Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

দুঃখ-দুর্দশার মধ্যেও গানই তার জীবন, কণ্ঠে জাদুর ছোঁয়া (ভিডিও)

রনজিত কুমার সাহা

শত অভাব-অনটন আর দুঃখ-দুর্দশার মধ্যেও গানই তার জীবন। তবে গানকে কখনো পেশা হিসেবে বেঁচে নেননি তিনি। সাংসারিক কাজ করতে করতে মনের খেয়ালে আপন মনে গান গেয়ে চলেন। কখনো পাড়া-প্রতিবেশী কিংবা পরিচিত-জনদের আবদারে গান গেয়ে থাকেন। বলা হচ্ছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার নিভৃত পল্লীর নাম না জানা শিল্পী রনজিত কুমার সাহার কথা।

গানের প্রবল আগ্রহ থাকলেও দরিদ্র বাবা-মার সংসারে ওস্তাদ কিংবা গুরুর কাছে কখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেয়া হয়নি তার। রেডিওতে গান শুনে মুখস্থ করতেন। এরপর বেশ কিছু দিন একটি যাত্রা দলের সঙ্গে অভিনয় ও গান করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন গানের জন্য।

মান্দার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের তুলসীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা রনজিত সাহা স্কুলের বাৎসরিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রতিবছরই গান করে প্রথম পুরস্কার পেতেন। সহপাঠী ও স্কুলের শিক্ষকরা তার গানের প্রশংসা করতেন। এতে গানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেশি জন্মায়।

এসএসসি পাস করার পর সংসারের অভাবের কারণে পড়াশোনার ইতি টানতে হয় রনজিত সাহাকে। এছাড়া কীর্তনের দলের সঙ্গে বেশ কিছু দিন গান করেছেন তিনি।

স্ত্রী মারা গেছেন প্রায় দশ বছর আগে। এরপর থেকে প্রতিবন্ধী এক মেয়ে ও বিএসসি অনার্স পড়ুয়া এক ছেলেকে নিয়ে চলছে তার জীবন যুদ্ধ। টিনের এক চালার একটি ঘর ছাড়া সহায়-সম্পত্তি বলতে কিছু নেই তার। শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও গান তার মুখে লেগেই আছে। গানই তার জীবন।

রনজিত সাহা আরটিভি নিউজকে বলেন, স্কুল জীবনে পড়াশোনার চেয়ে গান মুখস্থ করার প্রতিই আমার বেশি আগ্রহ ছিল। তখন সবাই আমার গানের কণ্ঠের প্রশংসা করতো। তাদের প্রশংসা আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করতো। ইচ্ছে ছিল বড় শিল্পী হব। কিন্তু দরিদ্র বাবা-মার সংসারে অভাবের কারণে এসএসসির পর পড়ালেখাটা ছেড়ে দিতে হয়। এরপরই মূলত আমার ইচ্ছের মৃত্যু হয়। তবে সংসার জীবনের শত অভাব-অনটনের মধ্যেও আত্মার খোরাক গানকে কখনো ছেড়ে দেইনি। গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে না পারলেও গান আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে।

প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে নিজের জীবন যুদ্ধ ও সংসার জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে বড় বিপদে আছি। তার জন্য বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে পারি না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে প্রায় সারা দিন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ের পায়খানা-প্রস্রাব করানো, গোসল করানো ও খাওয়ানোর ব্যবস্থা আমাকেই করতেই হয়। এর মধ্যেই যেটুকু সময় পাই কখনো কাঠের ব্যবসা আবার আমের মৌসুমে বিভিন্ন বাগানের আম কিনে শহরে গিয়ে বিক্রি করে কোনো রকম বেঁচে থাকা আমার। তবে করোনায় জীবন যেন থমকে গেছে। ব্যবসার কাজ বন্ধ থাকায় আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে। আত্মার খোরাক গান মুখে থাকলেও পেটের খাবার জোটাতে পারছি না।

গ্রামে কিংবা আশপাশের গ্রামে সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য ডাক পড়ে রনজিত সাহার, এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তারা বলেন, রনজিতের গানের গলায় মুগ্ধ মানুষরা তার দেখা পেলেই আবদার করে বসেন গান শোনানোর জন্য। রনজিত সাহাও কাউকে কখনো নিরাশ করেন না। গান গেয়ে খুশি করেন মানুষকে। তবে গান গেয়ে নিজের আত্মার তৃপ্তি মেটালেও এই মানুষটির জীবন ঘেরা দুঃখ-গাঁথায়।

রনজিত সাহার ছেলে চঞ্চল কুমার সাহা নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে আর্কিটেকচার এ্যান্ড ইন্টেরিয়র বিভাগে ডিপ্লোমা পাস করার পর নাটোরের একটি কলেজে বিএসসি অনার্স কোর্সে পড়াশোনা করছেন। করোনাভাইরাসের কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় নওগাঁয় তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে টিউশনি করে নিজের হাতখরচের পাশাপাশি বাবা ও বোনকে আর্থিক সহায়তা করছেন।

এসআর/এম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS