logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বাউল হারানোর ১০ বছর

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:১৪ | আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৩০
শাহ আব্দুল করিম মৃত্যুবার্ষিকী
বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। ফাইল ছবি
২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। আজ তার চলে যাওয়ার দশ বছর পূর্ণ হলো। আজও তিনি বেঁচে আছেন গানে গানে, চিন্তায় ও চেতনায়।

বাংলা লোক সংগীতকে যিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বাসীর কাছে তিনি তুলে ধরেছেন নিজস্ব দর্শন। সমাজ, পরিবেশ ও জীবনকে যিনি গানের মাধ্যমে বেঁধেছেন। আর তা অন্য জীবনকেও স্পর্শ করেছে।

ভাটি অঞ্চলের  প্রাণপুরুষ বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। তার জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের কালনী নদীর তীরে। নানা অভাব-অনটন, দুঃখ-দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এ বাউল এক সময় সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা চষে বেড়িয়েছেন। আর কালে কালে মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে তা নিয়ে গান রচনা করেছেন। এই গানে যেমন ছিল আনন্দ তেমনি ছিল জীবন সংগ্রামের প্রেরণা। আর এ কারণেই তাকে দেওয়া হয়েছে ‘বাউল সম্রাটের’ মর্যাদা।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাউল গানের এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। দুঃখ-দুর্দশা তার পরিবারকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল যে প্রতিবেলার খাবার যোগান দিতেও তার বাবার কষ্ট হত। তাই সুযোগ হয়নি লেখাপড়া করার। নাইট স্কুলে কয়েকদিন পড়েছিলেন এ বাউল সাধক। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হওয়ার তার ওপর চাপটা বেশি ছিল। এজন্য তিনি চাকরিতে যোগ দেন। তিনি ঈদের দিনেও ছুটি পেতেন না। দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আব্দুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই।

জীবনের দুঃখকে উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন,

‘মনের দুঃখ কার কাছে জানাই মনে ভাবি তাই

দুঃখে আমার জীবন গড়া তবু দুঃখরে ডরাই।‘

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :এসেছে ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’ ছবির ট্রেলার (ভিডিও)
---------------------------------------------------------------------

জীবদ্দশায় তিনি রচনা করেছেন পাঁচ শতাধিক গান। বিভিন্ন স্তরের গান লিখেছেন ও সুর করেছেন তিনি। নিগূঢ়তত্ত্ব, ভক্তিগীতি, দেহতত্ত্ব, বিচ্ছেদ, ধর্মীয় গীতি, প্রণয়গীতি, জারি, সারি, ভাটিয়ালী, জীবন তত্ত্ব, প্রেম, জাগরণের গান, আঞ্চলিক, ও দেশের গানসহ বাউল জগতের প্রতিটা পর্যায়ে তার গানের ছোঁয়া আছে। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আছে- বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না, রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না, তুমি রাখো কিবা মারো, ঝিলঝিল ঝিলঝিল করেরে ময়ুরপংখী নাও, তোমার কি দয়া লাগে না, আমি মিনতি করিরে, তোমারও পিরিতে বন্ধু ইত্যাদি।

বাউল শাহ আবদুল করিমের কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো হলো- আফতাব সঙ্গীত, গণ সঙ্গীত, কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে, শাহ আব্দুল করিম রচনাসমগ্র।

বাউল শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক পান। বাংলা একাডেমি তার দশটি গানের ইংরেজি অনুবাদও প্রকাশ করেছে। এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে আছে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আজীবন সম্মাননা, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস আজীবন সম্মাননা, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি সম্মাননা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা ইত্যাদি।

জিএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিনোদন এর সর্বশেষ
  • বিনোদন এর পাঠক প্রিয়