logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

বছরজুড়ে বন্দিদশায় শহীদ মিনার

Shaheed, Minar, captivity, throughout, year
বছরজুড়ে বন্দিদশায় শহীদ মিনার

একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে কণ্ঠে কণ্ঠে সেই গান- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কি ভুলিতে পারি…। এই দিনে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জাতিসত্তা, স্বকীয়তা আর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলনের অবিস্মরণীয়। শহীদ মিনারে লাখো মানুষ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। দিনটি উপলক্ষে শহীদ মিনার আগেভাগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। এছাড়া বছরজুড়ে দেশের অধিকাংশ শহীদ মিনার অপরিচ্ছন্ন। তাই তো মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শহীদ মিনারটি সারাবছরই সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। ফটকে ঝোলানো থাকে লোহার তালা। বছরে একদিন একুশে ফেব্রুয়ারিতে খোলা হয় তালা।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। রক্তের দামে এসেছিল বাংলার স্বীকৃতি আর তার সিঁড়ি বেয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ভাষা শহীদদের জন্য নির্মিত শহীদ মিনারের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসা বাড়াতে শহীদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও যখন খুশি তখন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। শহীদ মিনারে সারা বছর তালা ঝুলিয়ে রাখলে অনেকের ইচ্ছে থাকাশর্তেও শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন না বলে মনে করেন মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা।

একুশ আমাদের অহংকার আর ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত শহীদ মিনার আমাদের গর্বের প্রতীক। পরবর্তীতে তা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়ে এখন ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। অথচ মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শহীদ মিনারটি সারাবছরই সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকে। ফটকে ঝোলানো থাকে লোহার তালা। বছরে একদিন একুশে ফেব্রুয়ারিতে খোলা হয় তালা।

শিক্ষার্থীরা জানান, একুশে ফেব্রুয়ারি ছাড়া শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার সুযোগ অন্যসময় থাকে না। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এমনি বন্দিদশায় রাখা হয়েছে মাগুরার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই শহীদ মিনারটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। বাকি সময় অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকে।

মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, খোলা থাকলে ছেলেপেলে শহীদ মিনারে আড্ডা মারে। শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করে। তাই কেউ যেন শহীদ মিনারে ঢুকতে না পারে, সেজন্য আমরা তালাবদ্ধ করে রাখি।

ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি রেজাউল হক বলেন, শহীদ মিনারকে তালাবন্দি করে রাখা ঠিক নয়। শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের ধারক ও বাহক। তবে শহীদ মিনারের ভাবমূর্তি রক্ষায় নতুন প্রজন্মের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS