logo
  • ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মৌসুমীরা হারে শেষ হয়ে যায় না

সজল অনিরুদ্ধ, আরটিভি অনলাইন
|  ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩০ | আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩৮
মৌসুমী
নির্বাচনের রাতে ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করছেন মৌসুমী
মৌসুমীরা হারে কিন্তু শেষ হয়ে যায় না। কেন শেষ হয়ে যায় না? কারণ মৌসুমীর মতো দৃঢ়প্রত্যয়ী মানুষেরা স্রোতের প্রতিকূলে লড়াই করে হেরে গেলেও অনাগত ভবিষ্যতের জন্য পদচিহ্ন রেখে যায়।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রায় শতাধিক ভোটের ব্যবধানে খল অভিনেতা মিশা সওদাগরের কাছে হেরে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমী। পরিসংখ্যান হয়তো চিরদিন একথাই বলবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কোনোদিন জানবে না এই ছোট্ট নির্বাচনটিতে কতোটা স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতার কাটতে হয়েছিল মৌসুমীকে। এজন্য একটু ফ্লাসব্যাক করতেই হচ্ছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই শোনা গিয়েছিল বিশাল এক তারকাসমৃদ্ধ প্যানেল নিয়ে দাঁড়াবেন প্রিয়দর্শীনি এই নায়িকা। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেয়ার আগের দিন থেকেই কোনও এক অদৃশ্য কারণে অন্য প্রার্থীরা সরে দাঁড়ান। যে কারণে গেল তিন অক্টোবর শুধুমাত্র স্বামী ওমর সানীকে নিয়েই বিএফডিসির নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয় মৌসুমীকে।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর
---------------------------------------------------------------

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে এসে অনেকটা হতাশা নিয়েই মৌসুমী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা আমাকে সভাপতি করে প্যানেল তৈরিতে পরামর্শ, সাহস দিয়েছিলেন তারা সরে গেছেন। নির্বাচনে আমার সঙ্গে কেউ নেই।’

শুধু অন্যদেরকেই নয়, মৌসুমীকেও বড় বড় জায়গা থেকে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু অসহায় শিল্পীদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মৌসুমী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। শুরু হয় মৌসুমীর একা একা নির্বাচনী পথচলা।

তবে সময় যতো গড়িয়েছে, একা মৌসুমীকেই ভয় পেতে শুরু করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। গেল ১৪ অক্টোবর প্রিয় এফডিসিতেই লাঞ্চনার শিকার হন তিনি। জানা যায়, সেদিন নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তিনি এফডিসিতে গেলে মিশা-জায়েদ প্যানেলের সমর্থক বলে পরিচিত ড্যানি রাজ তাকে অপমান করেন। এতে হতবাক মৌসুমী ঘটনাস্থলেই কেঁদে ফেলেন। পরে অবশ্য ড্যানি রাজ তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান।

তবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বিনোদন সাংবাদিকদের মাধ্যমে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে একছত্র আধিপত্য নিয়েই জয়লাভ করবে মিশা-জায়েদ প্যানেল। এর কারণ হিসেবে বিগত কমিটির পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের কথাই উঠে এসেছে। মিশার পক্ষের লোকজনের ভাষ্য, গেল দুই বছরে শিল্পী সমিতির জন্য অনেকগুলো ইতিবাচক কাজ করেছে এই প্যানেল। সেইসঙ্গে অবহেলিত শিল্লীদের জন্য ফাণ্ড তৈরি করেছে তারা। কিন্তু বিপক্ষ দলের ভাষ্য, এই দুই বছরে মিশা-জায়েদ শিল্প সমিতিতে একক আধিপত্য বিস্তার স্থাপন করেছেন। তারা সমিতির অন্য সদস্যদের তেমন পাত্তা দেননি।

তাদের এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে নির্বাচনের দিন। চিত্রনায়িকা পপি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভোট দিতে এসেছি। আমরা একটি দালাল, দুর্নীতি ও রাজনীতিমুক্ত এফডিসি চাই।’ নিজের এই বক্তব্যের সপক্ষে পপি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি ঘিরে দালালি, রাজনীতি আর দুর্নীতি দেখে আসছি। এটা আমাদের শিল্পীদের জন্য চরম অসম্মানের।’ পপি বিদায়ী কমিটির নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের দুর্নীতির সঙ্গে জড়াতে পারিনি বলে আমাদের মিটিংয়ে ডাকা হতো না।’ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি চাই, যেখানে কোনও শিল্পীর দুস্থ তকমা থাকবে না। বিদায়ী কমিটি এই শিল্পী সমিতির অনেক সদস্যকে দুঃস্থ শিল্পী বানিয়েছে। সেটা আমরা চাই না।

পপির মতো মৌসুমী ভক্তরাও চেয়েছিলেন শিল্পী সমিতিতে নতুন একজন সভাপতি হোক। কিন্তু সেটা হয়নি। নির্বাচনে মৌসুমীর ভরাডুবি হয়েছে বলেই বলা যায়। এ ভরাডুবির ময়নাতদন্ত হলে হয়তো অনেক তথ্যই বেরিয়ে আসবে। কিন্তু পরাজয়ের পরও মৌসুমী সকলের মন কেড়েছেন। স্বয়ং নবনির্বাচিত সভাপতি মিশা সওদাগর মৌসুমীর সাহসের প্রশংসা করেছেন।

মৌসুমী হেরে গেছেন। কিন্তু একটি নতুন পদচিহ্ন রেখে গেছেন। যে পদচিহ্ন ধরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই নির্বাচনে অন্য নারীরাও সভাপতি  প্রার্থী হবেন। ভবিষ্যতে হয়তো চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি পাবে নারী নেতৃত্ব। যার সূচনা করেছেন চিরসুবুজ নায়িকা মৌসুমী। এখানেই মৌসুমী নির্বাচনে দৌড়ে হেরেও এক প্রথা ভাঙার নজির স্থাপন করেছেন। এজন্যই মৌসুমী অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে থাকবেন।

আরো পড়ুন

জেবি/এম

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিনোদন এর সর্বশেষ
  • বিনোদন এর পাঠক প্রিয়