Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সুদিন ফেরার আশায় পাট চাষিরা

সংগৃহীত

দেশের ‘সোনালী আঁশ’ খ্যাত পাট তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়েছে বেশ আগেই। সময়ের বিবর্তনে পাটের কদর কমেছে অনেক। পাটের সেই সোনালী অতীত কেবলই ইতিহাস। এদেশের বড় বড় পাটকল বন্ধের খবর পৌঁছে গেছে রাজবাড়ীর কৃষকের কাছে। তবুও সুদিন ফেরার আশায় রাজবাড়ীতে গত বছরের চেয়ে বেশি পাটের আবাদ করেছে জেলার কৃষকরা।

আশা-নিরাশার দোলাচলে প্রতিবছর লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেই পাট চাষ করেন জেলায় কয়েক লাখ কৃষক। তবে কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে পাট চাষ করে বেশ বিপাকের মধ্যে রয়েছেন এ জেলার কৃষকরা। শুরু থেকে উৎপাদন খরচ বেশি ও পাটগাছ থেকে আঁশ এড়ানোর শ্রমিক সংকটের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়াতে হতাশ তারা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ৫ উপজেলায় এ বছর ৪৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলার সদর উপজেলায় ১০ হাজার ১৪০ হেক্টর, পাংশায় ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর, কালুখালীতে ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর, বালিয়াকান্দিতে ১২ হাজার ৫৫০ হেক্টর, গোয়ালন্দতে ৪ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়। গত বছর এ জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৪৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে।

মাঠগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের আবাদকৃত জমির বেশিরভাগ জমির পাট কাটা শেষ দিকে। পাট কেটে খাল-বিল ও নদীর পানিতে পাট পচাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতির প্রচলন না হওয়ার কারণে একমাত্র ভরসা পানিতে পাট পচিয়ে সেখান থেকে আঁশ বিচ্ছিন্ন করা। জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ পাট শুকিয়ে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। তবে গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে পাট শুকানো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক আলম মিয়া আরটিভি নিউজকে বলেন, আমারা লাভ-ক্ষতির হিসাব করি শুধুমাত্র দামের সময়। তবে এ বছর পাটের আবাদের সময় বৃষ্টির দেখা মেলেনি। সে কারণে বেশ কয়েকবার সেচ দিতে হয়েছে। যে কারণে প্রথমদিকে খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে পাট কাটার সময় শ্রমিক সংকট রয়েছে। বেশি দামে শ্রমিক নেয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। সেই তুলনায় বাঁজার মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এসএম শহীদ নূর আকবর আরটিভি নিউজকে বলেন, রাজবাড়ীতে ব্যাপক পাটের আবাদ হয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজবাড়ীতে ১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। করোনাকালে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। গতবারের তুলনায় পাটের বাজার কম নয়। তবে এ বছর উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। কিছুদিন পর পাটের দাম আরও বৃদ্ধি পেলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS