কঙ্কাল চুরি করে জীবন চালাতেন মুছা!

প্রকাশ | ৩১ মার্চ ২০১৯, ২০:০১

গাজীপুর প্রতিনিধি

কোথাও শরিফুল ইসলাম আবার কোথাও মুছা। ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে এলাকায় বসবাস শুরু করতেন তিনি। একস্থানে বেশি দিন থাকতেন না। মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতেন চাকরিজীবী হিসেবে। নির্জন পল্লী এলাকা টার্গেট করে নিতেন চাকরি। অল্প শিক্ষিত এই যুবক সর্বশেষ গত মাসে আসেন গাজীপুরের শ্রীপুরে।

উপজেলার নিজমাওনা নিউ গোল্ডেন এগ্রো ফার্ম ফিড মিল নামে একটি কারখানায় নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে যোগদেন। রাতের আঁধারে শুরু করে কঙ্কাল চুরি। একে একে  বেশকিছু কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে বিক্রি করতে থাকেন। গ্রামে শুরু হয় চাঞ্চল্য। হঠাৎ প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটায় কবর রক্ষায় গ্রামবাসী সোচ্ছার হতে থাকেন। গোপনে গ্রামের লোকজন রাতে পাহাড়ার ব্যবস্থা করেন। অবশেষে রোববার ভোর রাতে নিজমাওনা এলাকা থেকে কবর খুঁড়া অবস্থায় মুছা মিয়া নামের ওই যুবককে আটক হয়।

স্থানীয়দের গণপিটুনীর মুখে মুছা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যমতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার কর্মস্থলের কক্ষ থেকে বস্তাভর্তী কয়েকটি কঙ্কাল উদ্ধার করে।

মুছা মিয়ার বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক(এসআই) নাজমূল সাকিব। তথ্য মতে মুছা মিয়া(৩৫) জামালপুর সদর উপজেলার পিয়ারপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। তিনি নিজমাওনা গ্রামের নিউ গোল্ডেন এগ্রো ফার্ম ফিড মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে এক মাস ধরে চাকরি করছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজমাওনা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে আল আমীন(১৯) গত ২০১৮ সালের জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তাকে বাড়ির পাশে কবর দেয়া হয়। গত শুক্রবার আল আমীনের কবর খুঁড়া দেখতে পান স্থানীয়রা। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় কবরে কঙ্কাল নেই। এছাড়াও আবেদ আলী,মাসুদসহ বেশ কয়েকজনের কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি করেন তিনি।

থানার একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে একটি মামলায় জেল খাটছিলেন নিউ গোল্ডেন এগ্রো ফার্ম ফিড মিলের মালিক রফিকুল ইসলাম। একই সময় জেলে ছিলেন মুছা। তাদের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় রফিকুল জেল থেকে বের হয়ে মুছাকেও জামিনে বের করেন। পরে তার কারখানায় এনে চাকরি দেন।

এ বিষয়ে ওই কারখানার মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলে থাকার সময় তাকে ভালো মানুষ মনে হয়েছিল। বের হওয়ার পর তাকে আমার কারখানায় চাকরি দেই। বর্তমানে কারখানা বন্ধ আছে। কিন্তু তাকে সেখানে নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে রাখা হয়।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিব নাজমূল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মুছা মিয়াকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মুছা কঙ্কাল চুরির সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। প্রতিটি কঙ্কাল হাজার টাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।

এমসি/জেএইচ