সুদ ৯ শতাংশে না আনলে সরকারি তহবিলের টাকা পাবে না ব্যাংক

প্রকাশ | ২৩ মে ২০১৯, ১০:৩৪

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

ব্যাংকঋণের সুদহার কমাতে নতুন নির্দেশন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলেছে,যেসব ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে না, সেসব ব্যাংক আমানত হিসেবে সরকারি তহবিলের টাকা পাবে না।  

এমনকি যারা ইতিমধ্যে ৯ শতাংশে ঋণের সুদহার নামিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব ব্যাংকও এ সুবিধা পাবে না।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি জারির সময় থেকে তা কার্যকর হয়েছে। 

এতে বলা হয়- নিজস্ব তহবিলের অর্থ, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৬ শতাংশের বেশি হারে আমানত রাখা যাবে না।

সুদের হার কমিয়ে আনতে গত কয়েক মাস কঠোর অবস্থানে সরকার। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নানা সুবিধা নিয়েও ব্যাংকগুলো এতদিন তা কার্যকর করেনি। কয়েকটি সরকারি ব্যাংক তা মানলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো উল্টো সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা নানা অজুহাতে সুদ হার শুধু বাড়ায়নি, গ্রাহকদের ওপর নানা ধরনের চার্জও আরোপ শুরু করে। লুক্কায়িত নানা চার্জে গ্রাহকদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

বিশেষত সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তা, ভোক্তা ঋণগ্রহীতারা ঋণের আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে যাচ্ছে। অথচ সুদ হার কমানোর ঘোষণা ব্যাংক মালিকরাই ঘটা করে দিয়েছিলেন। সেজন্য তারা বেশ কয়েকটি সুবিধাও সরকারের কাছ থেকে আদায় করে নেন।

সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, সিআরআর এক শতাংশ কমানো, ঋণ আমানতের হার (এডিআর) সমন্বয়সীমার সময় বাড়ানো এবং রেপো রেট ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ করা। এসব সুবিধা নেওয়ার পরও ব্যাংকগুলো সিঙ্গেল ডিজিটে সুদ হার আরোপ করেনি বরং নতুন নতুন অজুহাত দাঁড় করিয়ে সুদ হার বাড়িয়েছে। যা কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির পরিপন্থি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সরকার থেকে প্রাপ্ত তহবিল, সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মোট নিজস্ব তহবিলের অর্থ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৬ শতাংশের বেশি হারে আমানত রাখা যাবে না।

‘যেসব ব্যাংক গত ২ আগস্ট ২০১৮ সালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে তারা এ সুবিধা প্রাপ্য হবে না। নির্দেশনাটি জারির সময় থেকেই কার্যকর হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে শিল্প-বাণিজ্যে গতি আসবে। বর্তমানে জ্বালানি সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা মোকাবিলার পর বাড়তি সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন গ্রাহকরা। গত বছর কয়েকটি ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর ঘোষণা দিলেও কার্যত তা ছিল ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। ক্ষেত্রবিশেষে ‘প্রভাবশালী কিছু বড় গ্রাহক’ এ সুবিধা পেলেও সবক্ষেত্রে সুদের হার কমানো হয়নি।

এস