logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আলুর তথ্য জানানোর চিঠি পাননি সব ডিসি

potato, market, dc
আলু
সারা দেশে হিমাগারে আলু মজুদের পরিমাণ জানতে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ডিসিদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দুই দিনের মধ্যে জেলা পর্যায়ে আলু মজুদের তথ্য চাওয়া হলেও এখনও অনেক ডিসি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। আবার যারা চিঠি পেয়েছেন তাদের অনেকের মতে, হিমাগারে আলু মজুদের তথ্য নিশ্চিত করলেও বাজার পর্যায়ে নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি ব্যয়বহুল ঢাকা শহরের তুলনায় জেলা পর্যায়ে আলুসহ অন্যান্য সবজি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। 

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্য বছর যেসব হিমাগারে ১শ টন আলু সংরক্ষণ ছিল। এবার একই হিমাগারে ২শ টন আলু মজুদ রাখলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে কমিশন। কিন্তু এখনও অনেক জেলার ডিসি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

জানা গেছে, হিমাগার থেকে নির্ধারিত দামে আলু এলেও পাইকারি এবং খুচরা বাজারে কোনও প্রভাব পড়েনি। সরকার দফায় দফায় মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও বাজারগুলোতে কমছে না আলুর দাম। গত কয়েক বছর আলুর বাজার  স্থিতিশীল থাকলেও এবাবের চিত্র একেবারেই উল্টো। বর্তমানে জেলার বাজারগুলোতে মানভেদে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। এতো চড়া মূল্যে এর আগে কখনও আলু বিক্রি হয়নি।

রাজধানীর রামপুরা, কলাবাগান, মাতুয়াইল, মিরপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখনও খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে এ সময় যেখানে সর্বোচ্চ ২০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হয়েছে, এবারে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। তারপরও এই সহজ হিসেব যেন কোনো কাজেই আসছে না, আলু নিয়ে সবখানে চলছে হাহাকার অবস্থা। এর ধকল থেকে পরিত্রাণ পেতে সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

রামপুরা বাজার করতে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, বাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি আলু কিনেছেন। আলু ছাড়াও বাজারে যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে তা ৫০ টাকার বেশি দাম।অথচ করোনাকালীন সময়ে আয় কমেছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের মনিটরিং এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দেশের জনগণ এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, দেশে হিমঘরে আলু মজুদের তথ্য নিশ্চিতে ডিসিদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিসিরা তথ্য দেবেন। কিন্তু চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন আরটিভি নিউজকে জানান বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন থেকে এখনও কোনো চিঠি তিনি পাননি।

হিমাগারে আলু মজুদের তথ্যের চিঠির বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর আরটিভি নিউজকে বলেন, হিমাগারে আলু মজুদের তথ্য জানতে কোথা থেকে চিঠি আসবে? আমি এ ধরনের চিঠি দেখিনি, আসতে পারে, আসলে দেখবো।

তিনি বলেন, বাজারে আলুর দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। খুচরা ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে বাজারে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় আলু বিক্রি হলে ভোক্তা অধিকারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম আরটিভি নিউজকে বলেন, এই জেলায় চারটি হিমাগার আছে। এসব হিমাগারে আলু মজুদের তথ্য দেয়ার জন্য চিঠি পেয়েছি। আলুর দাম মনিটরিংয়ের জন্য আমাদের ভোক্তা অধিকার ও খাদ্যের লোকজন আছে। আমরা হিমাগার মনিটরিং করছি। বাজারে আলু ও অন্যান্য সবজির দাম নির্ধারিত দামের বেশি বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে। প্রতিদিন হিমাগার থেকে কি পরিমাণ আলু বাজারে যাচ্ছে তা মনিটরিং করছি। কিন্তু পরবর্তীতে খুচরা বাজারে আলুর দাম মনিটরিং করা সম্ভব হয় না। কিছু পণ্য ঢাকার চেয়েও বেশি দামে গ্রামের বাজারে বিক্রি হয়।

তিনি আরও বলেন, পণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে কোনও ধরনের যোগসাজশ কিংবা মনোপলি আচরণ করলে প্রতিযোগিতা কমিশন বসে থাকবে না। বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তদারকি করা হবে।  আলুর ক্ষেত্রে বাজারে এক ধরনের অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

২০১৯-২০ মৌসুমে আলু উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। উৎপাদিত আলুর ৪০ লাখ টন হিমাগারগুলোতে সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে গত সপ্তাহ পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ আলু হিমাগারগুলো থেকে বের করা হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দাবি, বর্তমানে খুচরা বাজারে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৩০ টাকা এবং হিমাগারে ২৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি ৩৭১টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা ৫০ লাখ টন আছে।  

এফএ

RTVPLUS