Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বলজ্বলে তারা বাংলাদেশ, শেখার আছে প্রতিবেশীদের

South Asia Should Pay Attention to Its Standout Star
সংগৃহীত

দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বের অনেক দেশের কাছে ঈর্ষণীয়। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে ওঠা নিয়ে মঙ্গলবার প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গে একটি কলাম লিখেছেন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও কলামিস্ট মিহির শর্মা। আরটিভি অনলাইনের পাঠকদের সেই লেখার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো-

অর্ধ শতাব্দী আগে ১৯৭১ সালের মার্চে ধনী ও তুলনামূলক শক্তিশালী পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান)। দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধের মধ্যে জন্ম নেয়া দেশটির লাখ লাখ মানুষ ভারতে পালিয়ে যায় বা পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে শহিদ হয়। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দেয়া মার্কিন সরকারের মনে হয়েছিল নতুন দেশটি ব্যর্থ হবে। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুঁড়ি’ বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, গত বছর দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৫৪৩ ডলার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের তুলনায় ৭০ ভাগ ধনী ছিল পাকিস্তান, আর আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ ভাগ ধনী। এ কারণে এক পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ সম্প্রতি বিষণ্ন মুখে বলেছেন, ২০৩০ সালে হয়তো বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের সাহায্য চাইতে হতে পারে।

নিজেদের দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি বড় নেতা ভাবতে থাকা ভারতের অবস্থাও বাংলাদেশের তুলনায় খুব একটা ভালো না। কিন্তু এখন তাদের মানতেই হচ্ছে যে, মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশের তুলনায় তারাও গরিব। ২০২০-২১ সালে ভারতের মাথাপিছু আয় মাত্র ১ হাজার ৯৪৭ ডলার।

তবে বাংলাদেশের এমন সাফল্য ভারত যে স্বীকৃতি দেবে তা আশা করবেন না: কেননা দেশটির ডানপন্থী নেতারা এখনও বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ এতটাই নিঃস্ব যে, সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ভারতের যে রাজ্যগুলোতে হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদীরা এখনও বাংলাদেশিদের ‘উঁইপোকা’ বলে সুর চড়াচ্ছেন, সেগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি ধনী। বিষয়টি এমন যেন- কানাডা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে উত্তেজিত হয়ে উঠেছে মিসিসিপি।

সম্ভবত এতেই বোঝা যায়, যখন জিডিপির সংখ্যা ঘোষণা করা হলো তখন সোশ্যাল মিডিয়া কেন এত ক্ষোভ ও অস্বীকৃতির ছবি দেখা গিয়েছিল। বিপরীতে বাংলাদেশি মিডিয়া অনেক কমই তুলনা করেছে। ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস থেকেই এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তারা।

মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে: রপ্তানি, সামাজিক উন্নয়ন ও আর্থিক দূরদর্শিতা। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতি বছর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০.৪ শতাংশ। আর এই সাফল্য এসেছে পোশাকের মতো বিশেষ সুবিধা থাকা রপ্তানি পণ্যে কঠোর মনোযোগের কারণে।

এছাড়া বাংলাদেশের শ্রমবাজারের নারীর অংশ ক্রমেই বেড়েছে, যেখানে ভারত ও পাকিস্তানে এটা কমেছে। বাংলাদেশ সরকারি ঋণ এবং জিডিপি অনুপাত ৩০ ও ৪০ শতাংশের মধ্যে রেখেছে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারিতে বিধ্বস্ত ভারত পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এটা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। এর সুবিধাও ভোগ করছে বাংলাদেশ। তাই দেশটির বেসরকারি খাত ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করারও সুযোগ পেয়েছে।

তবে বাংলাদেশের এই সাফল্যের কারণে কিছু সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে দেশটি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জিএসপি সুবিধাসহ আরও কিছু সুবিধা পায় বাংলাদেশ। এসব সুযোগ-সুবিধা কেবল উন্নয়নশীল দেশগুলোই পেয়ে থাকে। কিন্তু যে হারে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে, তাতে ২০২৬ বা এর আশপাশে এই তালিকা থেকে হয়তো বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

আর অর্থনীতি যত পরিপক্ক হবে, তখন তুলনামূলক সুযোগ-সুবিধাও কমে আসবে। যেমন তখন ভিয়েতনাম এবং অন্যান্য দেশের মতো তৈরি পোশাক শিল্প থেকে অন্য শিল্পের প্রতি মনোনিবেশ করবে বাংলাদেশ। আর এই সময়টাতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও পরীক্ষা মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS