Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ৩১ জুলাই ২০২১, ১১:৩১
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ১১:৩৪

কে এগিয়ে আসবে, কবে হাসি ফুটবে রানীর মুখে?

হাসি রানী

হাসি রানী, বয়স ২৩ বছর। যে বয়সে স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার গড়ে মন রাঙানোর কথা সেই বয়সে তিনি হয়েছেন প্রতিবন্ধী। পা কয়েক টুকরো হয়ে যাওয়ায় হাঁটাচলা করতে পারেন না। সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে বাবা-মার গলগ্রহ হয়ে থাকেন। অথচ চিকিৎসা করালে হাসি রানীর মুখে হাসি ফুটবে।

বাবা গোপেন বিশ্বাস গ্রামে গ্রামে ফেরি করে চুন বিক্রি করেন। এখন লকডাউন। আয়-রোজগারের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। হাসি রানীর একমাত্র খেয়ে পরে বেঁচে থাকার উপায় ছিল সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা। তাও একাউন্ট হ্যাক করে মোবাইল থেকে প্রথম কিস্তির সাড়ে চার হাজার টাকা তুলে নিয়েছে প্রতারকরা। এই টাকা ফেরত পেতে উপায় খুঁজছেন পরিবারটি।

হাসি রানীর বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামে। তার মা গায়ত্রী রানী বিশ্বাস আরটিভি নিউজকে জানান, ফুলহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মাত্র ১২ বছর বয়সে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খিঁচুনির পাশাপাশি জ্বর আসে তার ছোট মেয়ে হাসি’র। সেই থেকে এই রোগ স্থায়ীভাবে তার শরীরে ভর করে।

রানীর মা বলেন, ঋণ করে বহু ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েছি। কিন্তু কোনো সঠিক চিকিৎসা মেলেনি। দুই বছর আগে ঘুমের ঘোরে খাট থেকে পড়ে রানীর একটি পা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়। রোগের পাশাপাশি চরম দুঃখ নেমে আসে হাসির জীবনে। এখন অন্যের সহায়তা ছাড়া কোনো রকম চলতে পারে না হাসি। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। এই যুবতী বয়সে এখন সর্বক্ষণ তার বিছানায় শুয়ে বসে দিন কাটে।

মা গায়ত্রি রানী আরও বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিন লাখ টাকা প্রয়োজন বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন। এই টাকা হলে হাসির মুখে ফুটবে আনন্দের হাসি।

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের সদস্য অনিতা বিশ্বাস আরটিভি নিউজকে জানান, পঙ্গু হাসি রানী আমার প্রতিবেশী। তাকে আমি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম কিস্তির প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা মোবাইল হ্যাক করে তুলে নিয়েছে। এ বিষয়ে শৈলকূপা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে অভিযোগ করেছি। তারা বলেছেন থানায় জিডি করতে। পরের বারের ২ হাজার ১৫০ টাকা তুলে পরিবারটির হাতে দিয়েছি।

রানীর প্রতিবেশী শুম্ভু নাথ কুন্ডু আরটিভি নিউজকে জানান, গ্রামবাসী সব সময় সহায়তা করে আসছে। হাসির ওষুধ কেনার টাকা দেয়া হয় সাধ্যমতো। কিন্তু অপারেশন করার মতো অর্থ পরিবারটির জোগাড় করা সম্ভব নয়। হাসিকে সুস্থ করতে হলে সমাজের দানশীল ও বিত্তবানদের পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো উচিত।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS