• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

মিষ্টি-দইয়ের জায়গা দখল করবে আইসক্রিম: ইগলু সিইও (ভিডিও)

শাহীনুর রহমান
|  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৩ | আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩১
জি এম কামরুল হাসান। দেশের শীর্ষস্থানীয় আইসক্রিম ব্র্যান্ড ইগলুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। কর্মজীবনে প্রায় অর্ধ ডজন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তিনি। ইগলুতে যোগ দেয়ার আগে নেসলে, নিউজিল্যান্ড ডেইরি, রহিম আফরোজ, প্রাণ-আরএফএলসহ বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বহুজাতিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

whirpool
কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা সিইও হিসেবে দক্ষিণ এশীয় বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৭-ও অর্জন করেছেন এই ব্যক্তিত্ব। এখন তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে ইগলু।

সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের আইসক্রিমের বাজার, ইগলুর অবস্থান, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। রাজধানীর বীর উত্তম সিআরদত্ত রোডে অবস্থিত ইগলুর করপোরেট অফিসে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভি অনলাইনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহীনুর রহমান।

বাংলাদেশে আইসক্রিমের বাজার কেমন?

বাংলাদেশে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি লিটার আইসক্রিমের বাজার রয়েছে। এই মার্কেট ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। বাংলাদেশের বাজারে এ শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আইসক্রিমের বাজার বাংলাদেশে খুব বড় না। অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের তুলনায় এই পরিমাণটা খুবই কম।

সেক্ষেত্রে ইগলুর অবস্থান কোথায়?

বাংলাদেশে প্রচলিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আইসক্রিম ব্র্যান্ডের সংখ্যা ৯টি। সেখানে ইগলু প্রায় ৪৬ শতাংশ মার্কেট শেয়ার ধরে আছে। ৫ বছর আগে এই মার্কেট ছিল ১ থেকে ২টি ব্র্যান্ডের অধীনে। অন্যান্য বেভারেজ পণ্য যেমন সফট ড্রিংকসের সঙ্গে এই বাজার প্রতিযোগিতাপূর্ণ। তবে আশার কথা বাংলাদেশে আইসক্রিমের বাজার বড় হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগির এই মার্কেটের অর্ধেক আমরা দখল করতে পারবো।

বাংলাদেশে আইসক্রিম বাজারের সম্ভাবনা কতটুকু?

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে মানুষের অভ্যাসে পরিবর্তন আসে। মাথাপিছু আয় বাড়লে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। শুধু আইসক্রিম নয়, অন্যান্য পণ্যও ক্রয় করে থাকে।

গত ২-৩ বছরে আইসক্রিমের বাজার অনেক বেড়েছে। আশা করছি, আগামী ৫ বছরে এটি দ্বিগুণ হবে।

বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা পরিবর্তন। এ কারণে বাংলাদেশে শুষ্কতা বাড়ছে। দিন দিন গরম হয়ে যাচ্ছে। সে হিসেবে শীতের প্রাদুর্ভাব কমে যাচ্ছে। এই প্রত্যেকটা জিনিসই জানান দিচ্ছে বাংলাদেশে আইসক্রিমের বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।

এ শিল্পের জন্য সম্ভাবনাময় আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিদ্যুৎ। এখন গ্রামেও কিন্তু ইলেকট্রিসিটি চলে গেছে। আইসক্রিমের ক্ষেত্রে যেহেতু ইলেকট্রিসিটির একটা ব্যাপার থাকে। সেখানে ফ্রিজ একটা ইস্যু। এখন মধ্যবিত্ত অধিকাংশ পরিবারে একটি ফ্রিজ কোনও বিষয় না।

এজন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

আইসক্রিমের ক্ষেত্রে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা খুবই কঠিন। কারণ এখানে পর্যাপ্ত ফ্রিজ বা শীতাতপের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। কুলিং বা ফ্রিজিং এর বিষয়টি যদি সঠিকভাবে মেইনটেইন না করা যায়, তবে আইসক্রিম বাজারজাত করা যায় না।

আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- মানুষকে বোঝানো আইসক্রিম একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। কারণ এখনও ৫ শতাংশের কম বাসায় মাসে একবার আইসক্রিম খায় না। একটু গবেষণা করলেই দেখা যায়, যেখানে আইসক্রিমের বাজার বলা হচ্ছে, বছরে ৫ কোটি লিটার, সেখানে মানুষ ১৭ কোটি। অর্থাৎ এমন মানুষ আছে, যারা বছরে একবারও আইসক্রিম খায় না। এখনও ৬০ শতাংশ মানুষ আইসক্রিম খায় রাস্তা-ঘাটে। অর্থাৎ বাসাবাড়িতে এখনও সে অভ্যাস তৈরি হয়নি।

রপ্তানি নিয়ে কী ভাবছে ইগলু?

বাংলাদেশে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কোটি মানুষ। আমরা এখনও দেশের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে পারিনি। আমরা আইসক্রিমকে আরও জনপ্রিয় করার জন্য কাজ করছি। আইসক্রিম খেয়ে মানুষ কতটা আনন্দ অনুভব করে সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাচ্ছি।

তবে হ্যাঁ, আমাদের আইসক্রিম পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরু থেকে ইগলুর আইসক্রিম রপ্তানি হবে। এ ব্যাপারে আমাদের কোম্পানি এরইমধ্যে দুই-তিন দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

গ্রাম অঞ্চলে ২ বা ৫ টাকার বরফ আইসক্রিম কিন্তু এখনও জনপ্রিয়

এখন আর ২ টাকা বা ৫ টাকার আইসক্রিম পাওয়া যায় না। তবে রুরাল অঞ্চলে যারা ক্ষুদ্র পর্যায়ে আইসক্রিম বানিয়ে ব্যবসা করছেন, তাদের আমরা স্যালুট জানাই। আমরা কোনওরকম তাদের নিরুৎসাহিত করছি না। কারণ তারাও দেশের অর্থনীতিতে কোনও কোনওভাবে অবদান রাখছেন। এ ব্যবসায় তাদের বেঁচে থাকার বিষয় আছে।

ইগলু কি এই বাজার ধরতে পারবে?

গ্রাম অঞ্চল বা প্রত্যন্ত অঞ্চল নিয়ে এই মুহূর্তে ইগলুর আলাদা কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে কোয়ালিটির জায়গায় ইগলুর কারও সঙ্গে কম্প্রমাইজ নেই। অর্থনীতি উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে, মানুষ অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তারা স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ২ বা ৩ টাকা বেশি দিতে রাজি। আর তার জন্য এখন উপশহরের বিভিন্ন স্টোরে কিন্তু ইগলু আইসক্রিম সরবরাহ করছে। ভবিষ্যতে ইগলু দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছাতে চায়। আমরা চায়- মিষ্টি, দইয়ের মতো আইসক্রিমেও জনপ্রিয়তা আসুক।

ইগলু আইসক্রিম কি মিষ্টি, দইয়ের বাজার দখল করতে চায়?

ইগলুর ক্ষেত্রে আমরা আইসক্রিমকে মিষ্টি, দইয়ের সমার্থক হিসেবে দেখি। যার ফলে আমরা আমাদের কমিউনিকেশন প্যাটার্ন পরিবর্তন করেছি। আমরা দেখাতে চেয়েছি, যেখানেই মিষ্টিমুখ, সেখানেই ইগলু। বিভিন্ন মিষ্টান্নের সঙ্গে ইগলুকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করছি। মিষ্টির ক্ষেত্রে আমরা গ্রাহকদের বলতে চাই- আইসক্রমকে ভালোবাসতে হবে। কিন্তু এটাও মানছি আইসক্রিম বহন করা একটু কঠিন। কারণ এটা গলিত একটা পণ্য। এর সমাধান কীভাবে করা যায় তার জন্য আমরা কাজ করছি।

অফিস থেকে যখন আপনি আইসক্রিম বাসায় কিনে নিয়ে যেতে পারবেন, তখনই তা বাসাবাড়িতে সংরক্ষণ করা যাবে। আর এটা যখন সব জায়গাতেই নিশ্চিত হওয়া যাবে, তখন অটোমিটেক্যালি আইসক্রিম মিষ্টির জায়গা দখল করে নেবে।

তাহলে মিষ্টির কী হবে?

দেখুন, আমি মিষ্টিকে অবজ্ঞা করছি না। কারণ এটার সঙ্গে বাঙালির একটি সম্পর্ক আছে; আছে ঐতিহ্য। তবে এটা বলতে চাই আইসক্রিম তুলনামূলক যেকোনও মিষ্টি বা ট্র্যাডিশনাল মিষ্টির চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

আরও পড়ুন :  

এসআর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়