Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৫
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩১

কমছে পানি, বাড়ছে ভাঙন, হুমকিতে স্কুল-মসজিদ ও বসতবাড়ি

কমছে পানি, বাড়ছে ভাঙন, হুমকিতে স্কুল-মসজিদ ও বসতবাড়ি
ছবি: আরটিভি নিউজ

পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের চর সিলিমপুর এলাকায় ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

চর সিলিমপুর এলাকায় ভাঙনে স্থায়ী বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার এলাকার সিসি ব্লক নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন ওই এলাকার অর্ধ শতাধিক পরিবারসহ চর সিলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ভাঙন আতঙ্কে বিদ্যালয়ে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

স্থানীয়রা জানায়, ভোর রাতে হঠাৎ করে বড় বড় চাপের ফাটল তৈরি হয়ে মুহূর্তের মধ্যে চর সিলিমপুর স্কুলের পাশ থেকে প্রায় ৫০মিটার এলাকার সিসি ব্লক দেবে গেছে। এতে ওই এলাকার একটি স্কুল, মসজিদসহ অর্ধশত বসতবাড়ি ভাঙন হুমকিতে হয়েছে। দিন রাত ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর।

এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে স্কুলটির মূল ভবনের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ টিনশেড ভবনে চলাচ্ছে পাঠদান ও অফিস কার্যক্রম এবং মূলভবন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বাঁধের কাজ ভাল না হওয়ায় দফায় দফায় ভাঙছে। ভোরে চর সিলিমপুর স্কুলের পাশ থেকে অনেকাংশের বাঁধের ব্লক নদীতে চলে গেছে এবং বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। রাতে ভয়ে তাদের ঘুম হয়নি। সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন। ভাঙনে ঘরবাড়ী হারানোর ভয়ে আছেন তারা। এছাড়া তাদের এলাকার একমাত্র স্কুলটি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাচ্চাদের ভয়ে স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। ভাঙন রোধে যেভাবে কাজ হওয়া প্রয়োজন সেটিও হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

চর সিলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির আরটিভি নিউজকে বলেন, স্কুলে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনায় দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকার পর খুললেও এখন নদী ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন। অভিভাবকরা ভয়ে বাচ্চাদের স্কুলে আসতে দিচ্ছে না। স্কুলের মূল ভবনের পাশেই এখন ভাঙন। কখন কি হয় বলা মুসকিল। যে কারণে মূলভবন পাঠদান ও অফিস কার্যক্রম বন্ধ রেখে টিনশেডে পাঠদান ও অফিস কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এছাড়া মূলভবন থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। স্কুলটি এই এলাকার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি না থাকলে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। এলাকার ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান তিনি।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর আরটিভি নিউজকে বলেন, পদ্মার পানি কমার কারণে ভোরে হঠাৎ করে চর সিলিমপুর স্কুলের আপে ৩০ মিটার অংশের পিচিং ব্লক ধসে গেছে। খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষনিক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছেন। এবং কাজ চলমান আছে। পরবর্তীতে পুরো ভাঙন এলাকা চিহ্নিত করে বালু ভর্তি বস্তা ডাম্পিং ও ব্লক বসিয়ে মেরামত করে দেবেন বলেও জানান তিনি।

এসজে/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS