• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫

সমস্যা সমাধানে ধূমপানকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে দেবী চলচ্চিত্রে

আরটিভি অনলাইন
|  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২২
ছবি: সংগৃহীত
সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ধূমপানকে প্রাধান্য দিয়ে দেবী চলচ্চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তামাক বিরোধী বেশ কয়েকটি সংগঠন। অকারণে বার বার সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য দেখানোয় দেবী সিনেমার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন তারা।

আজ রোববার ১০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই ছবিটির প্রদর্শন বন্ধের দাবি জানান ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ ১৭টি সংগঠনের বক্তারা। 

এসময় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘সিনেমাটি দেখে মনে হয়, যাবতীয় ভালো কাজের পেছনে আছে ধূমপান। ধূমপান করলে মাথা খোলে। এর বাইরে অন্য কিছু নেই। তামাকের এই ধরনের উপস্থাপন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অবিলম্বে ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ করতে হবে।’

লিখিত বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, দেবী সিনেমাতে সরাসরি জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের উইনস্টন ব্রান্ডের সিগারেট ব্যবহার দেখানো হয়েছে। যা চলচ্চিত্রটিকে তামাকের বিজ্ঞাপনে পরিণত করেছে। আইন অনুসারে সতর্কবাণী না দেখিয়ে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই সিনেমাতে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কমপক্ষে ১২ বার ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

আগামী ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশীয় একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ও বায়োস্কোপ অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দেবী চলচ্চিত্রের ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রটি আইন মেনে প্রদর্শনে বাধ্য করার জন্য অনুরোধ জানান বক্তারা।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫-এর ৫(ঙ) ধারায় ‘বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত বা লভ্য ও প্রচারিত সিনেমা, নাটক এবং প্রামাণ্যচিত্রে ধূমপান ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্য ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

তবে সিনেমার কাহিনীর প্রয়োজনে ধূমপানের দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করা হলে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণের জন্য ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১৫ দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সতর্কীকরণ বার্তা জুড়ে দেয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, এসিডি, ইপসা, ব্যুরো অব ইকনোমিক রিসার্চ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নাটাব, প্রত্যাশা, টিসিআরসি, তাবিনাজ, সুপ্র, বিটা, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, বিসিসিপি, এইড ফাউন্ডেশন এর মত তামাক বিরোধী ১৭টি সংগঠনের কর্মকর্তা ও কর্মীরা।

 

জিএ/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়