক্রম করে। মাস শেষে গুনতে হচ্ছে মেস ভাড়া। কিন্তু নেই কোনো টিউশন। মেস ভাড়া জমে আছে অনেকেরই। সব বাড়িওয়ালার মানসিকতাও সমান নয়।  তাছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সবাই যে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান তাও নয়। অনেকেই টিউশন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দেয়। উন্নত জীবন আর যোগ্য নাগরিক হতে টেকনাফ কিংবা তেঁতুলিয়া থেকে আসা এ শিক্ষার্থীরা এখন কেমন আছে জানা নেই রাষ্ট্রের। যদিও এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রতিবেশীদের জন্য ত্রাণ বিলিয়েছেন টিউশনের টাকায় কিংবা স্থানীয় কোন বিত্তশালীর কাছে হাত পেতে। কিন্তু নিজে ক্ষুধার তাড়নাও অনুভব করছেন। মুখ ফুটিয়ে বলতে পারছেন না কাউকে। হলে থাকা ছেলে-মেয়েরা সমান্তরালভাবেই টিউশনের সাথে জড়িত ছিল। অনেক শিক্ষার্থীর বাবার চিকিৎসা, মায়ের ঔষধ কেনা, ছোট ভাই-বোনদের পড়ালেখার খরচ ও চালাতো। সব থমকে গেছে।

সম্প্রতি অভিভাবকদেরকে দেখা যায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ বলা হচ্ছে। আবার সরকারের দুশ্চিন্তা যদি কোন শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয় এর দায়ভার কে নেবে। এ তো শুধু টিউশনের কথা। যাকে আমি টিউশন অর্থনীতি হিসেবে বলে থাকি। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব দোকানদার ছিল তাদের পরিবারের খবরও জানা নেই। এছাড়া জানা নেই কেমন আছে দেশের কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের পারিবারিক অবস্থা। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া প্রণোদনা পেয়েছেনও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিক্ষার্থীরা প্রণোদনার আওতাধীন নন। ডিউডিএসকে দেখেছি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে। অপরদিকে দীর্ঘদিনের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে এক প্রকার হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ হতাশা থেকে আত্মহত্যা, অপরাধপ্রবণতা ও অসামাজিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ নয়। নীরব ক্ষুধার তাড়নার মাঝে সরকার মৃত্যুক্ষুধা নাকি জীবনক্ষুধার দিকে দৃষ্টি দিবে? 

লেখক: সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, মুহসীন হল ডিবেটিং ক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

জিএ

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৪৪৭৩৪১ ৩৬২৪২৮ ৬৩৮৮
বিশ্ব ৫৮৬১২৯৯৫ ৪০৫৭৫৯৪৭ ১৩৮৮৭১০
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • মুক্তমত এর সর্বশেষ
  • মুক্তমত এর পাঠক প্রিয়