logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

তিন বছরে ঢাকায় মোটরসাইকেল বেড়েছে ছয় গুণ

রাফিয়া চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন
|  ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৪৯ | আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২০:০৮
ফাইল ছবি
যানজটের নগরী রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে কিছুটা স্বস্তি পেতে মানুষ এখন বাস, অটোরিকশা ছেড়ে মোটরসাইকেলের প্রতি ঝুকছে। আর সেজন্যই শহরে বাইকের পরিমাণ হাঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।

যাতায়াতে সহজলভ্যতা, অল্প সময়ে দ্রুত যাতায়াত ও যানজটের বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতেই মূলত বাইক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে বিআরটিএ’র হিসেব মতে ঢাকা শহরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৬টি । গত বছর এই সংখ্যা  ছিল ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩২টি।  অর্থ্যাৎ এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে এক লাখের বেশি মোটসাইকেল।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক এবিষয়ে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে মোটরসাইকেলের ব্যবহার দেরিতে শুরু হলেও খুব দ্রুতই এই সার্ভিসটি ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই তিন বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। বাণিজ্যিক সার্ভিস অপরিকল্পিত হওয়ায় তা ঢাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 তিনি আরও বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ,ভিয়েতনাম এবং মালোয়শিয়ায় আমাদের আগেই মোটরসাইকেলের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে। আমাদের তুলনায় তাদের বাইকের সংখ্যা দ্বিগুণ। অপরিকল্পিত মোটরসাইকেল ব্যবহারের বিষয়টি তারা বুঝে এখন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও পারছে না। আমাদের এখনই সাবধান না হলে তা একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

২০১৬ সালে উবারের আগে দুটি প্রতিষ্ঠান এদেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করে। পরে উবার এদেশে যাত্রা শুরু করে একই বছর। এখন দেশীয় উদ্যাগে  এই সেবা খাতে নাম লিখিয়েছে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

শুধু বাইক নয় অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে সিএনজি অটোরিকসা, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র জয়েন্ট সেক্রেটারি নূর মোহাম্মদ মজুমদার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রতিদিনই মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রেশনের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে এখন মোট যানবাহনের সংখ্যা ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫৬৭ টি। এরমধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা অর্ধেক। মাঝে মাঝে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন এতো বেড়ে যাচ্ছে যে আমরা রেজিস্ট্রেশন দিতে হিমশিম খাই। ঢাকা শহরে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যেটা যানজটের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।

বিআরটিত্র’র তথ্য মতে, ২০১৫ সালে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭৬৪ টি। ২০১৬ সালে আরও ৫৩ হাজার ৭৮৩ টি মোটারবাইক নতুন করে যোগ হয়। যা তার আগের বছরের তুলনায় ৭ হাজার বেশি।  ২০১৭ সালে ৭৫ হাজার ২৫১ টি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন হয়। তা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ২০১৮ সালে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৬৪টি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন হয়। ২০১৭ সালের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৯সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭৫৫ টি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন হয়েছে।

রাইডশেয়ারিং অ্যাপ ওভাই (OBHAI) এর অফিস সুত্রে জানা যায়, তাদের ওভাইয়ে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে মোটরসাইকেল রয়েছে ৩০ হাজার। প্রতিদিনই প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টি মোটরাসাইকেল ওভাই’র রাইডশেয়ারিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

আফজাল হোসেন একজন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের রাইডশেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে অফিসে যাতায়াত করেন। অফিসে যাওয়া ও আসার সময় বাসে উঠা কষ্টকর। সিএনজি ভাড়া চায় দ্বিগুণ। তাই বাধ্য হয়েই মোটরসাইকেলে দ্রুত যাতায়াত করেন।

পাঠাও (PHATAO) এর রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা ওসমান সালেক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পাঠাওয়ে মোটরসাইকেল রাইডারের এর সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি। প্রতিদিন পাঠাওয়ের রাইডারের সংখ্যা বাড়ছে। মানুষও বেশ সন্তুষ্ট  অ্যাপ ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, কিছু অভিযোগ আসে, তবে অভিযোগের থেকে মানুষের সন্তুষ্টির কথাই বেশি শুনি।

আরসি/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়