Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

আমরা সবাই শ্রমিক, আমি কণ্ঠশ্রমিক: মনির খান

আমরা সবাই শ্রমিক, আমি কণ্ঠশ্রমিক: মনির খান
আমরা সবাই শ্রমিক, আমি কণ্ঠশ্রমিক: মনির খান

সংগীতশিল্পী মনির খান ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শ্রোতাপ্রিয় গান গেয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন কোটি বাঙালির হৃদয়ে। ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করে দুই যুগ পেরিয়ে এখনো শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয় এই শিল্পী। ৪৩টি একক অ্যালবাম এবং তিনশতাধিক দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে তার। পাশাপাশি চারশ’টিরও বেশি চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন। এছাড়াও রয়েছে কয়েকশতাধিক একক মিউজিক ভিডিও। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ ও দেশের বাইরে থেকেও অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গুণী এই শিল্পী। সম্প্রতি আরটিভি অনলাইন’র সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহজাদা সেলিম রেজা-

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, কীভাবে সময় কাটছে?

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ এই পরিস্থিতিতে ভালো রেখেছেন। ভালো আছি এটাই অনেক বড় ব্যাপার। এছাড়া করোনার শুরু থেকেই আমি গান করছি। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১০০ গানের একটি প্রজেক্ট ঘোষণা করেছিলাম। তার ৮০টির মতো গান প্রায় শেষ। রেকর্ডিও শেষ। ৫০-৬০টির মতো গানের শুটিংও শেষ। বাকী গানগুলো নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি ২০২১ সালের মধ্যে প্রজেক্টটি শেষ করব। গানগুলো আমার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কতটা প্রভাব ফেলছে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে?

শুধু গান নয়, সব ক্ষেত্রেই আঘাত ফেলেছে করোনাভাইরাস। সব দিকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। এটা আয়নার মতো স্পষ্ট যে, করোনার তাণ্ডবে সারা বিশ্বই থমকে গেছে। যোগাযোগ নেই, স্বাভাবিক চলাচলের কোনো সুযোগ নেই, সুস্থ জীবন-যাপনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সবসময় একটা আতঙ্ক থাকছে মনের মধ্যে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

করোনা সচেতনতায় গান করেছেন কি?

করোনাভাইরাস নিয়ে জনসচেতনতায় গত বছরের মাঝামাঝিতে একটি গান করেছি। তারপরও চেষ্টা করেছি গান করার কিন্তু করা হয়নি। করোনা তো একটাই শব্দ, এটা মহামারি-প্রাণঘাতী। নতুন করে গান করা নিয়ে ভেবেছি। লোমহর্ষক বা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য বার্তা না আসা পর্যন্ত কিছু করব না।

২৫ বছরের সংগীত সময়ে এখনো শ্রোতা হৃদয়ে একই অবস্থানে রয়েছেন। এর পেছনে রহস্যটা কী?

মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমারসহ গুণী শিল্পীদের গানগুলো দূরে শুনলেও আমরা বুঝতে পারি এটা কার গান, কে গেয়েছে। শ্রোতামহলে এই অবস্থান তৈরি করতে অনেক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়েছে। আমার দিক থেকে যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করি সবসময়। গানের কথা, সুর সবকিছু সার্বিকভাবে প্রয়োজনে সময় নিয়ে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। এখনো কিঞ্চিৎ পরিমাণ দায়িত্বে অবহেলা করিনা আমি। আমার প্রতিটি গান লেখা এবং সুরের সময় আমি নিজে উপস্থিত থাকি। এছাড়া শ্রোতাদের কথা ভেবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করেছি। শ্রোতারা আমার পরিশ্রমকে ভালোবেসে গ্রহণ করেছে, তাদের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে। আমি শ্রোতাদের কাছে ঋণী, তাদের ভালোবাসায় মুগ্ধ।

নিজেকে কণ্ঠশ্রমিক পরিচয় দেন। এ বিষয়ে জানতে চাই...

আল্লাহ আমাদের যাকে যে পেশাতেই রেখেছেন না কেন আমরা সবাই শ্রমিক। প্রতিটি মানুষই শ্রমিক। যিনি শিক্ষকতা করেন তিনি মেধা শ্রম দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেন, যিনি মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ পড়ান তিনিও শ্রম দিচ্ছেন, যিনি ব্যবসা করেন তিনিও শ্রম দিচ্ছেন; সবাই তো শ্রম দিচ্ছি। আল্লাহ আমাকে কণ্ঠ দিয়েছেন আমি গান করছি; তাই আমি কণ্ঠশ্রমিক। পেশাকে বা ব্যক্তিকে না দেখে সবাইকে মানুষ হিসেবে দেখি আমি। কাউকে ছোট-বড় করে দেখার কিছু নেই। আমার কাছে প্রতিটি মানুষই সমান।

সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে আপনার...

আমি সবসময় মানুষের সুখ-দুঃখ-অস্বস্তি কিংবা তাদের মনের কথাগুলো গানে গানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার কাছ থেকে যদি মানুষের মনের কথা প্রকাশ পায় তাহলে ঐ মানুষটি বলবে, মনির খান আমার মনের কথা বলেছে। সেটা হতে পারে প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ, আধ্যাত্মিক, জীবনমুখী কিংবা ধর্মীয় গান। সবদিক থেকেই আমি শ্রোতাদের কথা তুলে ধরতে চেয়েছি গানে গানে। এছাড়া গানের কথায় শব্দ বা ভাষার ব্যবহারে বেশ সতর্ক থাকি আমি।

মনির খান মানেই মানুষের আবেগ-অনুভূতি আর সুখ-দুঃখের ইমেজ। এ নিয়ে কিছু বলবেন?

এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। মানুষের সুখ সামান্য সময়ের কিন্তু দুঃখটাই মানুষ বহন করে বেশি। দুঃখের সময় সঙ্গী পাওয়া যায় না। দুঃখকে আপন মনে ভুলে থাকতে চায় সে জন্য মনির খানের গান শুনে। নীরবে-নিভৃতে চোখের পানিতে বালিশ ভিজছে, অথচ কেউ কারো কথা শুনে না। এই সময় তার আপন মনের নীরব সঙ্গী কিন্তু মনির খানের গান। গানে গানে শ্রোতা তার নিজের আবেগ-অনুভূতিকে মিলিয়ে নিচ্ছে।

সিনেমা এবং অডিও দুই অঙ্গনেই আপনি তুমুল জনপ্রিয়। ব্যক্তি মনির খানের পছন্দের জায়গা কোনটি?

পছন্দ-অপছন্দ ভাগ করতে পারি না। পানি কখনো কেটে দু’ভাগ করা যায় না। শ্রোতাদের দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি না আমি। পেশার বিভিন্ন দিক থাকতে পারে কিন্তু কোনোটাকে কোনোটার সঙ্গে সাংঘর্ষিক করতে পারি না। সব দিক থেকেই শ্রোতাদের কাছে আমি মনির খান, আর আমার কাছে সব শ্রোতাই এক।

আপনার পরিবার নিয়ে ভক্তদের জানার কৌতূহল রয়েছে?

অনেকে মনে করে অঞ্জনার প্রতি আমার সাংঘাতিক দুর্বলতা আছে। তাকে এখনো পুষে রেখেছি, স্মৃতি চারণ করি। তার খন্ড খন্ড চরিত্রগুলো গানের মাধ্যমে তুলে ধরি- এসব থেকে অনেকে ধারণা করেন বা করেছিলো যে মনির খান বিয়ে করেনি বা করবে না। মানুষ হিসেবে ধর্মীয় এবং পারিবারিক কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে আমাদের সবার। ব্যক্তিগত জীবনে আমি বিবাহিত। স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে আল্লাহ’র রহমতে অনেক অনেক ভালো আছি। আল্লাহ’র কাছে সবসময় শুকরিয়া আদায় করি আমি। সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় আল্লাহ বেশ সুখেই রেখেছে আমাকে।

এসআর/

RTV Drama
RTVPLUS