logo
  • ঢাকা রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭

যেসব শর্তে সিনেমা হলের হাজার কোটি টাকার ঋণ মিলবে

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক হাজার কোটি টাকার একটি ‘বিশেষ’ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ, সংস্কার ও আধুনিকায়নে কম সুদে ঋণ দেয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ভাষ্য, এ ঋণ নিতে হলে কিছু নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

আজ বুধবার (৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ এ সংক্রান্ত্র নীতিমালা জারি করেছে।

সেখানে বলা হয়, এ স্কিমের অধীনে আগ্রহী তফসিলি ব্যাংকগুলোকে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশনের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে।

এছাড়া গ্রাহকের চূড়ান্ত ঋণ মঞ্জুরির পূর্বে ব্যাংকগুলো অফ-সাইট সুপারভিশনের কাছ থেকে তহবিল পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হবে।

ঋণ মঞ্জুরি ও বিতরণ সম্পন্ন করে অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে পুনঃঅর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।

ব্যাংক থেকে প্রথম কিস্তির তারিখ থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়নের মেয়াদ ও গ্রেস পিরিয়ড হিসাবায়ন করা হবে।

পুনঃঅর্থায়নের অর্থ প্রথম কিস্তির মেয়াদ হতে এক বছর সময়সীমার মধ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে আরোপিত সুদ ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সমভাবে বণ্টনপূর্বক আদায় করা হবে।

সুদসহ পুনঃঅর্থায়নের অর্থ ২৮টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের টাকা চলতি হিসাব বিকলনের মাধ্যমে আদায় করা হবে।

স্কিমের আওতায় নেয়া অর্থ মেয়াদের আগে সম্পূর্ণ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ কাটা হবে না এবং তফসিলি ব্যাংকও গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। ব্যাংক কর্তৃক আংশিক সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে না।

স্কিমের আওতায় নেযা অর্থের উপর সাধারণভাবে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ আরোপ ও আদায় করা হবে। তবে, মেয়াদের আগে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ত্রৈমাসিক ভগ্নাংশের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার পূর্বদিন পর্যন্ত দৈনিক ভিত্তিতে সুদ আদায় করা হবে।

বিতরণকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গ্রাহকের সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য সহযোগিতার বিষয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে গৃহীত অঙ্গীকারনামা নিতে হবে।

আর ঋণ মঞ্জুরীর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তসহ চিফ রিস্ক অফিসারের সম্মতিপত্রের অনুলিপি ও মঞ্জুরিপত্র।

গ্রাহকের সবশেষ সিআইবি প্রতিবেদনের অনুলিপি।

অর্থ বিতরণের প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের সত্যায়িত অনুলিপি।

স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষরকারী ব্যাংককে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে চতুর্থ মাসের ১৫দিনের মধ্যে গ্রাহকের ব্যবসার সবশেষ পরিস্থিতি (প্রকল্প বাস্তবায়নের অবস্থা, ব্যবসায়ের আয় পরিস্থিতি এবং ব্যাংকের দায় পরিশোধ ইত্যাদি) প্রতিবেদন অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে দাখিল করতে হবে।

এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ, সংস্কার ও আধুনিকায়নে কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে।

সাধারণভাবে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো ব্যাংক রেটে (বর্তমানে যা ৪ শতাংশ) ঋণ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করে।

করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ঘোষণা করেছে, গ্রাহক পর্যায়ে তার সর্বোচ্চ সুদহার হচ্ছে ৫ শতাংশ।

তবে কোভিড-১৯ এর আগে সাধারণত গ্রাহক পর্যায়ে এ ধরনের তহবিল থেকে গ্রাহকরা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পেত।

গত বছরের এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর নিজেদের অর্থে দেওয়া ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এ কারণে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুদহার এর চেয়ে অনেক কম হবে।

এম

RTV Drama
RTVPLUS