• ঢাকা শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১
logo

বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন বন্ধ নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

  ১৮ মার্চ ২০১৯, ১৪:১৭

বাংলাদেশে ডাউনলিংক করে সম্প্রচারিত বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশিত আইনে কোনও বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না বলে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। অথচ এটাকে শুধু দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ বলে প্রচার করা হচ্ছে।

টিভি মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন,সরকার যে আইন জারি করেছে, তা যদি সঠিকভাবে উপস্থাপিত না হয়, তবে মিডিয়া শিল্পের এখানে তেমন লাভ হবে না। এজন্য সঠিক আইনটি তুলে ধরতে হবে। শুধু এক তরফাভাবে তথ্য প্রচার করলে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ সম্ভব হবে না।

অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় পাঁচ কোটি টিভি গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারের আদায় হয়; যার একটি বড় অংশ বিদেশি চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে আসার কথা। কিন্তু সরকার তা পায় না।

অভিযোগ আছে, বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে দেশের টাকা ‘অবৈধভাবে’ বিদেশে ‘পাচার’ হয়।

এ অবস্থায় দাবির মুখে সরকার বাংলাদেশে ডাউনলিংকপূর্বক সম্প্রচারিত সব বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। যা ২০০৬ ও পরে ২০১০ সালে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন নামে ওই আইনের ধারা ৯ -এর ১৩ নং উপধারায় বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যেখানে স্পষ্ট বলা হয়, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আইনে আরও বলা হয়েছে,এই আইন ভঙ্গ করলে ডিস্ট্রিবিউশন লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। এমনকি দায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির জেল-জরিমানাও হতে পারে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনও অপরাধ করেন, তবে তিনি অনধিক ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা কিন্তু অন্যূন ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

---------------------------------------------
আরও পড়ুন : অবশেষে হাতিরঝিল ছাড়ছে বিজিএমইএ
---------------------------------------------

পুনরায় একই অপরাধ করলে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা কিন্তু অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আবারও জোর দিয়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তিনি বলেন,বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিদেশি কোনও চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আগামী ১ এপ্রিলের পর থেকে কেউ যদি এই আইন ভঙ্গ করে, তবে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া মার্কেটিং অ্যাসোসিয়েশন-ইমা’র নেতারা বলছেন,কিছু মিডিয়ায় আইনটিকে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। আইনে ডাউনলিংকপূর্বক বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের বিষয় উল্লেখ থাকলেও শুধু দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধের কথা প্রচার করা হচ্ছে। আর এটা যদি হয়, তবে বাংলাদেশের সম্প্রচার খাত খুব বেশি লাভবান হবে না।

তারা আরও বলছেন,বাংলাদেশে ডাউনলিংক ওয়েতে যেসব বিদেশি চ্যানেল দেখানো হচ্ছে, সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। কিছু বহুজাতিক কোম্পানি যদি এখন বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় বা অন্য দেশের বিজ্ঞাপন চালু করে দেয়, তবে বাংলাদেশের মিডিয়াতে তারা যে বিজ্ঞাপন দিতো সেটা আর দিবে না। কারণ, বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে তো তারা ভোক্তা পেয়েই যাচ্ছে। ফলে সরকারের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে এ খাত তেমন লাভবান হতে পারছে না বা পারবে না। বরং বলা যায়, যে লাউ সেই কদু অবস্থা। বাংলাদেশের দর্শকরা ফি দিয়ে বিদেশি চ্যানেল দেখুক, সেখানে কোনও বাধা নেই। কিন্তু তারা বিজ্ঞাপনহীন (ক্লিনফিড) দেখুক।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইনের পুরোপুরি প্রয়োগের অভাবেই সেটা হচ্ছে না। সরকার তথা বিটিআরসি ও তথ্য মন্ত্রণালয়; যাদের এটা দেখভাল করার কথা, তারা নিরব ভুমিকা পালন করছে। সরকারের সংশ্লিষ্টরা এক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এতে আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়ছে, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

এস

মন্তব্য করুন

daraz
  • অর্থনীতি এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তীব্র গরমে ফেসবুকে ভাইরাল আবুল খায়েরের সেই বিজ্ঞাপন!
যে কারণে মেহজাবীন-সিয়ামের পাল্টাপাল্টি পোস্ট
৯ মাসে সুদ পরিশোধ ১০০ কোটি ডলারের বেশি
বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সুখবর দিল কুয়েত
X
Fresh