Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

রংপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৩৯
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৪৮

২১ দিন ধরে ডায়ালাইসিস বন্ধ থাকায় ১৮ রোগীর মৃত্যু

২১ দিন ধরে ডায়ালাইসিস বন্ধ থাকায় ১৮ রোগীর মৃত্যু
২১ দিন ধরে ডায়ালাইসিস বন্ধ থাকায় ১৮ রোগীর মৃত্যু

উত্তরাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস বিভাগটি ২১ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে কিডনি জটিলতার কারণে ডায়ালাইসিস করতে পারছে না অনেক রোগী। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ দিনে ডায়ালাইসিস না করতে পারায় ১৮ জন রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।

ডায়ালাইসিস বিভাগের দায়িত্বরত নার্স আয়া আর টেকনিশিয়ানরা বলছেন, ডায়ালাইসিসের পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট এবং বেশ কয়েকটি ডায়ালাইসিস মেশিন বিকল হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ছয় লাখ টাকা খরচ করলে দুটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বসানো সম্ভব। কিন্তু সেটাই কেনা হচ্ছে না। অথচ ডায়ালাইসিস বিভাগ থেকে প্রতি মাসে আয় হয় তিন লাখ টাকারও বেশি।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি (কিডনি) বিভাগের ডায়ালাইসিস বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সবগুলো বেড রোগীশূন্য। চার-পাঁচ জন দায়িত্বরত নার্স, আয়া ও টেকনিশিয়ান অলস সময় পার করছেন। অন্য সময় ৪০ থেকে ৫০ জন কিডনি রোগী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতি থাকতো। এখন সেখানে সুনসান নীরবতা।

কর্তব্যরত ডায়ালাইসিস ইউনিটের টেকনিশিয়ান মাসুদ জানান, চলতি মাসের ৮ এপ্রিল থেকে ডায়ালাইসিস ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ডায়ালাইসিসের প্রধান উপাদান পিউরিফাইড পানি, যা মেশিনের সাহায্যে পরিশোধন করা হয়। সেই মেশিন দুটি পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে। এর আগেও কয়েকবার মেশিন দুটি বিকল হয়েছিল, পরে কোনো রকম মেরামত করা হয়। এবার ঢাকা থেকে আসা টেকনিশিয়ানরা জানিয়েছেন এই মেশিন আর সচল করা সম্ভব নয়। নতুন মেশিন স্থাপন করতে হবে।

তিনি আরও জানান, একজন কিডনি রোগীকে চার ঘণ্টাব্যাপী ডায়ালাইসিস করতে হয়। এজন্য একেক রোগীর জন্য ১৮০ লিটার পিউরিফাইড পানির প্রয়োজন হয়। এটা ছাড়া ডায়ালাইসিস করা যাবে না। সেই মেশিন যদি নষ্ট থাকে তাহলে কোনো ভাবেই ডায়ালাইসিস করা যাবে না।

ডায়ালাইসিস ইউনিট ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান জানান, ডায়ালাইসিস মেশিন আগে ছিল ৩০টি, এখন ১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বাকিগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। তার পরও রোগীদের সেবা দেয়া চলছিল কিন্তু দুটো মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডায়ালাইসিস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম থেকে আসা কিডনি রোগে আক্রান্ত ১৬ বছরের কিশোর সালাম জানালো, হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি তিন-চারটি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করা যায়। প্রথমে দিতে হয় ১৫ হাজার টাকা, এরপর প্রতিবারের জন্য দিতে হয় তিন হাজার টাকা। সালামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। প্রতিবার তিন হাজার টাকা দিয়ে ডায়ালাইসিস করা কোনোভাবে সম্ভব নয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে লাগে মাত্র ৪শ’ টাকা। ২১ দিন যাবত মেশিন নষ্ট অথচ কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেয়াজুল করিমের চেম্বারে গেলে এক কর্মচারী জানান, তিনি মিটিং করছেন। পরে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এসআর/

RTV Drama
RTVPLUS