logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

হাসিনা কিভাবে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করলেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৯ | আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৫২
ছবি: ভারতীয় মাগ্যাজিন ‘দি ইকোনোমিক টাইমস’

শেখ হাসিনার নজিরবিহীন নির্বাচনী সফলতা তাকে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এনেছে। এর ফলে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে শুধু স্থিতিশীলতায় অব্যাহত থাকবে না, ভারত এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মধ্যে সাব-রিজিওনাল পার্টনারশিপের একটি বৃহত্তর দ্বারও উন্মুক্ত হবে। এটি পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের জাতিগুলোর জন্য নতুন একাধিক অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বছরের পর বছর সামরিক বা সেনা-সমর্থিত এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন মৌলবাদী শক্তির আশীর্বাদপুষ্ট সরকারের শাসন আমলে তীব্র অর্থনৈতিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া বাংলাদেশের নজিরবিহীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাক্ষী ছিল গত দশকটি। এমনকি হাসিনা সরকারের শাসন আমলের সমালোচকরা একমত হবেন যে, গত দশকে অর্জিত ৭% প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

অর্থের প্রকৃত বা ভার্চুয়াল মুভমেন্টের দিক দিয়ে ভারতের পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোর একটি হলো ঢাকা। এর আছে একটি দ্রুত উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনগোষ্ঠী, যাদের খরচের ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

অর্থনীতি এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ(এফডিআই)

বর্তমানে সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশের তালিকায় ৪২তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার চেয়ে এগিয়ে দেশটি এই তালিকায় ২৬তম স্থান দখল করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ‘হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন’র (এইচএসবিসি) একটি প্রতিবেদনে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং কোম্পানি ‘গোল্ডম্যান সাচ’ একবিংশ শতকে সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হতে প্রস্তুত ১১টি দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশকে। এই তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলো হলো পাকিস্তান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, মিশর, নাইজেরিয়া ও মেক্সিকো। ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত চারটি দেশের (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন) পরেই এই ১১টি দেশের অবস্থান।

অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করার কৃতিত্ব শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালে হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে সৃষ্ট অধঃপতন ও অচলাবস্থার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম মেয়াদ (১৯৯৬-২০০১) ছিল এই অগ্রগতির প্রস্তুতিকাল। কিন্তু ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-জামায়াত জোটের পূর্ণ পাঁচ বছরের শাসনামলের সহিংসতা, দুর্নীতি, ধর্মীয় চরমপন্থা এবং জঙ্গিবাদ অগ্রগতির এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

এরপর ২০০৮ সালে হাসিনার দল ‘দিন বদলের সনদ-ভিশন ২০২১’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে দলটি। সব প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে ২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

এই মেয়াদে হাসিনা সব বড় শক্তির বিরোধিতাকে কলা দেখিয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়াই পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো দুঃসাহসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তথ্য মতে, বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক ঊর্ধ্বগতিতে আস্থা আছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও।

                       

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে এফডিআই তিনগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৯৬১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এফডিআই পায়, যার পরিমাণ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেড়ে হয় দুই হাজার ৪৫৪ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ২০১৭-১৮ এর জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দুই হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ডলার মূলের বিদেশি বিনিয়োগ পায়।

বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা দি ইকোনোমিক টাইমস ম্যাগাজিনকে বলেন, ব্যবসার পথকে সুগম করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এছাড়া, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে ‘বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোনস অথরিটি’ প্রতিষ্ঠা করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’। তারা বলেন, বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা শুরু করা আগের জটিলতা দূর করবে ওয়ানস্টপ সার্ভিস অ্যাক্ট। এছাড়া এর অধীনে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, এফডিআই’র দৃষ্টি আকর্ষণের ব্যর্থতাগুলো পর্যালোচনা করেছে সরকার। পাশাপাশি প্রতিবন্ধকতাগুলো শনাক্তের পর সেগুলো কাটিয়ে ওঠার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে একটি স্থিতিশীল ও অগ্রসরমান অর্থনীতি উপস্থাপনের পর আমরা আরও বৈদেশিক বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে পারবো বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

হাসিনা সরকার আরও বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট করতে ২০১০ সালে ‘বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোনস অ্যাক্ট’ পাস করে। সরকারি-বেসরকারি পার্টনারশিপের অধীনে মিরসরাই ও মোংলায় দুটি ইকোনোমিক জোন সৃষ্টি করতেই আইনটি করা হয়। এদিকে চীন, ভারত ও জাপানের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে চারটি ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। ভারত মিরসরাই ও মোংলায় ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠা করবে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানের বিশেষ ইকোনোমিক জোনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। আর চীনের বিশেষ ইকোনোমিক জোনটি প্রতিষ্ঠিত হবে আনোয়ারায়।

রিজিওনাল কানেক্টিভিটি

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কানেক্টিভিটি’র ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কোঅপারেশনে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ। এতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য একটি ফোরামে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ স্বতন্ত্রভাবেই এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এটি হবে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপালের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন্স এবং অন্য ইস্ট এশিয়ান দেশগুলোকে সংযুক্ত করার মূলকেন্দ্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, সাব-রিজিওনের মধ্যে অধিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কানেক্টিভিটি স্থাপনের মাধ্যমে নতুন নতুন বাজার, উচ্চমান সম্পন্ন এবং ভালো দামের পণ্যের উৎস, পরিবহন ও সরবরাহ সেবার জন্য ক্রমবর্ধমান সুযোগ-সুবিধা থেকে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সড়ক, রেল, সমুদ্র পথের মাধ্যমে বিভিন্ন সাবরিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। এসব কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগে আগ্রহী। কারণ এতে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পাঠাতে ব্যয় ও সময় কমবে।

বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও ভারত ২০১৫ সালে যাত্রী, কর্মী ও কার্গো যানবাহন সংক্রান্ত ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য মোটর ভেহিকলস এগ্রিমেন্ট (এমভিএ) সই করে। ইউরোপিয়ান মডেলের এই চুক্তিতে অঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে মানুষের যাতায়াত এবং পণ্যের সরবরাহের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য স্থলবেষ্টিত ভুটান, বাংলাদেশ, নেপাল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় ভূমির সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কলকাতা বন্দরকে সংযুক্ত করা। এমভিএ’র অধীনে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল ভারতের মধ্য দিয়ে একটি বাস সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ ও নেপাল।

এই চুক্তির অধীনে ২০১৫ সালে ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা এবং ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস চালু করা হয়। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় খুলনা-কলকাতা এবং যশোর-কলকাতা সংযোগ স্থাপনকারী নতুন বাস সার্ভিস চালুর কথা বিবেচনা করতে একমত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত যাত্রী চলাচল এবং পণ্য পরিবহনের জন্য আগের রেলপথগুলো পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বাংলাদেশ এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার রিজিওনাল কানেক্টিভিটিকে ‘ব্লু ইকোনোমি’ (প্রবৃদ্ধির জন্য সামুদ্রিক উৎসগুলোর টেকসই ব্যবহার) ধারণার বাস্তব রূপ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশের জয় হয়েছে। এর ফলে সমুদ্রসীমা বেড়েছে বাংলাদেশের। বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারে দেশটির গভীর সমুদ্র বন্দরগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান।

ঢাকার এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার মতে, শুধু সার্কভুক্ত দেশগুলো নয়, চীন ও এশিয়ার অন্য দেশগুলোরও আঞ্চলিক পরিবহনের মূলকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার বড় ধরনের একটি সুযোগ আছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়।

এর আগে খালেদা জিয়া সরকারের শাসন আমলে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিট দেয়ার ক্ষেত্রে খুবই রক্ষণশীল ছিল। তখন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করতে পারে- এই আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিটের অনুমতি দেয়া হয়নি। কিন্তু হাসিনা-নেতৃত্বাধীন সরকার বুঝতে পারে যে কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিটে অনুমতি দেয়া হলো বাংলাদেশের জন্য ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’। কারণ এর ফলে বাংলাদেশের আয় বাড়বে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারতের বাজারে বাণিজ্যের সুযোগ পাবে। এছাড়া স্বচ্ছন্দে এক অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে আরেক অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ করতে পারবে।

অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের অনুদান বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও ভারতের মধ্যকার সাব-রিজিওনাল কানেক্টিভিটির করিডোর এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৯৭২ এর সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষতাকে যুক্ত করে। কিন্তু দলটির প্রচেষ্টা চলতে চলতে থেমে যায়। এমনকি এর বিপরীত অবস্থাও দেখা যায় বিএনপি এবং জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন আমলে।

গত দশকে বাংলাদেশের সরকারি চাকরিগুলোতে সংখ্যালঘুদের অবস্থান ইতিবাচকভাবে পাল্টে গেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুর সংখ্যা সরকারি চাকরিতে ৫-৭% এবং পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ১০%।

হাসিনা-নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ স্লোগানের মাধ্যমে তাদের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার মতো সাহসী পদক্ষেপও হাসিনার একটি বড় সফলতা। এসব যুদ্ধাপরাধীরা এর আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির মাধ্যমে বিএনপির সরকারের শাসন আমলে বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রচণ্ডভাবে কলুষিত করেছে।

আরও একটি অর্জনের কৃতিত্ব হাসিনা নিতে পারেন যে তার সরকার মৌলবাদের বিরুদ্ধে নিরন্তর যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী পাঁচ বছরে হাসিনা সরকারকে যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে, সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো চীনের ঋণের ফাঁদে না পড়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা।

সূত্র: দি ইকোনোমিক টাইমস ম্যাগাজিন।

কে/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়