Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮

আরটিভি নিউজ

  ১২ মে ২০২১, ১৭:২২
আপডেট : ১২ মে ২০২১, ১৭:২৮

মারিয়া নূরের মায়ায় পড়েছেন তাহসান

মারিয়া নূরের মায়ায় পড়েছেন তাহসান

মায়া নামের মেয়েটি রিকশায় যাওয়ার সময় একজন মুখোশ পড়া ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ছিনতাই করে। এসময় মায়া রিকশা থেকে পড়ে যায়। ঠিক তখনই পিছে থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস মায়াকে চাপা দেয়। রক্তাক্ত মায়াকে ঘিরে ভিড় করে রাস্তার পথচারীরা।

এরপর আমরা গল্পে কয়েক বছর পরের দৃশ্যে চলে যাই। একদিন সকালে জামাল ঘুমিয়ে আছে। দোকানে যাওয়ার জন্য মায়া তাকে ঘুম থেকে ডাকে। জামাল উঠতে চায় না। মায়া তাকে জোড় করে। এসময় আমরা স্বামী-স্ত্রীর মধুর খুনসুটি দেখি। আমরা আরো দেখি মায়া হাঁটতে পারে না। সে হুইলচেয়ার ব্যবহার করে চলাফেরা করে। কিন্তু তারপরও মায়া আর জামালের সংসারে ভালোবাসার কমতি নেই।

এরপর দেখা যায়, জামালের একটি চায়ের দোকান রয়েছে। সেখানে জামালের পাশাপাশি জসিমও কাজ করে। একটু কূট প্রকৃতির জসিমের তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকে। জামাল তার কর্মচারী জসিমকে শাসন করে পাশাপাশি সু পরামর্শও দেয় স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করার জন্য।

এদিকে জামালের পরিবারে দেখা যায়, তার স্ত্রী মায়া ছাড়াও জামালের খালাও তাদের সাথেই থাকেন। জামালের সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্কে কোন রকম টানাপোড়েন না থাকলেও মায়ার সাথে খালার সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন। জামালের খালা মায়াকে দুচোখে দেখতে পারে না। মায়াকে দেখতে না পারার একটিই মাত্র কারণ, আর তা হচ্ছে মায়া হাটঁতে অক্ষম। এজন্য খালা সবসময় মায়াকে কথা শোনায় আর অবজ্ঞা করে। এতে মায়া প্রচন্ড কস্ট পায়। সে জামালের কাছে তার দুঃখের কথা জানায়। জামাল খালাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও খালা কোনভাবেই বোঝে না, বুঝতে চেষ্টাও করে না। আবার জামালও খালাকে বেশি কিছু বলতে পারে না কারণ অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার পর থেকে খালা জামালের মায়ের কাছেই থাকত। বাবা হারানো জামালকে তার মা আর খালাই বড় করেন। মা মারা যাওয়ার পর খালাই জামালের সব। কিন্তু এতকিছুর পরেও জামাল আর মায়ার ভালোবাসার মধ্যে কোন কমতি নেই।

এরমধ্যেই একদিন জামাল দোকানে জসিমের সাথে কাজ করার সময় জামালের কাছে মায়ার ফোন আসে। জামাল অস্থির হয়ে জসিমকে দোকানের কাজ বুঝিয়ে দিয়ে বাড়িতে ছোটে। বাড়িতে যাওয়ার পর দেখে খালার পায়ে গরম পানি পড়ে খালার পা পুড়ে গেছে। মায়া জানায় খালা গোসলের জন্য গরম পানি চাইলে সে গরম পানি হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়ার সময় খালা এসে তার সামনে পড়ে, এসময় অনিচ্ছাকৃতভাবে খালার পায়ে গরম পানি পড়ে তার পা পুড়ে যায়। কিন্তু খালা এটা নিয়ে হুলুস্থুল বাধিয়ে দেয়।

জামাল খালার কাছে মাফ চাইলেও সে কোন কথাই শোনে না। খালা মায়াকে অপয়া, ডাইনী বলে প্রলাপ করতে থাকে। এরপর দেখা যায় খালা জামালের বাড়ি ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জামাল খালাকে আটকাতে গেলে খালা জানায় মায়ার মত অপয়া মেয়ের সাথে তার থাকা সম্ভব না। মায়ার উপর বদ জ্বিনের আছড় আছে। জামাল যখন খালাকে কোনভাবেই বোঝাতে পারছিল না, তখন জামাল খালাকে জানায় মায়ার হাঁটার সামর্থ্য হারানোর কারন।

আমরা আবার ফিরে যাই কয়েকবছর আগে গল্পের ঠিক শুরুতে। ফ্ল্যাশব্যাকে দেখতে পাই, ছিনতাইকারী ছিনতাই করার পর যখন মায়া রিকশা থেকে পড়ে যায়, তখন চিল্লাচিল্লির শব্দে ছিনতাইকারী পিছনে তাকায়। ছিনতাইকারী মুখোশ খোলার পর আমরা দেখি জামালকে। সে মায়ার কাছে যেয়ে অ্যাম্বুলেন্স অ্যাম্বুলেন্স করে চিৎকার করতে থাকে।

এরপর আবার আমরা বর্তমানে ফিরে আসি। জামাল জানায়, তার ছিনতাই করার সময়ের দুর্ঘটনার জন্যই আজ মায়ার এ অবস্থা। খালা জানতে চায় সে কেন ছিনতাই করতে গিয়েছিল? জামাল তখন খালাকে তার মায়ের অসুস্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, আর সেই সাথে মনে করায় মায়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের কথা। এবার মায়া কান্না করতে করতে জানায়, করুণা করে জামাল তাকে বিয়ে করেছে। সে আর করুণার পাত্রী হতে চায় না। মায়া বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে থাকে। তখন জামাল মায়াকে থামায় এবং মায়াকে জানায় সে তাকে করুণা করে বিয়ে করে নি। তার প্রতি জামালের আছে শুধু মায়া আর ভালোবাসা।

এমনই মায়ার সম্পর্কের মধুর দৃশ্যের মাধ্যমে শেষ হয় ‘মায়া’ নাটকের গল্প। মাবরুর রশিদ বান্নাহ’র পরিচালনায় এতে জুটি বেঁধেছেন তাহসান খান এবং মারিয়া নূর। এছাড়াও আছেন শামীমা নাজনীন প্রমুখ। ঈদের ৫ম দিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে আরটিভিতে প্রচার হবে একক নাটক ‘মায়া’।

এনএস

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS