logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

রাতের অন্ধকারেই পেঁয়াজের সেঞ্চুরি! (ভিডিও)

  আরটিভি নিউজ

|  ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৪৪ | আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২৩:৪০
মাত্র এক রাতেই দামে সেঞ্চুরি করে আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে পেঁয়াজের বাজারমূল্য। যেনো অদৃশ্য কোন ভূঁতের দল পেঁয়াজে দাম ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভোক্তা, খুচরা বিক্রেতা-পাইকার বিক্রেতা আর আড়ৎদারদের মধ্যে চলছে ত্রিমুখী পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। গত বছর পেঁয়াজের বাজার মূল্য কেজি প্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছালেও কোন সিন্ডিকেট তা বাড়িয়েছিলো সেই রাঘাব বোয়ালদের আজও ধরতে পারেনি প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানী কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে গেলে পেঁয়াজে অনিয়মের দৃশ্যই ধরা পড়ে আরটিভি নিউজের কাছে। সরেজমিনে দেখা যায়- কারওয়ান বাজারে পাইকারি দোকানে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ৯০ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকানে যা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গতকাল পাইকারি দোকানে ছিলো- ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, আর খুচরা দোকানে বিক্রি হয়েছিলো- ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান বড় সাইজের পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকানে যা প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ গতকাল রোববার পাইকারি দোকানে ছিলো ৪০ টাকা। আর খুচরা দোকানে বিক্রি হয়েছিলো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

কারওয়ানবাজারে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের পাইকারি দোকানের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আরটিভি নিউজকে বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসা বন্ধ, দেশে এ কথা ছড়িয়ে পড়ার পরেই বড় বড় আড়ৎদাররা পেঁয়াজের দাম অনেক বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে গত রাতেই তাদের কাছ থেকে আমরাও অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হই। আর এই কারণেই গতকালকের তুলনায় প্রায় ডবল দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

আব্দুল আজিম নামের আরেক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে ক্রেতাদেরও দোষ আছে। কারণ, গতকাল সোমবার পর্যন্ত আমাদের এমনও দিন গেছে যে ৫ দিন ধরে এক বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি শেষ করতে পারি না। অথচ কেবল একদিন পর আজ মঙ্গলবার আমি নিজেই ৭ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। বাজারে কাস্টমাররা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। তাই অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় শ্যামবাজারের আড়ৎদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যেই পেঁয়াজ এনে বিক্রি করছি।

রাজধানীর শ্যামবাজারের পেঁয়াজের আড়ৎদার মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মনিরুল আলম খান বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি না করলেতো পেঁয়াজের বাজার চড়া হবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের পরিমাণ ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই বিদেশ থেকে আমাদেরকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বড় একটা প্রভাব পড়ছে।

এস এম আব্দুল আজীজ আজাদ নামের এক ক্রেতা বলেন, অন্যান্য জায়গার চেয়ে কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের দাম হবে ভেবেই এখানে এসেছি। এখন দেশি এখানেও কাস্টমারদেও উপর জুলুম হচ্ছে। আমি কয়দিন আগেও দেশি প্রতি কেজি পেঁয়াজ মাত্র ৪০ টাকা করে কিনেছি।  যা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকা করে। আমরা কাস্টমার হিসেবে সরকারের কাছে অনুরোধ করবো যে সিন্ডিকেট একরাতের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিলো, তাদের যাতে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনে আওতায় নিয়ে আসা হয়। দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের দাবি পেঁয়াজের মূল্য যেনো আমাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রাখা হয়। অসাধু সিন্ডিকেট এর আগেও কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বি করেছিলো, এখনো সেই চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: পাঁচ দেশ থেকে আসছে ১৯ হাজার টন পেঁয়াজ

কেএফ/ এমকে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৬০৫৫৫ ২৭২০৭৩ ৫১৯৩
বিশ্ব ৩,৩৩,৪২,৯৬৫ ২,৪৬,৫৬,১৫৩ ১০,০২,৯৮৫
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • অর্থনীতি এর সর্বশেষ
  • অর্থনীতি এর পাঠক প্রিয়