DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬

অস্বচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করে প্রাণ ডেইরি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৩৪ | আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৩৯
দরিদ্র কৃষক পরিবারের এক সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর তারা যতটা না খুশি হয়েছিল ঠিক ততটা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। চার জনের সংসার চলতো একটি গাভীর দুধ বিক্রির টাকায়। কিন্তু ঢাকায় রেখে ছেলেকে পড়ানোর জন্য বাড়তি আয় কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান কৃষক দম্পতি।

কৃষক দম্পতি প্রতিবেশীদের সাথে তাদের এ অবস্থার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। আলাপ করতে গিয়ে একটা উপায় বের হয়। কৃষকের স্ত্রীকে আরেকজন কৃষকের স্ত্রী বলেন, আপনাদের গাভীর দুধ প্রাণ ডেইরিতে দেন, তাহলে প্রাণ ডেইরি আরেকটি গরু কেনার জন্য লোনের ব্যবস্থা করে দিবে। প্রাণ ডেইরি নারীদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়। স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য অনেককিছু করে।

পরে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকের স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেশী যান প্রাণের দুগ্ধ সংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্রে। সেখানে থাকা প্রাণের কর্মকর্তার সহায়তায় তারা ঋণ পেয়ে আরও গরু কিনেন।

তখন কর্মকর্তারা জানান, খামারিদের দেয়া গাভীর দুধ সংগ্রহ করে তা ট্রাকে করে নিয়ে শীতলীকরণ করা হয়। শীতলীকরণ করার পর নরসিংদীর কারখানায় প্রক্রিয়াজাতকরণ করার জন্য পাঠানো হয়।

প্রাণ ডেইরি প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ লিটার দুধ উৎপাদন করে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দুধ সংগ্রহ করে প্রাণ ডেইরি মিল্ক কালেকশন সেন্টার।

এ কৃষক পরিবারের মতো জয়নাল, গীতা রাণীসহ অনেকের জীবনকে স্বাবলম্বী করে দেয় প্রাণ দুধ। তাদের সাহস জাগিয়েছে প্রাণ ডেইরি। সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিবন্ধিত খামারিরা পাবনার চাটমোহর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও বাঘাবাড়ি এবং রংপুরে প্রাণের হাবে এসব দুধ দেন। এজন্যে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয় প্রাণ।

প্রাণ ডেইরি খামারে নিবন্ধিত খামারিদের সব কিছু যাচাই-বাছাই করে একটি কোড নম্বর দেওয়া হয় হেড অফিস থেকে। খামারিদের গাভীর লালন-পালন, দুধ সংগ্রহ পদ্ধতি, সংরক্ষণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দেয় প্রাণ ডেইরি। দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও।

গুণগত মান ঠিক রাখতে ডিজিটাল মেশিনে ফ্যাট টেস্ট, সুগার ও অ্যালকোহল টেস্ট করে প্রাণের দক্ষ কর্মীরা। ল্যাবে এসব গুণগত মান পরীক্ষা করেই প্রাণ ডেইরির দুধ সারাদেশে বাজারজাত করা হয়। টেস্টের কোনও একটির মান ঠিক না থাকলে তা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। আর প্রতিদিন গড়ে ৯ ভাগ দুধ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাণ ডেইরি জানায়, প্রয়োজনে আমরা তাদের ঋণ দিয়ে গরু কেনার ব্যবস্থা করে দেই। উত্তরাঞ্চলে এ প্রকল্প থেকে আজ দেশের বেকারদের স্বাবলম্বী করে তুলছে প্রাণ।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গুণগত মান ঠিক রেখেই ক্রেতাদের দুধের চাহিদা পূরণ করতে কাজ করছে প্রাণ। যে কেউ চাইলে উত্তরাঞ্চলে প্রাণের হাব ঘুরে এসে এই সফলতার গল্প নিজ চোখে দেখে আসতে পারেন। এজন্য তারাই সব ধরনের ব্যবস্থা করে দেবে।

দুধ সংগ্রহ, উৎপাদনসহ সব প্রক্রিয়া নিজ চোখে দেখতে চাইলে আপনিও অংশগ্রহণ করতে পারেন প্রাণ ডেইরি মিল্ক জার্নিতে। এ জন্য রেজিস্ট্রেশন করুন www.pranmilkjourney.com

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়