Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

নদী ভাঙন থেকে বাঁচতে পা ধরে আকুতি ভুক্তভোগীদের

ভাঙন কবলিত এলাকা

করোনাকালে ধলাই নদী ভাঙনে ঘর হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। নিজ বাপের ঘর হারিয়ে ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়েছেন সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের ধলাই নদীর পাড়ের অনেক পরিবার। সরজমিনে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী থেকে পরিবেশ ধ্বংসকারী ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর পার থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করছেন ইজারাদার আর তার ফলে ভাঙনের কবলে পড়েছে নদীর পূর্ব পাড়ের বাসিন্দারা। ভাঙনের কবল থেকে নিজেদের বাড়ি-ঘর, সহায়সম্বল রক্ষার জন্য অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের পায়ে ধরে আকুতি করছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ঢালারপাড় গ্রামের হিরন নামের এক ব্যক্তি কতিপয় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলি আমজাদ সাহেবের পা ধরে কান্না করছে তাদের শেষ সহায়সম্বল টুকু রক্ষার জন্য।

এছাড়া ধলাই নদীর তীরে চানপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা কান্না জড়িত কণ্ঠে আরটিভি নিউজকে বলেন, এনজিও থেকে সুদের মাধ্যমে টাকা নিয়ে ঘর তৈরি করেছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে রাতের আধারে ঘরটি নদীতে মিলিয়ে যায়। এই বালু উত্তোলনের কারণে আমারা ঘর হারাচ্ছি, অসহায় হয়ে যাচ্ছি।

কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার, ঢালারপাড়, চাঁনপুর, রাজনগর গ্রামের আশপাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ঐ এলাকার বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট ভাঙতে শুরু করেছে। প্রতিদিন প্রায় দুইশ থেকে আড়াইশ বালুর বলগেট সেখানে লোড করা হয়। এরপর বিভিন্ন বড় বড় নৌকার মাধ্যমে তা দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়।

এ বিষয়ে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলি আমজাদ আরটিভি নিউজকে জানান, আমি ঐ এলাকায় গিয়েছিলাম। হিরন নামের লোকটি আমার পায়ে ধরে কান্না করেছে শেষ সম্বলটুকু রক্ষার জন্য। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। সরকার যে জায়গায় বালু উত্তোলনের ইজারা দিয়েছে সে জায়গায় বালু না তুলে নদীর পাড়ের কাছে বালু উত্তোলনের কারণে মানুষ বাড়ি-ঘর হারাচ্ছে।

সিলেট পানি উন্নয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান সরকার আরটিভি নিউজকে বলেন, বালুর ইজারা দেন জেলা প্রশাসন আর এর দেখাশুনা করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। কোম্পানিগঞ্জের ধলাই নদীতে বালু উত্তোলনের কারণে এবং ভারি যানবাহন চলাচল করার কারণে বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। যেখানে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয় সেখান থেকে ইজারাদার বালু না উত্তোলন করে নদীর পাড়ের কাছ থেকে উত্তোলন করায় এমন ভয়াবহ নদী ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে।

কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য আরটিভি নিউজকে জানান, আমরা বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি।। কয়েক দিন আগে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। অবৈধ জায়গা থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যারা নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে তাদের আমরা ত্রাণ দিয়েছি।

ধলাই নদীর বালু মহালের ইজারাদার প্রদিপ আরটিভি নিউজকে জানান, আমরা সরকার নির্ধারিত রয়েলটি আদায় করে বালু উত্তোলন করছি। নদী ভাঙনের কারণে ঘর-বাড়ি হারানো মানুষদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS