Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

পঞ্চগড় প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৭:০৬
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৭:২১

নিম্নবিত্ত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ নেসকো’র বিরুদ্ধে

নিম্নবিত্ত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ নেসকো’র বিরুদ্ধে
নিম্নবিত্ত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ নেসকো’র বিরুদ্ধে

পঞ্চগড়ে নর্দার্ন ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)-এর বিল আদায়ে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে বছরের পর বছর মোটা অঙ্কের বকেয়া বিল আদায়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে নেসকো। অপরদিকে আবাসিক এলাকায় মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকদের একমাস বকেয়া থাকলেই সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি দিয়ে নানা রকম হয়রানি করছে বলে অভিযোগ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ তারা প্রভাবশালীদের কাছে নরম আর সাধারণ মানুষের উপর গরম। এ যেন এক দেশে দুই নীতি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর কোটি টাকা বকেয়া থাকলেও তা উত্তোলন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। প্রভাবশালী, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মোটা অঙ্ক বকেয়া রয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের এক দু’মাস বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় তুলার ডাঙ্গার বিদ্যুৎ গ্রাহক শাহানশাহ বলেন, বিল পরিশোধ করেছি তারপরও মিটারের রিডিং এর সাথে মিলে না যাওয়ায় বারবার অতিরিক্ত বিল ধরা হচ্ছে। তার আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে এভাবেই অতিরিক্ত বিল ধরা হয়েছে। প্রতি মাসে যে ইউনিট ব্যবহৃত হয় তার কম ইউনিটের বিল দেয়া হয়। পরবর্তীসময়ে বছরের যে কোনো একটি মাসে হঠাৎ করে বড় অঙ্কের বিল দেয়া হয়। সেই সময় মোটা অঙ্কের বিলটি পরিশোধ করতে না পারার জের ধরেই বিদ্যুৎ সংযোগের হুমকি দেয় নেসকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পঞ্চগড় সদরের নেসকোর গ্রাহক তানজিরুল ইসলাম বলেন, নেসকো খামখেয়ালিপনা শুরু করেছে। আমার মিটারের রিডিংয়ের চেয়ে অতিরিক্ত বিল দিয়েছে। আবার কেউ এক দুই মাস বিল বাকি রাখলে তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।

সম্প্রতি বিদ্যুতের বকেয়া বিল উত্তোলনে তোড়জোড় শুরু করে নেসকো পঞ্চগড়ের কর্মকর্তারা। এক মাস বিল বাকি থাকলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি শুরু করেছে তারা। কিন্তু বিরাট অঙ্কের বিল বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও তা উত্তোলনে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

নেসকো সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলায় নেসকোর গ্রাহকদের কাছে বকেয়া প্রায় ১০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে পঞ্চগড় পৌরসভার, নেসকোর হিসেবে তা প্রায় ৫ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন না বলেও তাদের অভিযোগ। এরপরই রয়েছে মসজিদ-মাদরাসা। জেলা শহরের বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মাদরাসার বিদ্যুৎ বিল সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে ২০ লাখ পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ২০ লাখ টাকা, আব্দুল কাদের জিলানী জামে মসজিদে ১৬ লাখ টাকা, দারুল উলুম মসজিদ ১৪ লাখ টাকা, দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম মাদরাসায় ১০ লাখ টাকা, বাইতুল মামুর জামে মসজিদে ১২ লাখ টাকা, গোরস্থান জামে মসজিদে ১৩ লাখ টাকা, খান বাহাদুর জামে মসজিদে ১৪ লাখ টাকা, স্টেডিয়াম রোড জামে মসজিদ ১২ লাখ টাকা, নতুনবস্তি হাজী ইসমাইল জামে মসজিদ ১৬ লাখ টাকা, বানিয়াপাড়া জামে মসজিদে ১৬ লাখ টাকা, বকুলতলা জামে মসজিদে ১০ লাখ টাকা, পশ্চিম জালাসী জামে মসজিদে ১৬ লাখ টাকা, পূর্ব জালাসী জামে মসজিদে ১৬ লাখ টাকা, কালেক্টরেট জামে মসজিদে ৭ লাখ টাকা, রামেরডাঙ্গা জামে মসজিদে ৯ লাখ টাকা, নতুনবস্তি জামে মসজিদে ৮ লাখ টাকা, নুরানি তালিমুল কোরআন মাদরাসায় ২ লাখ টাকাসহ শতাধিক মসজিদ মাদরাসার প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। গত দুই মাসে এই অঙ্ক আরও বেড়েছে। আবার কিছু মসজিদ এখনো চলছে মিটার ছাড়াই। তার মধ্যে পঞ্চগড় বাসস্ট্যান্ড মসজিদ একটি।

বড় বকেয়ার তালিকায় রয়েছে সরকারি বাসভবন ও প্রতিষ্ঠানের নামও। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আবাসিকে বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা, গণপূর্তের আবাসিকে ৪ লাখ টাকা, জেলা শহরে উপজেলা ট্যাক্স অফিসে বকেয়া রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, জেলা জুডিশিয়াল জাজ হাউজে ৮৬ হাজার টাকা, জেলা ক্রীড়া সংস্থায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, অফিসার্স ট্রেনিং কমপ্লেক্স ডিসি কলোনিতে ৪ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এশিয়া ডিস্টিলারিজে ৪ লাখ টাকা ও গ্রিন এনার্জি টি ফ্যাক্টরিতে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও তা উত্তোলন করতে পারেনি নেসকো। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, নেসকোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে এভাবেই দিব্যি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চলছেন বকেয়াধারীরা।

পঞ্চগড় পৌরসভার সচিব মজিবর রহমান বলেন, নেসকো যতটা বকেয়ার কথা বলছে তা ঠিক নয়। আমরা অন্য পৌরসভাগুলোতেও খবর নিয়েছি। তাদের তুলনায় আমাদের বিদ্যুৎ বিল বেশি করা হচ্ছে। মিটারেও সমস্যা রয়েছে। আমরা বিষয়টি নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে বসার কথা রয়েছে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা বকেয়া বিল পরিশোধ করতে পারছি না।

নেসকো পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমান নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি যোগদানের আগেই এসব বকেয়া পড়ে গেছে। মিটার ছাড়াই চলতো এমন ৫৩টি মসজিদে মিটার লাগানোর ব্যবস্থা করেছি। অনেক বাঁধা এসেছে। পৌরসভার বিল নিয়ে একটু জটিলতা তৈরি হয়েছে। তারা মিটার ছাড়াই অনেকদিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। সেটি আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। এছাড়া যাদের বড় বকেয়া রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকদের হয়রানির কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।

এসআর/

RTV Drama
RTVPLUS