• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

‘বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে’

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৭ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:২১ | আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৬, ০৮:৫২
দেশের উন্নয়নে আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে। আশা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

whirpool
বললেন, আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হবে। দেশের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘রূপকল্প ২০২১’ এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’ জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্য-অশিক্ষা এবং বঞ্চনামুক্ত ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রণীত।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে মানব-উন্নয়ন সূচকে মধ্যম ক্যাটাগরির দেশ এবং মাথাপিছু আয় বিবেচনায় নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা সহসাই স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে বেরিয়ে আসবো এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ।

বাংলাদেশকে অমিত সম্ভাবনার দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী, দৃঢ়চেতা এবং পরিশ্রমী। আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দৃঢ়-প্রত্যয়ী।

শেখ হাসিনা বলেন, এগিয়ে যাবার পথে আমাদের সামনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের জনমিতিক সুবিধা’র (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সদ্ব্যবহার করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বেশ কিছু হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক প্রতিষ্ঠাসহ বেসরকারি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে দরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) বাস্তবায়ন ও অর্জনে বাংলাদেশ অন্যতম সফল হিসেবে বিবেচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমডিজি বাস্তবায়নের দৃঢ়ভিত্তিকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা এসডিজি’স বা টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য এসব লক্ষ্যসমূহ জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্ধারিত সময় ২০৩০ সালের পূর্বেই এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদারকি টিম এসডিজি বাস্তবায়ন কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ করছে।

একটি মধ্যম আয়ের দেশের অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে প্রবৃদ্ধি সঞ্চারী কাঠামোগত রূপান্তরের একাধিক বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অপুষ্টিজনিত সমস্যামুক্ত জনগোষ্ঠী জাতীয় উন্নয়নের প্রধান সম্পদ। ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে অপুষ্টিতে ভোগা জনগোষ্ঠীর হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেলেও, আর্থ-সামাজিক অন্য ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। কম ওজন, খর্বাকৃতি ও অন্যান্য অপুষ্টিজনিত সমস্যাগ্রস্ত শিশু সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্যে এ খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতীয় পুষ্টিনীতি ২০১৫ প্রণয়ন করেছি। ভবিষ্যতে আমরা পুষ্টিসেবা কার্যক্রম আরো প্রসারিত করতে চাই।

তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ফোরামে আমি বহুবার উল্লেখ করেছি, বিশ্ব আজ সন্ত্রাস এবং সহিংস জঙ্গিবাদ নামক দু’টি অন্যতম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমার সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের জঙ্গিবাদ দমনে আমরা সক্ষম হয়েছি। জঙ্গিবাদের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে জঙ্গিবাদ দমন কার্যক্রমকেও আরো শাণিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সফররত বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানা ডিক্সন বক্তৃতা করেন। বিশ্বব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট পল রোমার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মেজবাহ উদ্দীন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মার্কিন রাষ্ট্রদূত, সংসদ সদস্য, সরকারি-বেসরকারি এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন।

ডিএইচ/কে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়