• ঢাকা শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫

যে ইউলুপটির কারণে জ্যাম কিছুটা কমলো (ভিডিও)

রাফিয়া চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন
|  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৪ | আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:১৯
কদিন আগেও যে স্থানটি পাড়ি দিতে সময় লাগতো ঘণ্টাখানেক। সেখানে এই পথটুকু যাওয়া যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যেই। এই রাস্তায় প্রতিনিয়ত চলাচলকারী যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করে বলছেন- ঢাকা শহরের যেসব জায়গায় এরকম ইউলুপ করার সুযোগ রয়েছে সেখানে তা দ্রুত করা উচিত। তাহলে যানজট অনেকটা কমে আসবে।

রাজধানীর উত্তরায় পরীক্ষামূলকভাবে দুইটি ইউলুপ খুলে দেয়ায় বিমানবন্দর থেকে হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত যানজট অনেক কমে গেছে। এতে করে অনেকটা ভোগান্তি কমেছে জনসাধারণের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিমানবন্দর ফুটওভার থেকে একটু সামনে এগুলেই চোখে পড়বে জসিমউদ্দিন সড়কের ইউলুপটি। এই ইউলুপ ব্যবহার করে খুব সহজেই গাড়িগুলো বেরিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী হাইওয়ে গাড়িগুলোও কোনো সিগন্যাল ছাড়াই চলে যেতে পারছে। এতে করে সময় যেমন নষ্ট হচ্ছে না কমেছে দুর্ভোগও।

অন্যদিকে রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি আরেকটি ইউলুপ খুলে দেয়া হয়েছে। এই ইউলুপটি অপেক্ষাকৃত আরেকটু বড় আকারে করা হয়েছে। এখানে দুই দিক থেকেই গাড়ি ইউটার্ন করতে পারে। দেখা গেছে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী ও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন নিয়মিতই ইউটার্ন করে বেরিয়ে যাচ্ছে। ইউলুপটি খুলে দেয়ার আগে এই সিগন্যালে দীর্ঘসময় ধরে যানজট লেগে থাকত। এখন আর কোনও যানজট নেই। চাকরিজীবীরা এ পয়েন্ট দিয়ে দ্রুত অফিসে যেতে পারছেন। ছাত্রছাত্রীদেরও স্কুল-কলেজে যেতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

ইউলুপের সুফল সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তরা আজমপুর বিডিআর মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী মোতালেব মিঞা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এই ইউলুপটির কারণে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। কারওয়ান বাজার থেকে সবজি নিয়ে আসতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতো। এখনও বিজয় সরণি, মহাখালীর জ্যাম পেরিয়ে বিমানবন্দর আসতে অনেক সময় লাগে। তবে বিমানবন্দর থেকে এখন মার্কেটে আসতে কোনও সময় লাগে না। গাড়ি একটানেই চলে আসে।

এই দুটি সিগন্যালের কারণে অফিসগামী মানুষের নাভিশ্বাস উঠত। অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথেও এখানে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। কিন্তু ইউলুপগুলো খুলে দেয়ায় এখন আর সেই চিত্র নেই।

এ বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার অফিস যমুনা ফিউচার পার্কের কাছে। বাসা টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায়। ইউলুপটি হওয়ার আগে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। জসিম উদ্দিনের সিগন্যালে ১৫-২০ মিনিট ব্যয় হতো। রাজলক্ষ্মীর সামনের সিগন্যালটিতে গাড়ি থামলে আর চলার কোনও নামই ছিল না। ইউলুপ দুটির কারণে সময় অনেকটা বেঁচে গেছে।

স্বাভাবিকভাবেই রাজধানী ঢাকার যানজটের দুর্বিসহ ভোগান্তি পোহাতে হয় বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারীদের। এই ইউলুপ দুটি চালু হওয়ায় তারাও অনেক খুশি। এতে করে তাদের সময় যেমন বেঁচে যাচ্ছে পেট্রল খরচও কমেছে।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ বাসের চালকের সহকারী ফজলু মিয়া বলেন, ইউলুপ দুটি হওয়ার আগে আমাদের বিমানবন্দর থেকে হাউজবিল্ডিং যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগতো। গাড়ির চাপ বেশি থাকলে কোনো কোনো দিন দুই ঘণ্টা সময়ও লাগতো। এখন ৮ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই হাউজবিল্ডিং পর্যন্ত চলে যাওয়া যায়। ঢাকা শহরে এরকম আরও ইউলুপ হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।

প্রাইভেটকার চালক রহিম খান জানান, এই রুটে আমি দুই বছর ধরে প্রাইভেটকার চালাই। ইউলুপ দুটির কারণে যে কি উপকার হয়েছে বলে শেষ করা যাবে না।

সরেজমিন জসীমউদ্দীন এভিনিউ সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায় ইউলুপ ব্যবহার করে গাড়িগুলো ডানে বাঁক নিয়ে চলে যাচ্ছে। এতে ক্রসিংয়ে আগে যেভাবে গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে থাকত, এখন আর সে অবস্থা হচ্ছে না। ইউলুপ তৈরির কারণে ওই পয়েন্টে রাস্তার প্রশস্থতাও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। পাশের সার্ভিস রোডকে মূল সড়কের সঙ্গে একীভূত করে একদিকে চলাচল করতে দেয়া হয়েছে। তবে ইউটার্নটি চালু হলেও আশপাশের রাস্তা সমতল না করায় গাড়িগুলো দ্রুত টার্ন নিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

ঢাকা উত্তরের ট্র্যাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাদল শাহ বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমানোর জন্য আমরা দ্রুত ইউলুপটি খুলে দিয়েছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনও হয়নি। মানুষের ভোগান্তি দূরও হয়েছে। আমরা যেখানে ট্র্যাফিক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম।সেটা এখন অনেকটায় সহজ হয়ে গেছে।আশা করছি সিটি করর্পোরেশন খুব শিগগির আমাদের ট্র্যাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবে।

আরসি/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়