Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

বাবা-মেয়ের স্যালুট দেয়ার ছবি ভাইরাল হওয়ার পেছনের গল্প

সেনাবাহিনীতে কর্মরত মেয়ে ও পুলিশে কর্মরত বাবা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া বাবা ও মেয়ের স্যালুট দেয়া একটি ছবি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পদমর্যাদার চেয়ে রক্তের বন্ধন হৃদয় ছুঁয়েছে সবার। বেশিরভাগ মানুষই সেখানে বাবা-মেয়ে দুজনকেই প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। ৩ মেয়ে আর স্বামী-স্ত্রী নিয়ে এসআই আব্দুস সালামের পরিবার। সংসারে ছেলে সন্তান না থাকলেও মেয়েদের সুশিক্ষায় প্রতিষ্ঠিত করাই তার লক্ষ্য।

আরও পড়ুন...মাস্ক না পরে বের হলে জরিমানা করবে পুলিশ

এসআই আব্দুস সালাম রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানায় কর্মরত থাকলেও তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানায়। আব্দুস সালাম ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে রাঙামাটি, খুলনা, ঢাকা, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও রংপুরে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আড়াই বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে রংপুরে রয়েছেন।

এসআই আব্দুস সালাম আরটিভি অনলাইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে চিকিৎসক মেয়ের সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। তবে তা ছাপিয়ে তার উচ্ছ্বাসটাই প্রকাশ করেন বেশি। মেয়ের সাফল্যে নিজে গর্বিত হলেও এর কৃতিত্ব দেন স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে।

তিনি জানান, বড় মেয়ে শাহনাজ পারভীন রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪৩তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। সেশন ২০১৩-২০১৪। ইন্টার্নশিপ শেষ করে সম্প্রতি ক্যাপ্টেন পদে চাকরি পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। মেজো মেয়ে উম্মে সালমা একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। সবার ছোট স্মৃতিমনি মীম এসএসসি পরীক্ষার্থী।

শাহনাজ পারভীন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজে। ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৩-১৪ সেশনে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান শাহনাজ পারভীন।

আব্দুস সালাম বলেন, ছোট থেকেই সে পড়ালেখায় খুবই মনোযোগী ছিল। যা পড়তো খুব সহজেই মুখস্থ হয়ে যেত। সারাদিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পড়ালেখা করতো। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা অহেতুক ঘোরাফেরা ছিল না। সারাদিন নিজেকে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে সেই চিন্তাটা ওর মাথায় ঘুরঘুর করতো।

সন্তানদের আমি সবসময় সাহস দিয়ে আসছি। ওদেরকে মনোবল বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করি। যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরা এবং আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। মা-বাবাই সন্তানের ভালো চায়, সেটা সন্তান নিজে বাবা-মা না হলে বুঝতে পারবে না। কিন্তু মা-বাবার স্বপ্ন ও চেষ্টাটা তারা যদি উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে প্রত্যেক মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। আমি আমার বড় মেয়ের মতো বাকি দুই মেয়েকেও চিকিৎসক বানাতে চাই। তবে সবকিছুর কৃতিত্ব শাহনাজের মায়ের। সঙ্গে তার শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও রয়েছে।

পুলিশের চাকুরির সুবাদে আব্দুস সালাম অনেক জেলায় ঘুরেছেন, কখনো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে। আবার কখনো একা। সন্তানদের প্রতি দায়িত্ববোধ কাজ করলেও তাদের জন্য আলাদা সময় হয়নি তার।

তিনি জানান, তিন সন্তানকে দেখভাল ও পড়ালেখায় মনোযোগী করতে তাদের মা মনোয়ারা বেগমের ভূমিকাই ছিল বেশি। স্বল্প শিক্ষিত হলেও মনোয়ারা সন্তানদের আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সবরকম চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

বাবা-মেয়ের সালাম বিনিময়ের ভাইরাল ছবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আব্দুস সালামের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কিছু অনুভূতি মুখে প্রকাশ করার মতো নয়। আমার ভেতরে যে কী পরিমাণ আনন্দ বিরাজ করছে তা বোঝাতে পারব না। শুধু বলব আমার মেয়েদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

তিনি বলেন, আমি নিজে বেশি দূর পড়ালেখা করতে পারিনি। কিন্তু সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করতে চাই। সব মা-বাবাকে অনুরোধ করব, ছেলে-মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেবেন না। সন্তানদের ভালো কিছু দিতে চাইলে তাদের পড়ালেখার সুযোগ করে দিন।

ফেসবুকে বাবা-মেয়ের ছবি ভাইরাল প্রসঙ্গে রংপুর জেলার পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বাবা এসআই আর মেয়ে ক্যাপ্টেন, এটা একজন বাবার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। সন্তানের কাছে ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও নৈতিক আদর্শের প্রতীক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলেই কেবল এ ধরনের অসাধারণ মুহূর্তের উদ্ভব হয়। বাবা-মেয়েকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।

এদিকে এসআই আব্দুস সালামের মেয়ে শাহনাজের সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে চাকরিপ্রাপ্তির খবরে আনন্দিত বর্তমান কর্মস্থলের সহকর্মীরাও।

গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার সরকার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা সবাই আনন্দিত। সন্তানকে নিজের চেয়ে উচ্চ পদে চাকরিতে দেখতে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন, এমন অর্জন সব বাবার জন্যই গর্বের। আমাদের সকলের উচিত সন্তানের প্রতি সময়োপযোগী আচরণ করা, বন্ধু-সুলভ আচরণ বেশি প্রয়োজন।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS