logo
  • ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

ছুটির দিনেও রাজধানীতে যানজট, ভোগান্তি

মিথুন চৌধুরী
|  ১১ মে ২০১৯, ১৯:৪৭
যানজটে স্থবির রাজধানী, ছবি: আরটিভি অনলাইন
আজ শনিবার (১১ মে) সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তার উপর পবিত্র মাহে রমজানের পঞ্চম দিন। কিন্তু রাজধানীর সড়কগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই আজ ছুটির দিন। শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীতে বাড়তে থাকে যানজট। একপর্যায়ে যানজটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। দীর্ঘ সময়ের এ যানজটে পড়ে অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। ফলে একঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে কারো দুই থেকে তিন ঘণ্টাও লেগেছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম তার ওপর তীব্র ট্র্যাফিক জ্যামে রোজাদারদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর ধানমন্ডি, পল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুরের আগারগাঁও, প্রগতি সরণি, বনানী, মিরপুর, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, পুরান ঢাকার নবাবপুর, এয়ারপোর্ট ও উত্তরায় তীব্র যানজটের খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানীর ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রমজানের ৫ম দিনের এ যানজট মহাসড়ক থেকে অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত গেলো কয়েকদিন ধরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মহাসড়কের অনেক পথ বন্ধ করে দেয়ায় এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের কারণে রাজধানীর অনেক প্রধান সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় যানবাহনের বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত সুজন মাহমুদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ৫ম রমজানে এমন তীব্র ট্র্যাফিক জ্যাম ভাবতে অবাক লাগে। একদিকে গাড়ি স্বল্পতা তার ওপর গাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টকর।

ধানমন্ডির ব্যবসায়ী সাইদুল আলম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে মহাখালী-ফার্মগেট হয়ে ধানমন্ডির রাপা প্লাজার সামনে আসতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। দীর্ঘ যানজটে পড়ে ক্ষুব্ধ অনেক যাত্রীই বাস থেকে নেমে হেঁটে বাসায় গেছেন।

এদিকে নগরজুড়ে যানজটের কারণে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলা মানুষের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহান রহমান আরটিভি অনলাইনকে জানান, বনানী থেকে বাংলামটর এসেছেন অন্তত দুই ঘণ্টায়। এরপর হাঁটতে শুরু করেন।

ব্যস্ত সড়কের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতেও রিকশাযাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা গেছে। এসময় যানজটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।

আয়াত বাসের চালক কামরুল হাসান আরটিভি অনলাইনকে জানান, কমলাপুর থেকে তিনি গাড়ি ছেড়েছেন বিকেল ৩টায়। দুপুর পৌনে ৫টা পর্যন্ত বাসটি দাঁড়িয়েই থাকে কারওয়ান বাজার মোড়ে। যাত্রীভর্তি হলেও জ্যাম থাকার কারণে দু-একজন যাত্রী ছাড়া সবাই নেমে পড়েন।

সন্ধ্যা ৬টায় কারওয়ান বাজারের ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত এক ট্র্যাফিক সার্জেন্ট আরটিভি অনলাইনকে বলেন, চারদিকের রাস্তাই বন্ধ হয়ে আছে। কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। সকাল থেকেই চলছে এ অবস্থা। এতে নিজেরাও অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

ডিএমপির ট্র্যাফিক বিভাগ জানায়, ফুটপাতে ইফতারের দোকান বসতে না দেয়া, ফুটপাত হতে হকার উচ্ছেদ, অবৈধ পার্কিং রোধ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, মলম পার্টির উপদ্রব রোধে এবার কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে রমজানজুড়ে। ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ট্র্যাফিক পুলিশের সহায়তায় থাকছে কমিউনিটি পুলিশ। মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে মার্কেট ও বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট সহনীয় পর্যায় রাখতে ট্র্যাফিকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মহাখালী বাস টার্মিনাল ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় যানজট নিরসনে ঈদের আগে এবং ঈদ পরবর্তী আরো এক সপ্তাহ ধরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে ট্র্যাফিক পুলিশ।

ট্র্যাফিক বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বেকন লাইট, উল্টোপথে চলাচল ও কালোগ্লাস ব্যবহার করার কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু যানবাহনকে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়