logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭

ধর্মীয় বিতর্কে জড়ালেন অভিনেত্রী সায়নী

সায়নী ঘোষ,
সায়নী ঘোষ।

তথাগত রায় ও সায়নী ঘোষের টুইট-যুদ্ধ এবার আইনে মোড় নিলো। কলকাতার অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন প্রবীণ রাজনীতিক তথা ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ের সাবেক রাজ্যপাল।

কলকাতার সংবাদমাধ্যম জানায়, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন তথাগত। হিন্দু ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করার দায় এখন সায়নীর ঘাড়ে।

তথাগত রায় তার টুইটার প্রোফাইলে অভিযোগ পত্রের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেই সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি গ্রাফিক শেয়ার হয়েছিল। একটি শিবলিঙ্গের ছবি। তাতে কন্ডোম পরাচ্ছে এক মহিলা। গ্রাফিক থেকে বোঝা যাচ্ছে, মহিলাকে এডস সচেতনতার বিজ্ঞাপনের ম্যাসকট ‘বুলাদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রাফিকের ভিতরে লেখা ‘বুলাদির শিবরাত্রি’। পোস্টের ক্যাপশনে ছিল ‘এর থেকে বেশি কার্যকরী হতে পারেন না ঈশ্বর’।

বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের অভিযোগ, হিন্দু ধর্মের পবিত্রতাকে নষ্ট করছেন সায়নী। শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানায় সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে মামলা রুজু করেছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা। অভিযোগ পত্রে লেখা, আমি শিবের ভক্ত। ১৯৯৬ সালে শিবের পুজো দেওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা করেছিলাম। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের এই ছবিটি দেখে আমার ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয়েছে। আমার আর্জি আপনারা এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুন সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে।এফআইআর-এর ছবি শেয়ার করে তথাগত ক্যাপশনে লিখেছেন, সায়নী ঘোষ আপনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়ে যায়। তার মধ্যে গুয়াহাটি থেকে একজন ব্যক্তি আমায় জানিয়েছেন, তার অনুভূতিতে ও আঘাত লেগেছে। তিনিও মামলা রুজু করবেন। আশা করি, আসাম পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ করবে।

অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সায়নী ঘোষ। নিজের টুইটার প্রোফাইল থেকে টুইট করে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করার পর তিনি এই ছবিটি সরিয়ে ফেলেছিলেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কখনোই কারোর ধর্মকে তিনি আঘাত করতে চাননি। তার ভাষায়, আমি আগেই বলেছি যে ২০১৫ সালের টুইটটির বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম। যেই মুহূর্তে সেটিকে আমার নজরে আনা হয়। আমি সেটার তীব্র নিন্দা করে সবাইকে জানিয়ে ডিলিট করি তবে আজকের এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে যে বিদ্বেষের সম্মুখীন আমায় হতে হয়েছে। তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আইনের প্রক্রিয়া চলবে নিজের মতো। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব আমি। তবে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। মানুষ সব বুঝতে পারছেন। তারাই বিচার করবেন।

শুক্রবার ১৫ জানুয়ারি সকাল থেকেই টুইটারে বাক-যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তথাগত রায় ও সায়নী ঘোষের মধ্যে। তার আগের দিন একটি বাংলা চ্যানেলে অতিথি বক্তা হিসেব উপস্থিত হয়েছিলেন সায়নী। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘যেভাবে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানটিকে রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভুল। এটি বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেও পড়ে না। ঈশ্বরের নাম ভালোবেসে বলা উচিত। এরপর থেকেই টুইটারে দুই পক্ষ কথার লড়াই চালিয়ে যান।

জিএম /এম

RTV Drama
RTVPLUS