Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৭ জুন ২০২১, ১৮:৫৪
আপডেট : ১৭ জুন ২০২১, ২১:৩৬

মধ্যরাতে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে চলছে চারলেন সড়কের কাজ!

রাস্তার কাজ

শুরু থেকেই রাতের বেলা ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধা জেলা শহরে চারলেন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। প্রতিদিন রাত ১০টার দিকে কাজ শুরু হয়ে চলে ভোররাত পর্যন্ত। এ সুযোগে সওজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ জুন) পুরাতন জেলখানা মোড়ে গোলচক্কর ৩ নম্বর ইট দিয়ে নির্মাণের সময় জনগণের তোপের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলা শহরের পূর্বপাড়া থেকে পশ্চিমে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার চারলেন সড়ক (৬৬-৭২ ফুট) ও পশ্চিমে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের ১০ কিলোমিটার (২৪ ফুট প্রশস্ত) অংশ নির্মাণের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর চারলেন কাজের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি এমপি। ১০ কিলোমিটার অংশসহ চারলেন সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সড়কসহ দুই পাশে ড্রেন নির্মাণে ৬ কোটি ও শহরের ১নং রেল গেট থেকে পূর্বপাড়া পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের জন্য ১১১ কোটি টাকা। ঢাকাস্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স এই কাজের দায়িত্ব পায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইবান্ধা সওজের এক ঠিকাদার বলেন, সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলন (স্টিমেট) অনুযায়ী সড়কের কাজের সাব-বেজে ভালো মানের খোয়া ও বালুর অনুপাত শতকরা ৭০:৩০ দেয়ার নিয়ম। কিন্তু দেয়া হচ্ছে ৪০:৬০। বেজে (ডব্লিউবিএম) ভালো মানের ভাঙা পাথর ও বালুর অনুপাত শতকরা ৭৫:২৫ হওয়ার কথা। কিন্তু দেয়া হচ্ছে ৬০:৪০। এসব কাজ দুইবার করে করার কথা থাকলেও কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। এছাড়া ড্রেন নির্মাণে ১২ মিলিমিটার ব্যাসের রডের পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০ মিলিমিটার ব্যাসের রড ব্যবহার করা হচ্ছে। ঢালাই কাজে পোর্টল্যান্ড (সিম-১) সিমেন্টের পরিবর্তে সাধারণ সিমেন্ট (সিম-২) ব্যবহার করা হচ্ছে। পাথর, বালু ও সিমেন্টের অনুপাত অবস্থা ভেদে ৪:২:১ ও ৩:১.৫:১ হওয়ার কথা। কিন্তু রাতের কাজে তদারকি না থাকায় পাথর, বালু ও সিমেন্টের অনুপাত ৭:৪:১ ও ৬:৩:১ দেয়া হচ্ছে। ইট ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের।

সরজমিনে গত দুদিন ঘুরে রাতের কাজের দৃশ্য দেখা গেছে। কাজের স্থানে পর্যাপ্ত আলো নেই। সড়ক বাতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেনারেটরের মৃদু আলোয় কাজ চলছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্কেভেটর দিয়ে ড্রেনের মাটি খোঁড়া হয়, চলে পরের দিন ভোর পর্যন্ত। রাতেই ড্রেন পাকাকরণের জন্য রড বিছানো হয়। কোথাও মাটির উপরে সিসি ঢালাই দেয়া হয়। কোথাও বা পুরাতন নিম্নমানের ইটের সোলিংয়ের ওপর সিসি ঢালাই দিয়ে ড্রেন পাকাকরণের জন্য ঢালাই কাজ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের কাচারি বাজার এলাকার এক নৈশ-প্রহরী (৪০) বলেন, এসব কাজের সময় কোথাও সওজ বিভাগের তদারকি কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। শহরের হকার্স মার্কেট এলাকার এক নৈশ প্রহরী (৩৪) বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা বিশেষ পোশাকে তড়িঘড়ি করে কাজ করছেন। প্রতি রাতে কাজ করা হচ্ছে। শ্রমিকরা দিনে ঘুমায় রাতে কাজ করে।

বুধবার দুপুরে গাইবান্ধা শহরের পুরাতন জেলখানা এলাকায় নিম্নমানের ইট দিয়ে নকশার চেয়ে ছোট করে গোলচক্করের কাজ করার সময় স্থানীয় জনতা বাধা দেয়। খবর পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আখতার ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আফজালুল হক ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছালে জনগণ তাদের ৩ নম্বর ইটগুলো হাত দিয়ে ভেঙে দেখান। তারা বাধ্য হয়ে গোলচক্কর নির্মাণ কাজ বন্ধ করেন। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী নিম্নমানের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিলে জনগণ শান্ত হয়। পরে ঠিকাদারের লোকজন ৩ নম্বর ইটগুলো সরিয়ে ফেলে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স’র মালিক মহিউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আমিনুল গাফলতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। রাতে কাজ করা প্রসঙ্গে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বলেন, দিনে কাজ করলে যানজট সৃষ্টি ও মানুষের ভোগান্তি হয়। তাই রাতে কাজ করা হচ্ছে।

একই বিষয়ে গাইবান্ধা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আখতার বলেন, ড্রেন ও সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া গোলচক্করে নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাজের সময় সড়ক বিভাগের দুইজন কর্মকর্তা নিয়মিত কাজের তদারকি করছেন। তাদের কোনো গাফলতি আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS