logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

ফিল্ম ক্যারিয়ারে এমন নোংরামি দেখিনি : ওমর সানী

একসময়ের সাড়া জাগানো চিত্রনায়ক ওমর সানী। বহু হিট সুপার হিট ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। গেলো দু'বছর ধরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অসুস্থ -বিপদগ্রস্ত শিল্পীদের সহযোগিতায় সবসময় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন 'কুলি' খ্যাত এ নায়ক। ৫ মে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়ছেন তিনি। নির্বাচন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন ওমর সানী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এ এইচ মুরাদ

আরটিভি অনলাইন : এবারের নির্বাচনে প্রচারণার ধরন কেমন?

ওমর সানী : অনেকেই বলেছেন শিল্পীদের জন্য জমি করে দেব, আবাসন ব্যবস্থা করে দেব। আমি হিসেব করে দেখলাম, এত কিছু আমার পক্ষে করে দেয়া সম্ভব না। এত পড়ালেখাও আমার নেই! তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনো শিল্পী যদি সমিতির নামে ৫০ লক্ষ টাকা দেন। তবে আমি সভাপতি নির্বাচন করবো না! কারণ আমি তো এত টাকা দিতে পারব না। কেউ যদি শিল্পীদের জন্য ৫০ লাখ টাকা দেন, তবে তারই সমিতির দায়িত্ব নেয়া দরকার। আমি সেটাই মনে করি।  

আরটিভি অনলাইন : কারা এমনটা করছেন?

ওমর সানী : আমি কারো নাম উল্লেখ করতে চাই না। তবে দীর্ঘ ২৭-২৮ বছরের ফিল্ম ক্যারিয়ারে এমন নোংরামি কখনো দেখিনি। শিল্পীদের নির্বাচনে রাজনৈতিক বা অন্যান্য বাইরের প্রভাব আশা কতটা যৌক্তিক তা আমি জানিনা। নিজের প্যানেলের কোনো কাউকে জোর করে প্রার্থী করিনি। কিন্তু এমন ঘটনাও ঘটেছে, আমার প্যানেলে নির্বাচন করার কথা, কিন্ত পরে আর কথা রাখেননি। এক্ষেত্রে বাইরের চাপ ভূমিকা রেখেছে বলে শুনেছি। ক্যারিয়ারে অনেক হিট সুপারহিট ছবি রয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে কখনো অহংকার করিনি। মনে আছে বিয়ের সময় শুধু মাত্র ব্যান্ডপার্টি বাজিয়েছিলাম। জন্মদিন কিংবা অন্য যেকোনো উৎসবে ব্যান্ড পার্টি বাজাইনি। শিল্পীদের মধ্যে এ রাজনীতি বা বিভাজন কারা আনছেন তা দেখা দরকার। 

আরটিভি অনলাইন : সভাপতি নির্বাচিত হলে আপনি কী ভূমিকা রাখবেন?

ওমর সানী : চলচ্চিত্রে যে সমস্যা বা খাদের তৈরি হয়েছে তা আমি একা বা শিল্পী সমিতি কিংবা পরিচালক সমিতি সমাধান করতে পারবে না। এ সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এমন একটা সিস্টেম করতে চাই যেন বাইরের শিল্পীরা অবাধে কাজ করতে না পারে। কোন বিদেশি শিল্পী শুধু পরিচালক সমিতির অনুমতি নিলেই হবে না, এদেশে কাজ করতে হলে শিল্পী সমিতির অনুমতি লাগবে। যৌথ প্রযোজনার ছবি হলে একটা ফান্ড শিল্পী সমিতিকে দিতে হবে। 

আরটিভি অনলাইন : সভাপতি হিসেবে শাকিব খান কতটা সফল?

ওমর সানী : পর পর দু'বছর শিল্পী সমিতির সভাপতি ছিলেন শাকিব খান। সে সফল নাকি ব্যর্থ আমি বলব না। তবে একজন সাধারণ শিল্পী হিসেবে সভাপতিকে যতটা সময় তাকে পাবার কথা ছিল সেটা আমরা পাইনি। হতে পারে তার ব্যস্ততার কারণেও হতে পারে তার ইচ্ছার অভাবে। 

আরটিভি অনলাইন : নির্বাচিত হলে প্রথম পদক্ষেপ কী হবে?

ওমর সানী : প্রথম কাজ হবে, অসু্স্থ বা বিপদগ্রস্ত শিল্পী জন্য একটা বড় ফান্ড তৈরী করা। এজন্য দেশীয় তারকাদের নিয়ে দেশব্যাপী বড় কয়েকটি শো' করা হবে। কোনো শিল্পী যেন শিডিউল জটিলতায় না পড়েন, দরকারি পদক্ষেপ নেবে শিল্পী সমিতি। শিল্পীরা যাতে প্রাপ্য সম্মানী পান, সেদিকেও নজর রাখা হবে। কোনো শিল্পী মৃত বা পঙ্গু হলে তার পরিবারকেও সহযোগিতা করবে সমিতি।

আরটিভি অনলাইন : এবার মৌসুমী আরো বড় দায়িত্বে প্রার্থী হচ্ছেন না কেন?
 
ওমর সানী : মৌসুমী সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন না কেন, এটা সবার প্রশ্ন। আসলে মৌসুমী নিজেই নির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ করতে চান। কারণ, আমাদের ছোট্ট একটা পরিবার আছে। এর সব কিছুই তাকে দেখতে হবে। সন্তানদের সময় দিতে হয়। এছাড়া বছর ব্যাপী টানা কর্মব্যস্ততা থাকে। জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় বড় দায়িত্ব না নেয়াটাই উচিত বলে সে মনে করেছে।  

আরটিভি অনলাইন : জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

ওমর সানী : এবারের নির্বাচনে আমাদের প্যানেলে সাংগঠনিক বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়েছি। প্যানেলে যাদের রাখা হয়েছে, প্রত্যেকে দায়িত্ব পালনে যোগ্য। সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। 

এইচএম/এসজে

RTV Drama
RTVPLUS