Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

প্রচুর রক্ত থাকতো, ভয় পেতাম: আঁচল আঁখি

আঁচল আঁখি
আঁচল আঁখি

ঢাকাই ছবির লাস্যময়ী নায়িকা আঁচল আঁখি। অসংখ্য ব্যবসা সফল ছবি উপহার দিয়েছেন। অর্জন করেছেন দর্শকের আস্থা। শাকিব খান, আরিফিন শুভসহ ঢালিউডের প্রথম সারির নায়কদের সঙ্গে কাজ করেছেন আঁচল। কিস্তিমাত খ্যাত নায়িকা সবচেয়ে বেশি জুটি বেঁধেছেন বাপ্পি চৌধুরীর সঙ্গে। মাঝে ব্যক্তিগত কারণে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে ডুব মেরেছিলেন। তবে ফিরেই আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন এই সুন্দরী।

সম্প্রতি আরটিভি অনলাইন’র সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন আঁচল আঁখি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শাহজাদা সেলিম রেজা-

কেমন আছেন?

করোনার সময় আল্লাহ সুস্থ রেখেছেন, অনেক শুকরিয়া। পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো আছি। এই পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকাটাই তো বড় পাওয়া।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে বলুন?

আপাতত লকডাউনের জন্য এখন সবকিছু বন্ধ। শুটিংও বন্ধ রয়েছে। তাই হাতে কাজ থাকলেও সেগুলো করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কিছুদিন আগে ‘ঘর ভাঙা সংসার’ ছবির কাজ শেষ করেছি। এর মধ্যে ‘এক পশলা বৃষ্টি’ ছবিতেও কাজ করেছি। এছাড়া ‘রাগী’, ‘চিৎকার’ ও বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়ার ‘কর্পোরেট’, ছবির কাজ করেছি। ঈদের পর লকডাউন যদি কেটে যায় তাহলে নতুন করে কাজ শুরু হবে।

করোনা জীবনযাপন ও ক্যারিয়ারে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে?

ব্যক্তিগত-ক্যারিয়ার সবখানেই প্রভাব ফেলছে করোনাভাইরাস। করোনা না থাকলে হয়তো আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকতাম। সেখানে এখন অনেক পিছিয়ে পড়ছি। অর্থনৈতিক ও ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বরং পিছিয়ে পড়ছি। করোনার কারণে সিনেমা হলগুলো বন্ধ রয়েছে। যে কয়টা এখন চালু রয়েছে এসবও যদি বন্ধ করে তাহলে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশাল ক্ষতি হবে। ফলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। আসলে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার মতো না।

কদিন পর ঈদ উল আজহা , ছোট বেলার ঈদের স্মৃতি নিয়ে কিছু বলুন?

ছোট বেলায় খুলনার বাড়িতেই কোরবানি দেয়া হতো। আব্বা, চাচা ও দাদা-দাদি সবাই থাকতেন। আব্বা যখন কোরবানির পশু নিয়ে আসতেন সবাই তা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতাম। তবে পশু কোরবানি দেয়ার সময় আমি কখনো সেখানে উপস্থিত থাকতাম না। পশুকে জবাই দেয়ার সময় অনেকটা দূরে থাকতাম এবং দুই কান বন্ধ রাখতাম। জবাইয়ের সময় গরুর যে চিৎকার, ওর কষ্ট আমাকেও অনেক কষ্ট দিতো। এছাড়া আবার প্রচুর রক্ত থাকতো, যা খুবই ভয় পেতাম।

ছোট বেলার আর বর্তমান ঈদের ভিন্নতা কতটা?

তখন ঈদে বেশ মজা হতো। আব্বা গরু কিনতে হাটে গেলে অপেক্ষায় থাকতাম, কখন গরু নিয়ে ফিরবেন। এরপর গরু নিয়ে আসার পর বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আলোচনা হতো কাদের গরু কত বড়, কাদের গরুর দাম বেশি। এ নিয়ে অনেক কথা হতো। কিন্তু এখন আর সেই আনন্দটা নেই। বড় হয়েছি, বুঝতে পারি কোরবানি দেয়া তো আল্লাহকে খুশি রাখার জন্য। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহকে সন্তুষ্টি রাখার জন্য কোরবানি দেয়া। কোরবানির পশু ছোট-বড় কোনো বিষয় না, মূল বিষয় আল্লাহকে সন্তুষ্টি রাখা। ছোট বেলায় এই বোঝটা নিজেদের মধ্যে ছিল না। এখন সুযোগ হলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাটে যাই। আম্মুর যেটা পছন্দ হয় সেটাই নিয়ে থাকি। ঈদের দিন গরু জবাইয়ের পর মাংস কাটাকুটি থেকে শুরু করে সবই করি। গরু নিয়েই দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়।

সালামি দেয়া-নেয়া...

কোরবানির ঈদে ঐ রোজার ঈদের মতো সালামি বেশি দিতো না। সবারই একটা অর্থনৈতিক চাপ থাকতো কোরবানির পশু কেনা নিয়ে। তবে যাই পেতাম সেই অংক তখনকার সময় অনুযায়ী বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু এখন আর ছোট বেলার মতো কেউ সালামি দেয় না। বরং আমাকেই পরিবার-আত্মীয়স্বজনদের ছোটদের সালামি দিতে হয়। ছোটদের সালামি দিতে খুবই ভালো লাগে। ছোট বেলায় আমরা তো দশ টাকা, বিশ টাকা করে সালামি পেতাম। এখন যদি বাচ্চাদের পাঁচশ টাকার নোট দেয়া হয় তাহলে বলে আপু ছোটটা দিছো কেন, একটা দিলে কেন, আরও দাও। কাউকে হাজার টাকার কমে সালামি দেয়া যায় না (হাসি)।

গিফট দেয়া-নেয়া...

ঈদকে কেন্দ্র করে পরিচিতরা গিফট পাঠায়। আমি তাদের না করি। এরপরও অনেকে আছেন ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে গিফট পাঠায়। আমিও অনেককে গিফট দেই। আমার কাছে গিফট দিতেই বেশি ভালো লাগে। কাজিন, যারা ছোট রয়েছে ওদের একটা আস্থার নাম হয়ে গেছে আঁচল আপু। যে যা কিছুই গিফট পাক না কেন ওদের কাছে আঁচল আপু মানেই বিশেষ কিছু। আর আমার কাছ থেকে যেটা ওরা পায় সেটা সবার থেকে একদমই আলাদা হয়ে থাকে।

ঈদের দিন কোন খাবার সবচেয়ে বেশি প্রিয়...

এক্ষেত্রে আম্মুর হাতের সেমাই আমার সবচেয়ে পছন্দের। সকাল বেলা আম্মু যা যা প্রয়োজনীয় তা রান্না করে রাখে। আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই আগে সেমাই খাই। এছাড়া খিচুড়ি আর গরুর মাংস ভূনাও প্রিয়।

ঈদের পোশাক....

ছোট বেলায় সবসময় আম্মু পছন্দ করে পোশাক কিনে দিতেন। এখনো আম্মুই পছন্দ করে পোশাক কিনে দেন। আম্মুর পছন্দ অনেক সুন্দর। নিজের পছন্দের কথা বলতে সেলোয়ার আমার বেশি পছন্দ। তবে সবাই বলে যে, শাড়িতে আমাকে অনেক ভালো দেখায়। আম্মুও এমনটা বলে থাকেন।

নায়িকা হওয়ার আগে ও পরে ঈদের কোনো পার্থক্য চোখে পড়েছে?

এখন অবশ্যই অন্যরকম আনন্দ থাকে মনের মাঝে। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবীরা নিয়মিত খোঁজ খবর নেয়। এছাড়াও চলচ্চিত্রে কাজ করি বলে সহকর্মী, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা এবং সাংবাদিকরা খোঁজ খবর নেয়, এটাই তো বড় পাওয়া। এখন বাসায় নিয়মিত গিফট আসে। ঈদ উপলক্ষে গিফট দেয়া-নেয়া হয়। এতে আরও অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। তবে নায়িকা হওয়ার আগে ও পরে ঈদের আনন্দে অনেক পার্থক্য রয়েছে। দুইটার দুই রকম অনুভূতি।

সিনেমা হলে নিজের অভিনীত ছবি দেখার অনুভূতি নিয়ে জানতে চাই?

নিজের ছবি ঈদে মুক্তি পেলে সিনেমা হলে দেখা হয়। ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকবার ছবি দেখা হয়। নিজের ছবি ছাড়াও অন্যদের ছবি দেখি।

ঈদের মজার কোনো স্মৃতি মনে পড়ে?

একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছিলাম। তো ফ্লাইট ছিল রাত ১টায়। মালয়েশিয়া আবার আমাদের থেকে দুই ঘণ্টা এগিয়ে। আমাদের মালয়েশিয়া পৌঁছাতে ভোর ৪টা বেজেছিল। সেদিন ছিল প্রথম রমজান। ফলে প্লেনেই প্রথম সেহরি করেছিলাম। আর মালয়েশিয়াতে আমাদের এক মাসের শুটিং ছিল। শুটিং শেষে আমি মালয়েশিয়া ঈদ উদযাপন করলাম। আমাদের সঙ্গে স্থানীয় অনেকেই ছিলেন। এর থেকেও মজার বিষয় হলো, সেদিন রাতেই মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে চলে আসি। এরপর আবার বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন করি। এটা আমার কাছে ভিন্ন রকম এক অভিজ্ঞতা।

এসআর/এম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS